নারায়ণগঞ্জে ৮ ধর্ষণ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ০৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জে ৮ ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহ ঘটছে। দিনে দিনে এর সংখ্যা মারাতœকহারে বেড়ে চলেছে। ধর্ষকের মত নরপশুরা ক্ষমতার দাপটে কিংবা টাকার প্রভাবে এরুপ ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে। যেকারণে কিছুতেই এসব ঘটনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা।

জুলাই জুড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ মাসে মোট ৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মাদ্রাসায় দীর্ঘ দিন ধরে ঘুমন্ত শিশু শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে এক শিক্ষক। সম্প্রতি তিন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি অভিভাবকেরা জানতে পারেন। এঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে সোমবার সকালে আলিফ মাহমুদ (২১) নামে ওই শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে।

২৩ জুলাই বন্দর উপজেলায় একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে (১৮) বছরের এক যুবতী। উপজেলার তাজপুর এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা যুবতী বাদী হয়ে গত ২৫ জুলাই বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই গাজীপুর জেলার ১৮ বছরে এক যুবতী নারী তার দাদার ২য় স্ত্রীর বন্দর উপজেলার তাজপুর এলাকায় বেড়াতে আসে। যুবতী নারী সৎ দাদীর বাড়িতে বেড়াতে আসার পর থেকে সৎদাদী ও তার বোন উক্ত যুবতীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য উক্ত যুবতীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই সৎদাদী ও তার বোন উক্ত এলাকার ভজন চন্দ্র দাসের ছেলে সুখেন চন্দ্র দাসের সাথে যুবতীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। এতে যুবতী রাজি না হওয়ায় তাকে বেদম পিটিয়ে আহত করে। পরে পানি পান করে ঘুমিয়ে পরি। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে উল্লেখিত সৎদাদী ও তার বোন জানায় আমার বিয়ে হয়ে গেছে। গত ২৩ জুলাই ও ২৪ জুলাই ও ২৫ জুলাই রাতে লম্পট সুখেন চন্দ্র দাস উক্ত যুবতীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূবর্ক একাধিকবার ধর্ষন করেছে। ২৬ জুলাই পুলিশ ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

১৭ জুলাই বন্দরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীকে (২০) রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে লম্পট শাহআলমের বিরুদ্ধে। বন্দর থানার ঝাউতলাস্থ লম্পট শাহাআলমের বসত ঘরে এ ঘটনাটি ঘটে।

ধর্ষিতার মা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আমার মেয়ে জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ১৭ জুলাই শুক্রবার দুপুরে আমার মেয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বন্দর ঝাউতলা এলাকার ইয়াসিন মিয়ার ছেলে শাহআলম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে তার মা রোকেয়া বেগমকে দেখানোর জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরে লম্পট শাহ আলম ধর্ষণ করে।

১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে চার বছরের এক প্রতিবেশী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রাজু শেখ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

৮ জুলাই গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার কথা বলে মুঠোফোনে ডেকে এনে ধর্ষণ করার অভিযোগে আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ ধর্ষণকারী মোঃ মামুন হোসেনকে (৩৭) গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত মোঃ মামুন হোসেন সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এম সার্কেস এলাকার শফিউদ্দিনের ছেলে।

৩ জুলাই বন্দরে এক প্রবাসীর স্ত্রী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৫ হাজার টাকা লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর ধর্ষিতা বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রধান আসামী হাবু ওরফে হবিকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২ জুলাই আড়াইহাজার থানা পুলিশ ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে রমজান (১৯) নামে ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। রাতে তাকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আড়াইহাজার থানার এস আই রূপন চন্দ্র সরকার জানান, ৩০ জুন দুপুরে উপজেলার ছোট সাদারদিয়া গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় রামচন্দ্রদী গ্রামের ৮ বছরের শিশু কন্যা তার নানির বাড়ী পাশের সাদারদিয়া গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে সে আজগর আলীর বাড়ীতে টিভি দেখতে যায়। টিভি দেখে আসার সময় একই গ্রামের জনু মিয়ার বখাটে ছেলে রমজান (১৯) তাকে ১০টাকা হাতে দিয়া টেনে তাকে রজানের নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি ধর্ষিতা তার মাকে জানালে ২ জুলাই তার পিতা বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ধর্ষক রমজানকে গ্রেফতার করে।

১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ইকবাল (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নাসিক ৪নং ওয়ার্ডস্থ আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকার পেয়ার আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে লম্পট ইকবাল স্ব-পরিবারে ভাড়ায় বসবাস করে আসছে। গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে লম্পট ইকবাল ৩জন শিশুকে (বয়স ৬ থেকে ৮) বাথরুমে নিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে লম্পট ইকবাল। এদের মধ্যে একজন ছেলে শিশু ছিল। পরে শিশুদের চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা এসে শিশুদের লম্পট ইকবালের হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় এক মেয়ে শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ লম্পট ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। ইকবাল হোসেন সোলাই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানাধীন বিনদপুর গ্রামের সাত্তার মিয়ার ছেলে। ১ জুলাই বুধবার লম্পট ইকবালকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর