সরব মার্কেটে নীরব ঘাতক ‘করোনা’


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ২০ মে ২০২০, বুধবার
সরব মার্কেটে নীরব ঘাতক ‘করোনা’

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাসটি স্ব-চোখে দেখা যায় না। বর্তমানে এ ভাইরাসটি উপসর্গ ছাড়াও মানুষদের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোন মানুষের শরীরের ভাইরাসটি আছে আর কার মধ্যে নেই জানার জন্য অবশ্যই পরীক্ষার বিকল্প নেই। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে। ফলে নগরীর সরব মার্কেটগুলোতে নীরব ঘাতক হয়ে উঠেছে এ করোনা ভাইরাস। কারণ এসব মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

জানা গেছে, গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখার শর্ত দিয়ে সীমিত আকারে নগরীর মার্কেট, শপিংমল ও দোকান খুলে দেওয়ার অনুমতি দেয় সরকার। তারপর থেকেই একেক করে মার্কেট, শপিংমল ও দোকান খুলতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ক্রেতারাও আসতে শুরু করে। যা ধীরে ধীরে সব মার্কেটই খুলে দিয়েছে।

এদিকে শুরুতে মার্কেট খোলার বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় অ্যাকশনও নেন। মার্কেটও বন্ধ করে দেন। কিন্তু ধীরে ধীরে কঠোরতাও কমে আসে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোন মার্কেটে অভিযান করতে খবর পাওয়া যায়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত ৭৩৬১জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৭৮৩জন কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৬৪জন মারা গেছেন এবং ৪৯২জন সুস্থ হয়েছেন। যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ বৃদ্ধির সংখ্যায় মঙ্গলবারই ছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ১২৫জন।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে নগরীর বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকানগুলোতে ভীড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। একই অবস্থা নগরীর ফুটপাতে বসানো হাকারদের দোকানগুলোতেও। নূন্যতম সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। তাছাড়া মার্কেটগুলোতে জীবাণুনাশক ট্যানেল বসানো হলেও সেটাও কতটা কার্যকর এ নিয়ে রয়েছে সংশয়। তাছাড়া মার্কেটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতা অনেকেই হ্যান্ড স্যানেটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন কিছুই ব্যবহার করছেন না। যত্রতত্র হাঁচি, কাশি, থুথু ফেলছেন হরহামেশা। স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন চিহ্নও নেই।

এদিকে আরো দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে আসা পুরুষদের চেয়ে নারীর সংখ্যাই সব থেকে বেশি। যারা শিশু বাচ্চাদেরও কোন প্রকার সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা ভাইরাস নিজে ছড়াতে পারে না। এজন্য ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রামিত হয় হাঁচি, কাশি, থুথু ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে। আর এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব থেকে বেশি যেটা করতে হবে সেটা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়া।

কিন্তু মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মানুষগুলোর মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন তোয়াক্কা করছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার তেমন কোন বলায় নেই। ফলে এ নীরব ঘাতক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেড়েই চলেছে।

কেনাকাটা ফেলে ক্রেতারা এ নিয়ে কথা বলতেও নারাজ। আবার কয়েকজন পুরুষ ক্রেতা বলেন, ‘বাচ্চাদের চাহিদার কাছে কোন কিছু মানে না। সামনে ঈদ নিজেরা কিছু না নিলেও বাচ্চাদের আবদার তো ফেলে দেয়া যায় না। আর তারা নিজেদের পছন্দে কিনবেন সেজন্য মার্কেটে নিয়ে আসতে হচ্ছে। তবে যতটা পারছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানেটাইজার ব্যবহার করছেন।’

বিক্রেতারা বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মার্কেটের সামনে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। হ্যান্ড স্যানেটাইজার ও স্প্রে করা হচ্ছে। বরাবার মাইকিং করে বলা হচ্ছে যাতে মাস্ক ও গ্লাভস পরে মার্কেটে আসে। কিন্তু ক্রেতারা সেটা মানছে না। তবে বিক্রেতারা এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মেনেই বিক্রি করছেন।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন বিক্রেতা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা করেনা প্রতিরোধ বিষিয়ক কমিটির ফোকাল পারসন ও সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেটে যেভাবে জনসামাগম হচ্ছে। তাতে এখনই আক্রান্ত কিভাবে বাড়ছে তা বুঝা যাবে না। কারণ করোনা আক্রান্ত প্রকাশ পেতে ১২ থেকে ১৪দিন সময় লাগে। তার মানে ঈদের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে কিভাবে করোনা ভাইরাস কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর