rabbhaban

শেখ হাসিনার গুডবুকে একমাত্র আইভী


প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, সোমবার
শেখ হাসিনার গুডবুকে একমাত্র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের নেত্রী হয়ে হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে যেমন আইভী আছেন তেমনি রাখছেন আস্থা। সবশেষ গত ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভী বিপুল ভোটে পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থীকে। এ নির্বাচন যেমন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে তেমনি সকলের দৃষ্টিও ছিল এখানে। পুরো বিশ্ব তো বটেই দেশের রাজনীতির উলটপালট ঘটতো নির্বাচনের কোন বাজে উদহারণ হলে। কিন্তু সরকার সে সুযোগ একটু দেয়নি। নিরপেক্ষ নির্বাচনেই আইভীর জয়ে সরকারের জন্য হয়েছে বিশাল ইতিবাচক দিক।

নানা নাটকীয়তার পর তৃণমূলের মতামতকে প্রধানমন্ত্রী নৌকার দায়িত্ব সপে দিয়েছিলেন, সেই সেলিনা হায়াৎ আইভীও জয়ী হয়ে ভোটের পরদিন রাতে গণভবনে গিয়ে পাল্টা হাসিতে গর্বিত বিজয়ীর মনোভঙ্গি প্রকাশ করলেন। পাল্টা হাসিতে আইভীও বুঝিয়ে দিলেন, অর্পিত দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পেরে তিনিও গর্বিত, আগের থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসীতো বটেই।

ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থীকে ৭৯ হাজার ভোটে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মত হ্যাটট্রিক করা আওয়ামী লীগের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বুকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময়ে আইভী প্রধানমন্ত্রীকে একটি ফুলের নৌকা উপহার দেন এবং আইভীর কপালে চুমু দেন।

১৮ তারিখ আইভী’র হাতে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন তুলে দিয়েছিলেন হাসিনা। ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে শেখা হাসিনার হাতে যেন তারই প্রতিদান দিলেন আইভী।

বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনাও বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আস্থা রেখেছিলাম। বিশ্বাস ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে মানুষ নৌকা ও আইভীকে ভোট দিবে। কারণ বিগত দিনে আইভী অনেক উন্নয়ন করেছে। উন্নয়নের জন্যই তাকে ভোট দিয়েছে জনগণ।

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কিছু প্রকল্পের দাবি করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য কোনও দাবি করতে হবে না। আমি সারাদেশের উন্নয়ন করছি। নারায়ণগঞ্জে যা হয়েছে খুবই ভালো হয়েছে। এখন আইভী নির্বাচিত হওয়ায় উন্নয়নের কাজগুলো খুব দ্রুত হবে। আবার নতুন কাজও হবে। নারায়ণগঞ্জের মতোই আগামীতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ এক বর্ধিত সভা করে সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য তিন জনের নাম ঠিক করে। পরে তা কেন্দ্রী আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তবে সেখানে বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম দেওয়া হয়নি। নাম পাঠানো হয়েছে  মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান এবং বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের। পরে প্রধানমন্ত্রী আইভীকে মনোনয়ন দেন।

এর আগে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা, উন্নয়নের জন্য ১৯১  কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ  এবং গত ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে যে আইভী রয়েছেন সেটা বার বার প্রমাণিত হচ্ছে। আর সে কারণেই আইভীও বার বার তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর উপর নিজের আস্থার বিষয়টি বলে আসছেন। দেশের অনেক সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মর্যাদা দেওয়া না হলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে উপ মন্ত্রীর পদ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন। আর ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রীয় মোশাররফ হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ পাঠান।

এর মধ্যে আবার দ্যা এশিয়ান নামের একটি সাময়িকী দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী নারী মেয়রদের তালিকাতে সাত নাম্বারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নাম দেখা গেছে। ওই তালিকাতে এশিয়ার ২০ জন নারী মেয়রের নাম ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর