rabbhaban

বিবাহিত ছাত্রলীগ নেতাদের অব্যাহতি পত্র জমা, ছাত্রদলেও ‘বিবাহিতরা’


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, রবিবার
বিবাহিত ছাত্রলীগ নেতাদের অব্যাহতি পত্র জমা, ছাত্রদলেও ‘বিবাহিতরা’

ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের দোষারোপের রাজনীতি নেমে এসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে। ছাত্রদলের কপালে বাস পোড়ানো আর বিশৃঙ্খলার কালিমা লেপন করছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের কপালে লেপন করা হচ্ছে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোকে সহাবস্থান করতে না দেয়ার কালিমা।

এই বিতর্ক চলেছে ৯ ডিসেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের লাইভ টক শো ‘নারায়ণগঞ্জ কথন’ এর আলোচনা অনুষ্ঠানে। আলোচনায় অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রিয়াদ ও ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম রোকন। ৪২ তম এ পর্বে বিষয় ছিল নারায়ণগঞ্জের ছাত্র রাজনীতি।

জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ছাত্রলীগ নিয়ে অভিযোগগুলো বানোয়াট। দলমত নির্বিশেষে সকল ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে ছাত্রলীগ কাজ করে থাকে। ছাত্রদলের নেতারা পরীক্ষায় ফেল করে আসছে। অথচ অভিযোগ করা হয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয়া হয় নাই। পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ নিশ্চয় অন্যায় কিছু দেখেছে তাই ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা ফেসবুকে আন্দোলন করে। অথচ ছাত্রলীগ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে থাকে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপির সময় বাসায় ঘুমাতে পারি নাই। তেমন কিছুই আমরা করতে চাই না। ছাত্রদের সমস্যার জন্য ছাত্রদল আন্দোলন করতে পারে। তবে বিশৃঙ্খলা করলে আমরা প্রতিরোধ করবো।

ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন বলেন, তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলকে কোন অবস্থান করতে দেয়া হয় না। ছাত্রদের কোন কাজেই অংশ নিতে দেয়া হয় না ছাত্রদলকে। মুড়াপাড়া কলেজ, সফর আলী কলেজ সহ জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই অবস্থা। ছাত্রলীগ বসে নেই, তারা সব করতে পারে অথচ ছত্রদল একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দেয়া সহ ছাত্রদের কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে পারে না। কোথাও সহাবস্থানের সুযোগ নাই।

একই অবস্থা জাসদ-বাসদ এর ছাত্র সংগঠনগুলোর। তারা বর্তমান সরকারের অংশীদার হয়েও ক্যাম্পাসে আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারে না, করতে দেয়া হয় না।

কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ নেতা আমিরুল ইমন বলেন, ছাত্রদলের নেতারা মেধাবী। তারা ভাল ছাত্র হয়েও আজ কারা অন্তরীণ হয়ে আছেন। ছাত্রলীগ নেতারা এসব মেধাবীদের পিটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় এ কাজ চালাচ্ছে ছাত্রলীগ নেতারা। ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাদের মামলায় ঢুকিয়ে দেয়া এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

ছাত্রদল নেতা ইমন জেলার বিভিন্ন মামলার পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, হুলিয়া নিয়ে আন্দোলন করে চলছে ছাত্রদল। ছাত্রদল করার কারণে এই মামলাগুলো হয়ে আসছে। অন্যকোন অপরাধ নাই। পত্রিকায় দেখেছি ছাত্রলীগ কর্মীরা গাড়ীতে আগুন দিতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এটাই প্রমাণ করে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বর্তমানে।

ছাত্র নেতাদের বিয়ে করা প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, বিয়ের পিড়িতে বসার আগেই রিজাইন লেটার জমা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্র একসেপ্ট করলেই আমরা ছাত্রলীগ ছেড়ে দিব।

অপর এক প্রশ্নে বলেন, জেলার সব উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলার কর্মসূচীতে অংশ নেয়। তবে যানজটের কারনে আসতে দেরি হয় বলে অনেকের চোখ এড়িয়ে যায়।

অছাত্রদের সংগঠন কিনা এমন প্রশ্নে ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন বলেন, ছাত্রদলের নেতারা ছাত্র অবস্থায় সংগঠন করে আসছেন। অনেক স্টেপ আছে লেখা পড়ার। তারা সেই ধারা মেইন্টেইন করেই ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখে সংগঠন করছে। জেলার ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি আন্দোলন সংগ্রাম হওয়ার কারনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লাগছে। তাই হয়তো অনেক পদ বিবাহিতদের কর্তৃত্বে রয়েছে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
টক শো এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর