ঈদের আগে শেষ শুক্রবারে মার্কেটগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ২২ মে ২০২০, শুক্রবার
ঈদের আগে শেষ শুক্রবারে মার্কেটগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে লকডাউন শিথিল করে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই সিদ্ধান্তে করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জের সকল মার্কেট বিপনী বিতান খোলা হয়। তবে মার্কেট খোলার পর থেকে যেমন নারায়ণগঞ্জে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গেছে। ঠিক তেমনি ঈদের ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে শহরের মার্কেটগুলোতে মানুষের উপস্থিতিরও রেকর্ড ভেঙ্গেছে। ঈদের আগে শেষ শুক্রবারে নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলোতে পা ফেলারও জায়গা নেই।

২২ মে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। ২৮ তম রোজায় নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ছেল বুড়ো শিশু সহ সব বয়সের মানুষ। কেনাকাটা করতে নানা স্বাস্থ্য বিধির নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও তা মানছেন না ক্রেতা বিক্রেতা কেউ। হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে স্বাস্থ্য বিধি মানার চেষ্টা করা হলেও ক্রেতাদের অসচেতনতায় তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের মার্কেট এবং বিপনী বিতানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কোনো অবস্থানেই ‘লকডাউন’ চলছে বলে মনে হয় না।

গত ১০ মে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মার্কেট ও বিপনী বিতান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলোতে মানুষের সমাগম হতে থাকে। প্রথম দিকে মার্কেটগুলোতে তুলনামূলক মানুষের আগমন কম হলেও এখন পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। অন্যান্য সময়ের মত ঈদের আগে মার্কেটগুলো যেমন জমজমাট হয় করোনাকালের এই ঈদের আগের শেষ শুক্রবারে নারায়ণগঞ্জের মার্কেটগুলো ক্রেতা সমাগমে ঠিক ততটাই জমজমাট হয়ে উঠেছে।

মার্কেট খোলার জন্য নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধিগুলোর মধ্যে প্রথমেই ছিল নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে হবে। এছাড়া মার্কেটগুলোতে প্রবেশ পথে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে এসব স্বাস্থ্যবিধি কোনো মার্কেটেই মানা হচ্ছে না।

শহরের যে মার্কেটগুলোতে বাইরের দিকে দোকান নেই এবং প্রবেশ পথ একটি সেগুলোতে জীবাণুনাশক টানেল কিছুটা কাজে আসলেও চাষাঢ়ায় অবস্থিত সমবায় মার্কেটের মত একাধিক প্রবেশ পথ ও বাইরের দিকে দোকান থাকায় সেই মার্কেটগুলোতে এ ধরণের টানেল কোনো কাজে আসছে না। কারণ টানেল দিয়ে প্রবেশ না করে বাইরে থেকে পন্য ক্রয় কিংবা বিকল্প ভাবে মার্কেটে প্রবেশ করছেন ক্রেতারা। এছাড়া মার্কেটগুলোর সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তা সীমিত হওয়ায় হাত ধুতেও সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। যে কারণে অনেকে হাত না ধুয়েই মার্কেটে প্রবেশ করছেন।

স্বস্থ্যবিধির অন্যতম নির্দেশনা ছিল ‘নিরাপদ দূরত্ব’ নিশ্চিত করতে হবে। শহরের কোনো মার্কেট এই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। কারণ অধিকাংশ মার্কেটের দোকান ছোট। যেখানে একই সময়ে একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে গাদাগাদি করে চলছে ক্রয়-বিক্রয়। এমন পরিস্থিতিতে আরো ভয়াবহ অবস্থা তৈরী হওয়ার আশঙ্কা করছেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরীকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশেই দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে দোকানপাট খোলা হবে বলে জানান। যার সূত্র ধরে ১০ মে থেকে বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর