লকডাউনেও নারায়ণগঞ্জে ৫ ধর্ষণ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ০২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার
লকডাউনেও নারায়ণগঞ্জে ৫ ধর্ষণ

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেও ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। যেকারণে ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে সবাই নির্দিষ্ট দূরত্ব বর্জায় রেখে চলাচল করছে; সেখানে ধর্ষকরা এরুপ নারকীয় ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। আর তাতে করে সামাজিক অবক্ষয় ফের বাড়তে শুরু করেছে।

মে জুড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ মাসে মোট ৫ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২৯ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী (৬০) এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার পুরাতন সৈয়দপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে বাদী হয়ে সদর মডেল থানা মামলা দায়ের করেন। আটক আলমগীর হোসেন একই এলাকার গফুরের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বলেন, ‘মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী সৈয়দপুর এলাকায় ঘুরে বেরাতো। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে আলমগীর হোসেন ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীর হোসেনকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে রাতেই প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।’

২৮ মে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২২) ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রহিম প্রমাণিক (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবন্ধী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখায়।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহিম প্রামাণিক সিরাজগঞ্জের রানীখোলা এলাকার মৃত সফি উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। সে উপজেলার হাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করে কবিরাজী চিকিৎসা করতেন।

মামলা বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ‘আব্দুর রহিম প্রমাণিকের সঙ্গে তরুণীর বাবার ৮ থেকে ৯ বছর ধরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই সুবাধে রহিম তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ঝাড়ফোঁক করার জন্য বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টায় তাদের বাড়িতে যায় আব্দুর রহিম। তখন তরুণীকে ঘরে রেখে ঘরের সবাইকে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দেয়। ওই সময় চিকিৎসার কথা বলে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করে কবিরাজ। ওই সময় তরুণীর চিৎকার শোনে তার বড় ভাই জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে বিষয়টি দেখে ফেলে। এসময় আব্দুর রহিম ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ‘ওই তরুণীর বাবা থানায় অভিযোগ দিলে রাত ১টায় ফতুল্লার হাজীপাড়া শাহজাহান মোল্লার বাড়ির ভাড়া বাসা থেকে আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহিম ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তরুনীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলা আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই প্রতিবন্ধী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

২১ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঁন মিয়া নামের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহরের জামতলা এলাকায় মেয়ের বাড়ি থেকে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্র্রেপ্তারকৃত ধর্ষক চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ মতলব থানাধীন পুটিয়া এলাকার জব্বার বেপারীর ছেলে চান মিয়া।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের এসআই মোদাচ্ছের জানান, ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর প্রাইমারী স্কুলের আগে জসিম মুন্সির বাড়ির নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ মতলব থানাধীন পুটিয়া এলাকার জব্বার বেপারীর ছেলে চাঁন মিয়া। সে এলাকায় শুটকি বিক্রি করে। আর একই বাড়ির ৪র্থ তলায় বাবা মা সহ নানীর সাথে বসবাস করে ধর্ষণের শিকার শিশু। কিছুদিন আগে ছোট শিশুটিকে নানীর কাছে রেখে বাবা মা গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট যায়। তারা লকডাউনে আটকা পড়ে যায়। আর শিশুটিকে বাসায় একা রেখে নানী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছে হাত পাতার জন্য রাস্তায় বের হয়। সেই সুযোগে ১৯ মে মঙ্গলবার দিনের বেলা কোন এক সময় সু-কৌশলে চান মিয়া তার ঘরে নিয়ে শিশুটিকে জোর করে ধর্ষণ করে। বাসায় নানী ফিরলে শিশুটি তাকে সব জানিয়ে দেয়। ওই শিশুর নানী বাড়িওয়ালাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে বাড়িওয়ালা চাঁন মিয়ার সাথে আতাত করে শিশুর নানীর হাতে এক হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়। ঘটনাটি যখন এলাকায় জানাজানি হয় তখন বাড়িওয়ালা চাঁন মিয়াকে আত্মগোপনে যেতে সুযোগ করে দেয়। আর বাড়িওয়ালার এমন আচরণ দেখে পরে শিশুটির নানী ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ চান মিয়ার মেয়ের বাসা জামতলা হতে আটক করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির নানী ফতুল্লা মডেল থানা মামলা দায়ের করে।

কিছুদিন আগে বন্দর গার্লস অ্যান্ড কলেজের বাংলা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাকপ্রতিবন্ধি (১৪) বছরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করার অভিযোগ উঠেছে। বন্দর গার্লস এন্ড কলেজ সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

কিশোরীর বাবা জানান, গত কয়েকদিন যাবত বাকপ্রতিবন্ধি মেয়েটি আমার অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কোন দিক পাশ না দেখে প্রাইভেট একটি হাসপাতলে ডাক্তার দেখালে জানানো হয় মেয়ের অন্য কোন রোগ নেই সে মা হতে চলেছেন (মানে গর্ভবতী)। এমন কথা শুনে আসমান আমার মাথায় ভেঙ্গে পড়েছে। পরে মেয়ে কাছ থেকে জানতে পারি কয়েক মাস আগে পাশে রুমে থাকা গার্লস অ্যান্ড কলেজের বাংলা শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকের পক্ষে এলাকার কয়েকজন আমাকে মিমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে।

১৬ মে বসত বাড়ি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২ সন্তানের জননীকে মারধর করে শ্লীতাহানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে মাদকাসক্ত লম্পট ভাসুরের বিরুদ্ধে। সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দর থানার ২৪ নং ওয়ার্ডস্থ নবীগঞ্জ ইসলামবাগ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। গৃহবধূর আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসলে ওই সময় লম্পট ভাসুর ফকির চাঁন প্রানের ভয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ বন্যা বেগম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঘটনার ওই দিন দুপুরে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর