মেয়র ডিসিকে নিয়ে মিথ্যাচার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ০৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার
মেয়র ডিসিকে নিয়ে মিথ্যাচার

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণ পেলেন, পুনর্বাসনের জন্য দোকান পেলেন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অস্থায়ীভাবে দোকানও করছেন তারপরও অস্বীকার করে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের হকার নেতারা। কখনো ডিসিকে আবার কখনো সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দোষারোপ করছেন। কেন এসব করে নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছেন এ বিষয়ে বোধগম্য নয় অনেকেই।

তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হকার নেতারা টাকার তুলতে পারছে না যার জন্য শান্ত হকারদের উস্কানি দিয়ে মাঠে নামাতে চাইছে।

জানা গেছে, ৫ জুলাই সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এর আগে মিছিলে স্লোগান দেয় উচ্ছেদের নামে জুলুম নির্যাতন, গ্রেফতার ও মালামাল লুট বন্ধ করো।

যদিও উচ্ছেদ, জুলুম, নির্যাতন, গ্রেফতার ও মালামাল লুট করে নেওয়ার কোন ঘটনাই ঘটতে দেখা যায়নি। এমনকি গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়নি। তবে বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের ফুটপাতে হকার বসা নিষেধ থাকলেও যারা দোকান নিয়ে বসতেন তাদেরই মাঝে মধ্যে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করতো পুলিশ।

হকারদের ওই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘মেয়র আইভী আমাদেরকে পুনর্বাসন করে হকার উচ্ছেদ করতো। করোনাকালীন সময়ে সরকার আমাদের ত্রাণ দিয়েছে কিন্তু আমরা কোনা ত্রাণ পাই নাই। ডিসি আমাদের সাথে বহু নাটক করেছে ত্রাণ নিয়ে। ডিসির কাছে গেলে ডিসি বলেছে মেয়রের কাছে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের সিইওকে ফোনে পাওয়া যায় না। তার সাথে গিয়ে সরাসরি দেখাও করা যায় না। ডিসি মেয়র ব্যর্থ হয়েছে আমাদের সহযোগিতার করার জন্য। আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ দিয়েছেন শামীম ওসমান, হাফিজ ও সাজনু।

হকার নেতার এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেন।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘হকারদের দুটি গ্রুপ ২৩৩জন হকারের তালিকা সিটি করপোরেশনে জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে ২ শতাধিক হকারকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। কারণ সরকার থেকে যেসব ত্রাণ এসেছে সেগুলো মেয়র আইভী ওয়ার্ড ভিত্তিক কাউন্সিলরদের মধ্যে বিতরণের জন্য দিয়েছেন। আর কাউন্সিলররাই তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন। হকার নেতারা যেসব হকারদের তালিকা দিয়েছেন তারা সকলেই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সে হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণগুলো দেওয়া হয়েছে যাদের নাম, ফোন নাম্বার ও ঠিকানা সিটি করপোরেশনের কাছে আছে। এখানে কয়েকজন বাদ গিয়েছে যাদের নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার ভুল ছিল। তাছাড়া তারা যে ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছে তারও তথ্য আছে কাউন্সিলরদের কাছে। তাহলে কেন তারা এ ধরনের মিথ্যাচার করে শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে সেটা বোধ্যগম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘সিপিবির জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামের চাহিদা অনুযায়ী ৩৫জনের জন্য ওএমএস কার্ড দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরদের কাছে তার প্রমাণও আছে। চাইলে সেগুলো প্রকাশ করা হবে। তাহলে কেন তিনি এসব কথা বলছেন।’

আবুল হোসেন বলেন, ‘বারবার পুনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হকার্স মার্কেট করে দিয়ে ছয় শতাধিক হকারকে দোকান দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন। কেউ সেখানে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন। আবার কেউ সেগুলো বিক্রি করে দিয়ে আবারও ফুটপাতে চলে এসেছেন। তাছাড়া ফুটপাতে দোকান দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার বাইরে থেকেও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আসছে। এভাবে নগরবাসীর ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত ব্যক্তিত্ব আশেপাশের সড়কগুলোতে দোকান করতে। যা তারা অনেক দিন ধরে করে আসছে। এতে কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। কোন উচ্ছেদ অভিযানও করা হচ্ছে না। তাহলে হঠাৎ করে কেন আবার এ ধরনের মিছিল মিটিংয়ের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’

নগরবাসী বলছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হকার নিয়ে তেমন কোন আলোচনা ছিল না। তাহলে হঠাৎ করে কেন হকাররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। হকারা তো তাদের দোকান ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। কারা উস্কানি দিয়ে হকারদের আন্দোলন করাচ্ছে। কারা হকারদের দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে চায় প্রশাসনকে এটা খুঁজে বের করা উচিত।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাতে কয়েক শতাধিক হকার দোকান বসিয়ে থাকে। আর সেসব দোকানদারদের কাছ থেকে পুলিশ, বিদ্যুৎ বিল, রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন নামে প্রতিদিন সর্বনি¤œ ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলেন হকার নেতারা। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ খুব কঠোর অবস্থানে থাকায় এবং হকাররা বঙ্গবন্ধু সড়কে না বসায় চাঁদা তুলতে পারছে না নেতারা। আর বেঁচাকেনা কম থাকায় হকাররাও নেতাদের ৫০ কিংবা ১০০ টাকা দিতে রাজি নয়। ফলে তাদেরকে বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে দিচ্ছে নেতারা। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার হায়াৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন, জেলা হকার্স লীগের সভাপতি আব্দুল রহিম মুন্সি, নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়া কিংবা হকাররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আগেই যেন তদন্ত করে ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সুধী সমাজের নেতারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর