আবর্জনার স্তূপে শূকরের পাল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার
আবর্জনার স্তূপে শূকরের পাল

চীনে নতুন এক ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সে এক নিবন্ধে জানানো নয়, এ সোয়াইন ফ্লু মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ ভাইরাসটি মূলট শূকরের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকলেও মানুষ থেকে মানুষের দেহে সংক্রামণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনো। তবুও এ ভাইরাস নিয়ে আতংকিত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নগরবাসী।

জানা যায়, বিভিন্ন এলাকার সকল ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি সড়কের পাশে। সেখানে ময়লার দুর্গন্ধে মানুষ পর্যন্ত টিকতে পারেনা। সেই ময়লার গন্ধের কারণে একাধিকবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে নাসিকের বিষোদগার করেছেন সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয়রা নিয়মিত এখানে ময়লা না ফেলার দাবিতে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা আবর্জনা ফেলতে শুরু করে শহীদনগর এলাকাতে।

তবে জালকুড়িতে ময়লার স্তূপের উপর ছোট দুটি ঘর করে সেখানে কয়েকজন মিলে শতাধিক শূকর পালন শুরু করেছেন। এই শূকররা এখানের ময়লা আবর্জনা খেয়েই বড় হচ্ছে। দিন দিন নতুন নতুন অতিথি আসছে এই শূকরদের পরিবারে। এ নিয়ে নতুন আতংকে পড়েছেন নগরবাসী।

নগরবাসীর দেয়া তথ্যমতে, ময়লা আবর্জনা সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন নগরবাসীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা নিয়ে আসেন। সেটি তারা সেই শূকরদের কাছেই ফেলে আসেন। আবারো সেই শূকরদের সংস্পর্শে থেকে ফিরে ময়লা সংগ্রহ করেন। এতে করে নানা ধরণের জীবানু সংক্রামণের সুযাগ সৃষ্টি হচ্ছে। একেতো করোনা ভাইরাসের মহামারিতে এ জেলার অবস্থা নাজেহাল, অপরদিকে ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি এ শূকর পালনের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুনে।

সেখানে ময়লা ফেলতে আসা পরিচ্ছন্ন কর্মী আনোয়ার জানান, এখানে করোনা শুরু পর থেকেই এই শূকরের পাল দেখতে পাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি এখানে কেউ কেউ দুটি ঘর তুলে সেখানে শতাধিক শূকরের আবাস গড়ে তুলেছেন। এতে করে তারাও ময়লা এনে শূকরদের দিচ্ছেন। এদের এখান থেকে সরালে তাদের কাজেরও সুবিধা হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে নগরবাসী দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে নাসিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এএফপির খবর সুত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানুষকে সংক্রমিত করার মতো সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ে ২০০৯ সালে জি–ফোর নামের এই ভাইরাস এসেছে এইচওয়ানএনওয়ান প্রজাতি থেকে। ভাইরাসটি সংক্রামক ও শক্তিশালী এবং মানবদেহের কোষের ক্ষতি করার জন্য এর প্রভাব রয়েছে। চীনের ১০টি প্রদেশের কসাইখানা ও একটি পশু হাসপাতাল থেকে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গবেষকরা শূকরের নাকের শ্লেষ্মা সংগ্রহ করে সেখান থেকে ১৭৯ ধরনের সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস পান।

ভাইরাসের সংক্রমণে এই পশুর শরীরেও মানুষের মতো জ্বর, কাশি, হাঁচির উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষা–নিরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, মৌসুমি ফ্লুতে সংক্রমিত হওয়া মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই ভাইরাসের সংক্রামণ রুখতে পারেনা এবং এ থেকে রক্ষা করতে পারেনা। শূকরের খামারে কাজ করা ১০.৪ ভাগ কর্মী ও ৪.৪ ভাগ সাধারণ মানুষ এতে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হলেও মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হবার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি তবে এটিই এখন গবেষকদের ভাবনার বিষয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর