করোনাতেও নিতাইগঞ্জে পার্কিং যানজট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
করোনাতেও নিতাইগঞ্জে পার্কিং যানজট

নারায়ণগঞ্জে দিন দিন কমছে করোনার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর তাতেই নগরীতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। যার প্রেক্ষিতে শহরের অন্যতম পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জ মোড়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে করে ভোগান্তিতে পরছে জনগন।

১২ জুলাই রোববার সকালে সরেজমিনে নিতাইগঞ্জ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, মন্ডলপাড়া ব্রীজ থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত আধা কিলোমিটারের কম রাস্তা। এরই দুই পাশে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, ব্যাংক, মসজিদ, সিটি করপোরেশনের নগর ভবন, ওষুদের দোকান, স্কুল, খেলারমাঠ সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সামনেই বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। আর কিছু ট্রাক থেকে পণ্য লোড আনলোড করা হচ্ছে। ফলে প্রস্থ রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এর পাশে মালবাহী ঠেলাগাড়ি নিয়ে যাওয়ায় আসায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়াও পণ্য লোড করে নিয়ে আসতে ও যেতেই সব থেকে বেশি যানজট সৃষ্টি হয়। তবে এ যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের কোন কর্মকর্তা দেখা যায়নি। সাদা পোশাকে কয়েকজন লাঠি নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করলেও তারা শ্রমিক নেতাদের নিয়োজিত চাঁদা উঠানোর লোকজন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নিতাইগঞ্জ মোড়ে ও সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের উল্টো পাশে ট্রাক পার্কিং সম্পূর্ণ অবৈধ। সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে নিতাইগঞ্জ মোড় থেকে মন্ডলপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত ট্রাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গাড়ি পাকিং করে রাখা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় বলা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয় না প্রশাসন। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাধা দিতে গিয়ে অপ্রতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বলাই দাস বলেন, ‘রোদ কিংবা বৃষ্টি, সকাল কিংবা সন্ধ্যা, সপ্তাহের ছুটির দিন কিংবা সাধারণ দিন যাই থাকুক না কেন এ রাস্তায় আপনি যানজট পাবেনই। আর যেদিন যানজট পাবেন না মনে করবেন সেদিন ঈদ। কারণ ঈদের দিনেই এখানে যানজট দেখা যায় না। কিন্তু গাড়ি পার্কিং করা ঠিকই দেখা যায়।’

ওষুদের দোকানদার সোহরাব হোসেন বলেন, ‘এ ট্রাক চালক, হেলপার আর আছে শ্রমিক নেতারা। তাদের জন্য এখানে সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পরেছে। এদের কিছু বললে শোনে না বরং উল্টো মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে। বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত করে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও বলতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে লজ্জিত হয়ে ফিরতে হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসা আসমা বেগম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে দুইদিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। কিন্তু দুই দিনই আধা ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়েছে। উপায় না পেয়ে পরে বাধ্য হয়ে রিকশা থেকে নেমে রোগে নিয়ে হেঁটে হাসপাতালে আসছি। কাকে বলবো এ কষ্টের কথা।’

নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘এমপি সেলিম ওসমানের কথা অনেক দিন নিতাইগঞ্জে ট্রাক ছিল না। মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। কিন্তু এখন আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তাই এমপি সেলিম ওসমান, মেয়র আইভী, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সকলের কাছে অনুরোধ এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমাদের সাধারণ মানুষকে এর থেকে মুক্তি দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর