পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সুরক্ষায় অবহেলা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১৮ মে ২০২০, সোমবার
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সুরক্ষায় অবহেলা!

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে পরিচ্ছন্নতা ও বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সহ অন্যান্য অন্যান্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা। এসব পরামর্শ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানেও রয়েছে প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্তারা। তবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সকলে মার্কেট, শপিং মল কিংবা সড়কে যানচলাচলে যে তৎপর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের প্রতি তাঁরা যেন ঠিক ততটাই উদাসীন। খোলাহাতে মাস্ক কিংবা কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেনে নেমে নোয়রা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করলেও তাঁদের সুরক্ষার কথা ভাবছে না কেউ।

গত ১ সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের ড্রেন পরিষ্কার করতে দেখা যায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। তবে ড্রেন পরিষ্কারের সময় কোনো পরিচ্ছন্ন কর্মী ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অথচ এসব পরিচ্ছন্নকর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই বষষ্ক ও নারী। যাদের করোনা ঝুঁকি সব থেকে বেশি।

জানা যায়, শহরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের। তবে তাঁরা নিজেরা এ কাজ না করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে নেয়। তবে কাজের তদারকির দায়িত্ব সিটি করপোরেশনেরই থাকে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে তৈরী মহামারির মধ্যে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করলেও এ বিষয়ে তাঁদের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

ড্রেন পরিষ্কারে যেসব পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করছেন তাঁদের সবাই একেবারে নি¤œশ্রেনির মানুষ। যাদের অধিকাংশই নিজের নামটাও লিখতে পারেন না। যে কারণে কাজ হারানোর ভয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন করে জানা যায় তাঁদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সিটি করপোরেশনের কেউ কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

পরিচয় গোপন করে এসব পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সাথে কথা হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তাঁরা জানান, ‘আমাগো কোনো কিছু দেয় নাই। প্রথমদিকে নিজের টাকা দিয়া কিইনা মাস্ক ব্যবহার করছি। কিন্তু যে কাজ করি অনেক ঘাম হয়তো তাই বেশি দিন টিকে না। যে টাকা পাই ওই টাকা দিয়া প্রতিদিন মাস্ক কিনলে তো চলে না। তাই এইভাবেই কাজ করি।’

তাঁরা আরো বলেন, ‘এতদিন কাজ ছিল না তাই অনেক কষ্টে দিন পার করছি। আপনার মতো সবাই বলে করোনা হইতে পারে এইভাবে কাজ কইরেন না। কিন্তু আমাদের ঘরে যে খাওন নাই। কাজ না করলে যে খাইতেও পারুম না। তাই কাজ করতে আইছি। আমরাও তো চাইনা এমন মরণ হোক যে মরণ হইলে আত্মীয় স্বজন কাছে আসে না। কিন্তু যদি কাজ না করি তাইলে যে না খাইয়া মরুম।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা শীতলক্ষ্যার তীতের শহর নারায়ণগঞ্জের পরিচ্ছন্নকর্মীদের মাঝে নিরাপদ সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদাণ, সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নকর্মীদের পরিবারের জন্য ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘আইক্যন’ (আমি পারি)।

১৯ মে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের সন্মুখে শহরের ৫০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীকে সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান করা হবে এবং পরিচ্ছন্নকর্মীদের পরিবারের জন্য ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।

‘আইক্যান’ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক ধীমান সাহা জুয়েল জানান, ‘আইক্যানের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন `নারায়ণগঞ্জ করোনা দুর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি`। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এর ষষ্ঠ ব্যাচের বন্ধুরা ও আরো অনেকে ব্যক্তিগতভাবে অনুদান পাঠিয়েছেন। আপনারা পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আমরা এই মহৎ কাজটি এগিয়ে নিতে পারছি। সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর