সন্তান নিখোঁজে মা গুণলো ২০ হাজার! পুলিশের দাবী আত্মগোপনের নাটক


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার
সন্তান নিখোঁজে মা গুণলো ২০ হাজার! পুলিশের দাবী আত্মগোপনের নাটক

১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছেলে সিয়ামকে ফিরে পেতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মা ময়না আক্তার। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। যদিও তদন্তকারী কর্মকর্তা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পারিবারিক ঘটনায় ছেলেকে আত্মগোপনে রেখেছে মা এমনটাই দাবি করছেন পুলিশ।

১৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন ময়না আক্তার।

নিখোঁজ সিয়াম সদর উপজেলার দেলপাড়া এলাকার আলমাছ ও ময়না আক্তারের একমাত্র ছেলে। সে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই রাত ১০টায় সিয়ামের মোবাইলে ফোন করলে সে জানায় তার ভাড়ায় চালিত অটো গাড়ীটি দেলপাড়া লালু মিয়ার গ্যারেজে জমা দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তারপর রাত সাড়ে ১০টায় আবারও ফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তারপর লালু মিয়ার গ্যারেজ সহ বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোঁজাখুজি করেও সিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিভিন্নভাবে জানতে পারি সিয়াম নিখোঁজ নয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণে জড়িত আলমাছ, ইদ্রিস, ইসমাইল, সহ আরো ৫ থেকে ৬জন। তাদের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। যা কয়েকবার বিচার শালিস করেও সমাধান হয়নি। তারা প্রাণনাশের হুমকি দিতো। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালেকুজ্জামান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে না। গত ১২ জুলাই এসআই সালেকুজ্জামান থানায় ডেকে নিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলে অভিযুক্তদের ১০ বছরের জন্য জেলে ঢুকিয়ে দিবে। তখন আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দেই। তখন অভিযুক্তদের না ধরে উল্টো আমাকে গালাগালি ও ওসি আসলামকে দিয়ে হুমকি ধমকি দেয়।

ময়না আক্তার বলেন, এমন অবস্থায় আমার ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে এবং এসআই সালেকুজ্জামানের হয়রানী থেকে বাঁচতে জেলা পুলিশ সুপারের বরাবরে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সালেকুজ্জামান বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। কারণ তিনি নিজেই অনেক গরীব। আমি নিজের বোনের মতো সব সময় ব্যবহার করি।’

তিনি বলেন, ‘এ আলমাছ ময়না আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী। ছেলে নিখোঁজের আগেই তার সঙ্গে পারিবারিক ভাবে ঝামেলা চলছিল। তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি, এর মধ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কাজীর সহযোগিতায় দুইজনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। সেখানে তিনি ৫০ হাজার টাকায় সমাধান করেন। আর এরপর থানায় দুই পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করলে তিনি তাতে রাজি হয়নি। আর তখন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেই তিনি এসব মিথ্য অভিযোগ করছেন।’

নিখোঁজ সিয়ামের বিষয়ে এসআই সালেকুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ছেলে স্থান নিশ্চিত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ছেলের মামার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারা যায় নিখোঁজের পর সেখানে তিনদিন ছিল। যার তার ছোট মামী ও মামা সহ এলাকাবাসী স্বীকার করেছে। যার ভিডিও বক্তব্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তারপর সেখান থেকে কোথায় গিয়েছি সেটা নিশ্চিত নয়। তাকে উদ্ধারে আমরা সর্বত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারা গেছে ওই নারীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ রয়েছে। পরিবারিক দ্বন্ধে নিজের ছেলেকে আত্মগোপনে রেখেছেন। খুব শিঘ্রই এ সত্যতা প্রকাশ করা হবে। প্রকৃত দোষীকে আাইনের আওতায় আনা হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর