ফেনসিডিলের ভাগাড়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১০ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
ফেনসিডিলের ভাগাড়

এক সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর রেললাইন হতে চাষাঢ়ায় লিংক রোড পর্যন্ত দুই পাশে ছিল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির হাট। বিশেষ করে বিগত বিএনপির আমলে এখানে দেদারছে বিক্রি হতো মাদক। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে প্রতিদিন জড়ো হতো মাদক সেবীরা। শহরের একটু দূরে ও জায়গাটির যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সেখানে মাদকের হাট বসতো। এবার সেই স্থানের পাশের গঞ্জেআলী খাল পরিস্কার করতে গিয়ে ভেসে উঠছে শত শত ফেনসিডিলের বোতল। কাচ ও প্লাস্টিকের এসব বোতল এবার অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভেকু দিয়ে এসব বোতল উঠিয়ে সড়কের পাশে রাখলে যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা বা লোকজনের হাত পা কাটতে পারে। সেজন্যই সেখানে এবার নৌকা নামানো হচ্ছে। আজকাল থেকেই নৌকায় চড়ে লোকজন ফেনসিডিলের বোতল সংগ্রহ করবে। এর পরেই সেখানে ফের ভেকু চালানো হবে।

২৮ জুন থেকে গঞ্জে আলী খাল পুনঃখননের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চালায় নাসিক। কাউন্সিল শওকত হাসেম শকুর নেতৃত্বে স্থাপনা উচ্ছেদ ও খাল খননের কাজ শুরু করেন নাসিকের টিমের সদস্যরা। টানা বৃষ্টি কারণে ১২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লা ও ঘরে পানি জমে উঠত। এ কারণে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান, এমপি শামীম ওসমান ও নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সহযোগিতা করে করেন স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাসেম। তিনি তাদের সহযোগিতা পেলে গঞ্জেআলী খাল উদ্ধার ও খাল দিয়ে পানি অতিক্রমের ব্যবস্থা নেন। এরপর স্থানীয় এমপি ও মেয়রের সহযোগিতায় আশ্বাসের পর ২৫ জুন থেকে গঞ্জে আলী ঘিরে সকল দখলদারদের স্বেচ্ছায় মালামাল সরিয়ে নেয়ার মাইকিং করা হয়। এর পর ২৮ জুন থেকে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ চালিয়ে খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। এর পর ২ জুলাই খাল খননের কাজ পরিদর্শনে যান নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি পরিদর্শন ঘিরে দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেয়া ও খাল খননের এলাকাবাসী সহযোগিতা করায় ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন শুরু থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এমন কোন সড়ক নেই যেই সড়কের পাশে ড্রেন নেই। আমরা ড্রেনগুলো অনেক গভীর ও প্রশস্ত করেছি কিন্তু এখানে সবসময় মাটি পলিথিন বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সড়কে এসব দিয়ে ড্রেনগুলো ভরে থাকে। বেশি বৃষ্টি হলে অনেক সময় কিছুক্ষনের জন্য পানি জমে থাকে তবে কোন স্থানেই ২ ঘন্টার বেশী পানি জমে থাকেনা। অন্য সিটির অবস্থা দেখলে দেখা যায় একদিনের বেশিও পানি জমে থাকে। আমরা সবগুলো খাল খনন করে বাধাই করার চেষ্টা করছি। তারই ধারাবাহিকতায় বাবুরাইল খাল খনন করেছি। এরকম আমাদের অনেকগুলো কাজ হয়েছে হচ্ছে। মদনগঞ্জ, মাহমুদনগর, ত্রিবেণী খালসহ অনেকগুলো টেন্ডার আমরা করেছি। এগুলোর কাজ চলছে। শহরের মধ্যে আমাদের গঞ্জে আলী খাল এটি বাকি ছিল, এটি দীর্ঘদিন দখলে ছিল আমি পূর্বে একবার উচ্ছেদ করেছিলাম ও খান খনন করেছিলাম। এটির কাজ এখন চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর