গরুর হাটে নেই স্বাস্থ্যবিধি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার
গরুর হাটে নেই স্বাস্থ্যবিধি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই সারাদেশের মধ্যে হটস্পট হিসেবে খ্যাত ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা। সেই সাথে টানা কয়েকমাস ধরে এই সংক্রমণ চলে যেতে থাকে। বিশেষ করে ঈদ ফিতর পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তবে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা কমে আসছে। কিন্তু এই সংক্রমণ কমের মধ্যে আবার নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে গরুর হাটগুলোকে বিবেচনা করে আসছিলেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।

আর সেটারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠা হাটগুলোতে। ধীরে ধীরে হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করলেও কোনো হাটেই স্বাস্থ্যবিধির কোনো লক্ষ্যণ দেখা যাচ্ছে না। কোনো হাটেই নেই জাবীনুনাশক ট্যানেল কিংবা হাত ধোঁয়ার বেসিন। সেই সাথে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের মুখেও নেই কোনো মাস্ক।

৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গরুর হাটগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেই চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় অন্যবছরের চেয়ে এবার নারায়ণগঞ্জে গরুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরে কোনো হাট রাখা হয়নি। এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯টি, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি, বন্দর উপজেলায় ১টি, সোনারগাঁ উপজেলায় ১৭ টি, সোনারগাঁ পৌরসভা ১টি, রূপগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, তারাবো পৌরসভা ২টি, আড়াইহাজার উপজেলা ১৬ টি, গোপালদী পৌরসভায় ২টি এবং আড়াইহাজার পৌরসভায় ২টি সহ মোট ৭১ টি গরুর হাট রয়েছে। কিন্তু এসকল হাটগুলোর বিপক্ষে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সচেতন মহল।

আর এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজেও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন কুরবানী হাট নিয়ে আমার মাঝে প্রচন্ডভাবে শঙ্কা কাজ করছে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, করোনার হটস্পটে গরুর হাট মহামারী আকার ধারণ করবে। আমরা দেখেছি ঈদুল ফিতরের সময় কিভাবে গণহারে মানুষ মার্কেটে প্রবেশ করেছে। সে সময় কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সেই জায়গায় এবার গরুর হাট দিলে এখানেও স্বাস্থবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সবশেষ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে পশুর হাট না বসাতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। গত ১৫ জুলাই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির ফোকাল পয়েন্ট এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামীমা নাসরীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এ অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এসকল মতামতের উপেক্ষা করেই নারায়ণগঞ্জে দেয়া হয় গরুর হাট।

সে লক্ষ্যে গত ৭ জুলাই পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদ জামাতের প্রস্তুতি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেছিলেন, যেহেতু এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চলছে। সেই সংক্রমণ প্রতিরোধে ঈদুল ফিতরের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আযহা উদযাপন করা হবে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানী পশুর হাটগুলোতে জীবানুনাশক ট্যানেল বসাতে হবে। হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই আগের চেয়ে হাটের সংখ্যা বাড়বে না বরং কমিয়ে এনে হাটের জায়গা বাড়ানো হবে। গরু কিনার উদ্দেশ্য নিয়েই হাটে যেতে হবে হাটে অযথা ঘুরাঘুরি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। সেই অবস্থান ধরে রাখতে হবে। হাটগুলোতে একপথ দিয়ে ঢুকতে হবে। শিশুদের নিয়ে হাটে যাওয়া যাবে না। রাস্তায় কোন হাট বসানো যাবে না। হাটগুলো পরিস্কার রাখতে হবে। ইজারাদারকে বলে দিতে হবে যেন সাথে সাথেই হাটগুলো পরিস্কার করে ফেলে। নিয়মিত জীবানু নাশক স্প্রে করতে হবে। কোনোভাবেই ঈদ যেন সংক্রমণের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর