চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় এতিমখানা মাদ্রাসাগুলো


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ০৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার
চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় এতিমখানা মাদ্রাসাগুলো

নারায়ণগঞ্জে কোরবানি পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ শহরের এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকেরা। ফলে আগামী বছর কিভাবে মাদরাসা পরিচালনা করবেন তা নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তাই এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার ও রোববার টানা দুইদিন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শহর জুড়ে পশু কোরবানী দেয়া হয়। ফলে যারা কোরবানী দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই কোরবানীর পশুর চামড়া মাদ্রাসাগুলোতে দান করে দিয়েছেন। ফলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার সংগ্রহ হয়েছে দ্বিগুন।

সরেজমিনে চাষাঢ়ায় চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে জানা গেছে, এবার গরুর প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি আকারে প্রতিটি চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ছাগলের চামড়া কেউ টাকায় কিনতে রাজি না। তবে রোববার চামড়া কিনতে কোন ব্যাপারীকেই দেখা যায়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনে কোরবানী দেয়া হলেও চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না।

এদিকে শহরের উকিলপাড়া, গলাচিপা, আমলাপাড়া, টানবাজার, মিনাবাজার, উত্তর চাষাঢ়া, কলেজ সহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক লাখ টাকা দামের গরু কোরবানি দিলেও চামড়ার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বলায় তারা চামড়াগুলো এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন।’

মাদ্রাসাগুলো থেকে জানা যায়, প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে যা টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে এতিমখানা ও মাদ্রাসার এক বছরের খরচের সিংহভাগ উঠে আসে। যার জন্য ঈদকে ঘিরে পশুর চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো। কিন্তু এবার ন্যায দাম না পেয়ে হতাশ তারা। কিভাবে খরচ চালাবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছেন।

চাষাঢ়া বাগে জন্নাত এলাকার জামিআ আরবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদ্রাসার হুজুর আলামিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাদের এতিমখানা ও মাদ্রাসার খরচের টাকা আসে এ কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে। কিন্তু এবার ব্যাপারীরা যে দাম দিচ্ছেন তাতে চামড়া আনা নেওয়ার গাড়ি ভাড়াও উঠবে না। কিভাবে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের খাবার যোগাড় হবে কিছুই বলতে পারছি না। এখন আল্লাহ মালিক তিনিই ভরসা।’

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার বাজার কমিয়ে দিয়েছে। কারণ সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তাতেও মালিকেরা লাভবান হবেন। কিন্তু এখন সিন্ডিকেট করে সেটাও নিচ্ছে না। তাই সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন এটাই প্রত্যাশা করি। এসব চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে ন্যায্যমূল্য দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

আমলাপাড়া বড় মাদ্রসার হুজুর মো. তারেক হাসান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এতিম শিশুরা পড়ালেখা করে। তাদের পড়ালেখা, খাওয়া সহ আনুসাঙ্গিক খরচের টাকা আসে এ কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে। কিন্তু এবার ১৫০ টাকার উপরে দাম দিতে রাজি না এখানকার ব্যাপারীরা। তাই ঢাকা নিয়ে যাই। তবে সেখান থেকেও এক মাস পরই টাকা দিবে।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এভাবে চামড়ার ন্যায্য দাম হারালে একদিন আর কেউ চামড়া কিনতে আগ্রহী হবে না। চামড়া থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বলবো সরকার এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর