লঞ্চডুবির পর যাত্রী শূন্য নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০১ জুলাই ২০২০, বুধবার
লঞ্চডুবির পর যাত্রী শূন্য নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল

বাংলাদেশে যখন করোনার মহামারি চলছে ঠিক তখনি ঘটে গেল আরেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি লঞ্চডুবিতে মুহূর্তেই প্রাণ হারালো ৩৪ জন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রভাব পরেছে বাংলাদেশের প্রাচীনতম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে। ঢাকায় লঞ্চডুবির পর এই ঘাটে যাত্রী সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।

১ জুলাই বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায় এমন দৃশ্য। সারিবদ্ধভাবে লঞ্চ দাঁড় করিয়ে রাখলেও যাত্রীর দেখা মিলছে না। অন্য সময় লঞ্চ টার্মিনালে শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠতো। কে কার লঞ্চে সবার আগে যাত্রী উঠাবে সেই প্রতিযোগিতায় নামতো তারা। কিন্তু এখন যাত্রী না থাকায় লঞ্চেই শুয়ে বসে অলস সময় পার করতে হচ্ছে লঞ্চ শ্রমিকদের। যাত্রী না থাকায় কর্মহীন অলস সময় পার করছে ঘাট শ্রমিকরাও।

এ প্রসঙ্গে লঞ্চ শ্রমিক মিজান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে অনেকদিন বন্ধ ছিল। লকডাউন শেষে লঞ্চ চলাচল শুরু হলে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা বাড়ছিল। এমন সময় ঢাকায় লঞ্চডুবির পর আবারো যাত্রী সংখ্যা বলা চলে নাই হয়ে গেছে। যে কারণে কোন কাজ নেই। কোন হাকডাক নেই। সবাই অলস হয়ে লঞ্চেই বলে আছে কেউ ঘুমাচ্ছে।’

হকার মিজান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আগে বিকেল হলে ঘাটে প্রতিযোগিতা লেগে যেত যে কে হাঁকডাক দিয়ে যাত্রী লঞ্চে উঠাবে। আমরাও প্রতিযোগিতা করতাম মালামাল নিয়ে আসার জন্য। প্রতিযোগিতা তো দূরের কথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও যাত্রী আসে না। দুই একজন আসলেও সাথে মালামাল নেই। তাই অনেকে বাড়িতে চলে গেছে। আবার করে স্বাভাবিক হবে কে জানে?’

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের উপ পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ঢাকায় লঞ্চডুবির প্রভাব নারায়ণগঞ্জে ভালোভাবেই পরেছে। টার্মিনাল এখন যাত্রী শূন্য। ঘাট থেকে খালি লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে আবার খালি লঞ্চ ফেরত আসছে।’

গত ২৯ জুন সকালে ঢাকার পোস্তগোলা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে `মর্নিং বার্ড` নামে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ছেড়ে আসে। এরপর সদরঘাটে এসে ঘাটে পৌছানোর কয়েক মুহূর্ত আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ নামে একটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, ওয়াবদা, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করে থাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর