আম্পানের ঝড়ের রাতে ৫১ তম দাফন সম্পন্ন খোরশেদের (ভিডিও)


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
আম্পানের ঝড়ের রাতে ৫১ তম দাফন সম্পন্ন খোরশেদের (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে, উপসর্গ নিয়ে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুর এমন ৫১ মরদেহের শেষকৃত্য করেছেন সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও তার দলের স্বেচ্ছাসেবকেরা যেখানে ছিল হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষ। এমনকি এ শেষকৃত্যের কাজ করার জন্য নিজের ওয়ার্ড ছেড়ে অন্য ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়েও ছুটতে হয়েছে তাঁদের। তবে খোরেশদ সহ স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, শুধু মাত্র সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভে করোনার ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ শুরু করে যা ইতোমধ্যে অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

২১ মে বৃহস্পতিবার রাতে ৭৮ বছর বয়সের এক বৃদ্ধর মরদেহ মাসদাইর কবরস্থানে দাফনের মধ্যে দিয়ে ৫১তম সম্পন্ন হয়।

মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের ফেসবুক পেইজ থেকে জানা যায়, ২০ মে রাত ১১টায় নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য শিল্পপতি পরিবারের মুরুব্বী (৭৮) ইন্তেকাল করেন। তিনি করোনা পজিটিভ হয়ে বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। তার পরিবারের আহবান ও ইচ্ছায় আল্লাহর রহমতে সাইক্লোন আম্পানের তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাত ২টায় মরহুমের গোসল, জানাযা ও দাফন সম্পূর্ণ করা হয়।

এর আগে গত ২০ মে ইফতারের পরে স্ট্রোকে মারা যান পশ্চিম মাসদাইরের ভাড়াটিয়া সৈয়দা সুরমা বেগম ৫৫। তার একমাত্র পুত্র ছাড়া কেউ নেই। দিন দরিদ্র এ মহিলার দাফনে কেউ এগিয়ে না আসায় তার চেলে আমাদের জানালে রাত ১০টায় তুমুল ঝড়ের মধ্যে আমরা গোসল, জানাযা ও দাফনের কাজ করি। গোসল কারন ইউপি মেম্বার ও স্বেচ্ছাসেবক রোজিনা বেগম।

এছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় তিন দাফনের টিমে ছিলেন হিরাশিকো, নাঈমুল খন্দকার, হাফেজ শিব্বির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, লিটন মিয়া, সুমন দেওয়ান, রাফি, ইয়াসির ও নাঈম।

মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, গত ৮ এপ্রিল থেকে মরদেহ দাফনের কার্যক্রম শুরু করেন। যার মধ্যে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আবার কারো কারো মধ্যে করোনার উপসর্গ ছিল। তাছাড়া স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে পরিবার ও প্রতিবেশি কেউ এগিয়ে আসেনি। যার জন্য তারা এ কার্যক্রম শুরু করেন। যার ধারবাহিকতায় ১০ জন হিন্দু নারী পুরুষ ও ৪১ জন মুসলিম নারী পুরুষ দাফন করেছেন।

তিনি আরো জানান, করোনা মোকাবেলায় কাজ শুরু হয় গত মার্চ মাস থেকেই। প্রথমে লিফলেট বিতরণ, পরে হ্যান্ড স্যানেটাইজার তৈরি করে বিতরণ, জীবানুনাশক পানি রাস্তায় ছিটানো, যানবাহনে ছিটানো, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা ও কাঁচা সবজি বিতরণ করা হয়। এছাড়াও স্বল্পমূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি কার্যক্রমও করা হচ্ছে। আমাদের এ কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে চলবে।

মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এক মহামারী চলছে। এ দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা জরুরী। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এসব কাজ শুরু করেছি। এখানে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। যারা লাশ দাফন, ত্রাণ বিতরণ, সবজি বিতরণ সহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। অনেকেই আছেন স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এসেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর