শ্রমিক বিক্ষোভ, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ পোশাক কারখানা বন্ধ


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ০২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার
শ্রমিক বিক্ষোভ, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ পোশাক কারখানা বন্ধ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও বোনাসের দাবিতে একই মালিকানাধীন ৩টি পোশাক কারখানার কয়েক শ’ শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন।

২ জুন মঙ্গলবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলস্থ এ.কে ফ্যাশন, আহসান গ্রুপ এবং এ্যাপরেলস লিমিটেডের শ্রমিকেরা এ বিক্ষোভ করে। এ গার্মেন্ট ৩টির মালিক ইঞ্জিনিয়ার কামরুল আহসান।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালীন ৩টি কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন মালিক পক্ষ। পরিস্থিাতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জানা গেছে, লকডাউনের সময় গার্মেন্ট লেঅফ ছিল। পরবর্তীতে গার্মেন্টের নতুন কোন কার্যাদেশ না থাকায় সীমিত আকারে গার্মেন্ট চালু করা হয়। লকডাউনের সময় এবং কারখানা চালু করার পরও যে সকল শ্রমিক কর্মচারী কাজে যোগদান করেনি তাদের বেসিক ৬০% হারে মালিক পক্ষ দিয়ে আসছে। গার্মেন্ট পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ৩০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজে যোগদান করতে পারেনি। তবে গার্মেন্টের ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিক কর্মচারীকে কাজে পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে মালিক পক্ষ।

কিন্তুযারা কাজে যোগদান করেনি তাদেরকে ছাঁটাই করা হবে এ খবর ছড়িয়ে দেয় সাধারন শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে ৩ টি গার্মেন্টর ২২’শ শ্রমিকদের মধ্যে ১৯’শ শ্রমিক কর্মচারী কাজে যোগদান করে। কিন্তু উছৃঙ্খল শ্রমিকরা আহসান এ্যাপারেলস এর সামনে জড়ো হয়ে গার্মেন্টের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাককে গার্মেন্টের সামনে পেয়ে বেধড়ক মারধর করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

গার্মেন্টের পরিচালক রুবাইয়াত হোসাইন জানায়, ৩টি গার্মেন্টেই মার্চের পুরো বেতন দেয়া হয়েছে এপ্রিলের ৭ তারিখে। এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে এপ্রিল মাসের লে-অফ বেসিক বেতন দিয়ে মে মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত গার্মেন্ট ৩টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গার্মেন্টের কাজের অর্ডার না থাকায় সকল গার্মেন্ট না খুলে আংশিক গার্মেন্ট খোলা হয় মে মাসের ২ তারিখে। এতে কিছু শ্রমিক কাজে যোগদান করে। তবে মোবাইলের বিকাশের মাধ্যমে মে মাসের বেতনসহ সরকার ঘোষিত সকল পাওনাদি পরিশোধ করা হয়। কোন কাজের অর্ডার না থাকার পরেও হঠাৎ করে আজ গার্মেন্টের শ্রমিকরা গার্মেন্টে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খল আচার করতে উদ্যত হয়। কিন্তু শ্রমিকদেরকে গার্মেন্টে প্রবেশ করতে না দেয়ায় তারা বিক্ষোভ শুরু করে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার আইনুল হক জানান, বর্তমান পরিস্থিাতিতে মালিকপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পরবর্তীতে তারা পরিস্থিাতি বুঝে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর