লাখ টাকার গরুর চামড়া ২৫০ টাকা, ফ্রিতেও নেয়নি ছাগলের


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার
লাখ টাকার গরুর চামড়া ২৫০ টাকা, ফ্রিতেও নেয়নি ছাগলের

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার সস্তাপুর এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন। এবার অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহাতে গরুর চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে হাতশ হয়েছেন। দেড় থেকে ২ লাখ টাকায় কেনা একটি গরুর চামড়ার দাম এক ব্যবসায়ী বলছেন ২০০ টাকা। পরে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে স্থানীয় এতিমখানায় বিক্রি করেছেন ২৫০ টাকায়। আবার অনেকেই জানিয়েছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। তবে ছাগলের চামড়া বিনামূল্যেও নিতে চাইছে না জানান কয়েকজন।

ঈদের কোরবানীর পরে বিকেলে সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়া এলাকার চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য। এসময় দেখা গেছে, প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি আকারে প্রতিটি চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ছাগলের চামড়া কেউ টাকায় কিনতে রাজি না।

এদিকে শহরের উকিলপাড়া, গলাচিপা, আমলাপাড়া, টানবাজার, মিনাবাজার, উত্তর চাষাঢ়া, কলেজ সহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক লাখ টাকা দামের গরু কোরবানি দিলেও চামড়ার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বলায় তারা চামড়াগুলো এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন।’

গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগে কোরবানি দেওয়ার আগেই চামড়ার টাকা বাসায় দিয়ে যেতো। যাতে অন্য কাউকে না দেই। কিন্তু এবার কেউ এসে জিজ্ঞাসাও করেনি। পরে স্থানীয় এতিমখানায় দিয়ে এসেছি।’

আমলাপাড়া বড় মাদ্রসার শিক্ষক মো. তারেক হাসান বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪৫৫ পিস গরুর চামড়া পেয়েছি। যেগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে দান করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যাপারীরা প্রতি পিস ১৫০টাকা দাম দিতে চাইছে। আর বিনামূল্যেও ছাগলের চামড়া নিতে রাজি না। তাই এখানে বিক্রি না করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। পরিচিত চামড়া ব্যবসায়ী আছেন ওনার কাছে দিয়ে দিবো। তারপর যা মূল্য পাই। আশা করছি ওনি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দাম দিবে।’

শহরের মাসদাইর এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. রনি বলেন, ‘এক লাখ থেকে ২ লাখ টাকা দামের ৮টি গরুর চামড়া ২৫০ টাকা করে বিক্রি করতে হয়েছে। আর তিনটা ছাগলের চামড়া রেখে ২০ টাকা চা খাওয়ার জন্য দিয়েছে।’

পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এখানের ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ ২৫০ টাকার উপরে দাম বলে না। সারাদিন পরিশ্রম করে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে। একেকটা চামড়া আমরাই কিনেছি ৩০০ টাকা করে। কিন্তু এখানে আরো ৫০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

ব্যাপারী নাজিম উদ্দিন বলেন,‘সরকারের নির্ধারিত লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুট গরু ঢাকায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা, সারা দেশে খাসি ও বকরির চামড়া ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১০ থেকে ১২ টাকা। সে হিসেবে একটি ১৫ ফুটের চামড়ার দাম আসে ৪২০ থেকে ৪৮০ টাকা। এটা লবণযুক্ত। কিন্তু এখানে আমরা যেগুলো ক্রয় করছি সেগুলো লবণ ছাড়া। এ চামড়াগুলো কেনার পর প্রতি পিছে পরিবহন খরচ, লবন খরচ, শ্রমিকের মজুরী সহ আরো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে। তাহলে আমরা কত লাভ করবো। তাছাড় গত বছর চামড়া কিনে ফেলে দিতে হয়েছে। ঢাকায় কেউ নিতে চায়নি। তাই এর চেয়ে বেশি দামে আমরা কিনতে পারবো না।

ব্যাপারী নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, ‘গরুর চামড়া যেটা খুব ভালো সেটা ৩০০ টাকা দিয়ে কিনছি। কিন্তু অধিকাংশ চামড়া নষ্ট করে ফেলেছে। যার জন্য কম দাম বলা হচ্ছে। কারণ এগুলো ঢাকায় নিয়ে আমরাও ভালো দাম পাবো না। তবে ঢাকায় ছাগলের চামড়া নেয় না সেইজন্য এবার কিনছি না। কেউ কেউ গরুর চামড়ার সঙ্গে এমনিতেই ছাগলের চামড়া দিয়ে যাচ্ছে। তখন ১০ থেকে ২০টাকা দেয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর