‘ভোগান্তির গালির ভাগ পুলিশের একারই’


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ০৮ জুন ২০১৮, শুক্রবার
‘ভোগান্তির গালির ভাগ পুলিশের একারই’

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের দায়সারা সংস্কারে একদিনে যেমন জনগণের ভোগান্তির শেষ থাকছেনা। তেমনি ভাঙাচোরা সড়কের কারণে জনগণের গালমন্দের শিকার হতে হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। তবে সড়কের এহেন বেহাল দশার জন্য যারা দায়ী সেই সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগ এবং তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা রয়েই যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সড়কটি নির্মাণের ৬ মাসের মাথায়ই আবারো বেহাল দশা দেখা দিচ্ছে। এবার সড়কটির নির্মাণ কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশেরই একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে তিনি সড়কটির সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যেখানে তিনি কয়েকটি ছবিও পোষ্ট করেছেন। যাতে দেখা গেছে কাদা ময়লা পানির মাঝেই পিচ ঢালা হচ্ছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় রুট হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা রুট থাকলেও উড়াল সেতুর (যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার) কারণে লিংক রোড দিয়েই মূলত লোকজন বেশী চলাচল করে। এছাড়া এই রোড দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে যাতায়াত করা যায়। প্রাইভেট কার ছাড়াও গণপরিবহনে এ রুটে যাত্রী সংখ্যাও বেশী। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সড়কটিতে যাতে পানি না জমে সেজন্য দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার ব্যাপী ড্রেনও নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগ। তবে সেই ড্রেন সড়কটির পানি নিস্কাশনের কোন কাজেই আসেনি। অপরিকল্পিতভাবে ও সমন্বয়হীনতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করার কারণে প্রতি বছরই সড়কটির বিভিন্ন স্থান পরিণত হয় খানাখন্দকে। যেকারণে প্রতি বছরই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছরই বর্ষা মওসুম আসতে না আসতেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমে পরিণত হচ্ছে খানা খন্দকে। লিংক রোডের চাষাঢ়া স্বান্তনা মোড় থেকে এবিসি স্কুল পর্যন্ত অসংখ্য খানা খন্দক রয়েছে। এছাড়া চাঁদমারী মাজারের সামনে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জেলা পরিষদ ও এলজিইডির মধ্যবর্তী স্থানে, সস্তাপুরে খন্দকার টাওয়ারের সামনে, শিবুমার্কেট, জাতীয় স্টেডিয়াম, জালকুড়ি এলাকাতে অসংখ্য ছোট বড় গর্ত ও খানা খন্দক রয়েছে। এতে করে গেল ৩ বছরে সড়কটি সংস্কারে ১২ কোটি টাকার উপরে খরচ করলেও এর সুফল জনগণ পায়নি।

সর্বশেষ গত ৮ মার্চ ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের। তিনি ওইসময় সংবাদকর্মীদের  বলেন, ‘রাস্তটি ভালো ভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ৮ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবায়ন কাল ৬ মাস ধরা হয়েছে তবে সেটা এপ্রিলের মধ্যে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে চাই। কারণ বর্ষায় জনগণের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দিন রাত কাজ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে করে তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়।’ মন্ত্রী আরো বলেন, কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিম্ন মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’

এদিকে প্রতিবছরই সড়কটি সংস্কারের নামে আইওয়াশ করছে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগ। সড়কটি যথাযথভাবে সংস্কার না করে কিছু নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় ফেলে জনগণের দুর্ভোগই কেবল বাড়িয়েছে। তাদের দায়সারা সংস্কারের কাজের সময়ে লিংক রোডের একপাশের সড়ক দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় কয়েকঘন্টা ব্যাপী তীব্র যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের। এখানে উল্লেখ্য লিংক রোডের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবের সামনে থেকে এবিসি স্কুল পর্যন্ত ডীপ ড্রেন নির্মাণ করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। যে কারণে সড়কটির একপাশ এমনিতেই সরু হয়ে প্রায়শই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে সড়কটির ভাঙাচোরার অবস্থার কারণে সড়কে দায়িত্বরত পুলিশের উপরেই সাধারণত ক্ষোভ ঝেড়ে থাকেন ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ। যদিও সড়কটির দায়সারা সংস্কারের দায় সড়ক ও জনপথের। লিংক রোডে যেমন বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তেমনি কয়েক হাজার ছোট বড় গর্তের কারণে ছোট আকারের যানবাহনে চলাচলরত যাত্রীরা বিশেষ করে সিএনজি, লেগুনা, টেম্পু ও অটোরিকশার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগের শিকার হন। প্রবল ঝাঁকুনিতে তাদের ত্রাহি দশা দেখা দেয়। তবে এতদিন সাধারণ মানুষ গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসলেও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান যিনি ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “১৮ কোটি টাকায় গত কয়েক মাস ধরে কচ্ছপ গতিতে চলা নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডে আজকের কাজের নমুনা দেখেন। কাদা ময়লা পানির মাঝেই পিচ ঢালা হচ্ছে। নিত্য ভোগান্তি মানুষের। যদিও ভোগান্তির গালির ভাগ পুলিশের একারই। কিছু বলার আছে কি!! নির্মাণ কাজের কঠোর তদারকি দরকার। কোন রাস্তাই ৬ মাসের বেশি থাকছেনা।”

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
স্যোশাল মিডিয়া এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর