rabbhaban

ঈদ সামগ্রী বিতরণে চলছে বৈষম্য


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ঈদ সামগ্রী বিতরণে চলছে বৈষম্য

ঈদ আসন্ন। এই ঈদে আশপাশের সকলের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভগি করতে সকলেই তৎপর। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিত্তবান এবং রাজনীতিকেরা। তবে সমাজের যুবকরা পিছিয়ে নেই। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণীর কাছে গিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সমাজের নি¤œ শ্রেণী কিছুটা হলেও ঈদ আনন্দে শরিক হতে পারছে। সমাজের সামগ্রিক না হলেও কিছুটা উপকার হচ্ছে যা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই। তবে বিভিন্ন সংগঠন বা ব্যক্তির দেয়া এই ঈদ সামগ্রীর বেশির ভাগ চলে যাচ্ছে একটি গোষ্ঠীর হাতে। যারা চটপটে, চালাক এবং পরিচিত তারাই পাচ্ছে এসব সংগঠনের সহায়তা। যারা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তারা রয়ে যাচ্ছে একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে। তাদের নেই কোন রাজনৈতিক পরিচয়, নেই তাদের কোন পরিচিতি, নেই তাদের ঘরে কোন বড় সন্তান। রয়েছে বৃদ্ধ-রুগ্ন এবং অসাহায় শিশু ও নারী। হাটে-ঘাটে, মসজিদ, ক্লাবে নেই তাদের কারো যাতায়াত। তাদের উপার্যনের মানুষটি ভোরে বের হয়ে গভীর রাতে ফিরে। যেন তেন কষ্ট করে দিন পার করে। উপার্যন থেকে ফিরে ক্লান্ত দেহে আর বের হয় না। তাকে চিনলেও সমাজের কেউ তার কথা মনে রাখে না। সময়ের অভাবে সমাজের পতিদের কাছেও পৌছতে পারে না তারা। অলক্ষে আর অবহেলায় রয়ে যায় এসব পরিবার। ঈদ তাদের ঘরেও আসে তবে তা নিরবে কেটে যায়।

তাদের কথা ভাববার সময় কথায়। রাজনীতিকদের ঈদ সামগ্রীর আয়োজন হয়। যাদের সক্ষমতা তারাই ভিড় ঠেলে প্যাকেট হাতে নিতে পারে। আবার নিজের শক্তিতে ভিড় মারিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়। আর যদি ধরা যায় স্লিপের মাধ্যমে বিতরণ, তাহলে স্থানীয় নেতাদের পোয়া বারো। তাদের আত্মিয় স্বজন সকলেই হয়ে যায় দুস্থ এবং আসহায়। এর বাইরেতো রয়েছে নিজেদের কর্মীরা। এই স্লিপ কষ্ট করে অসহায়দের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের হাতে পৌছে দেয়া কার দায় পড়েছে। নিজেদের পকেট সর্বাগ্রে সমাধান।

তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে অনেক। যারা সমাজের প্রান্তিক শ্রেণী তাদের খুঁজে বের করার উদাহরন। এমন উপকার ভোগীর সংখ্যা সব সময় সীমিত রয়ে যায়। ইচ্ছায় হোউক আর প্রতিকুলতার কারনেই হউক।

আবার ফটোসেশনের গ্রুপতো রয়েছেই। দুধ-চিনি বিলাবে ১০ টি ছবি তুলবে ১০০ টি। প্রচার-প্রচারণা এমন ভাবে করবে যেন অসহায় দের সাহায্য করে ভসিয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, মাইক কোনটাতেই কম যায় না তারা।

একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক সংগঠন গজিয়ে উঠে এই সময়ে। তারা বিভিন্ন ভাবে অসহায়দের সাহায্য করে থাকে। অনেকে আগে থেকেই নির্ধারিত মানুষের কাছে সাহায্য পৌছে দেয়। আবার অনেকে উপস্থিত মানুষের কাছেই তাদের সাহায্য বন্টন করে থাকে। এতে দেখা যায় একই মানুষ কয়েক স্থান থেকে সহযোগীতা পেয়ে থাকে। আবার সমাজের অনেক পরিবার আছে তাদের কাছে কেউ সাহায্য পৌছায় না। যাদের শক্তি-সামর্থ রয়েছে তারাই সাহায্যর দৌড়ে এগিয়ে থাকে। আর যারা রুগ্ন তারা এই দৌড়ে কখনই পায় না সাহায্যের হাত।

এজন্য দরকার সুষ্ঠ বন্টন ব্যবস্থা। যাতে দরিদ্র সকলেই পবে এই সহায়তা। তবে তার আগে দরকার কেন্দ্রীয় ভাবে বন্টন এবং মনিটরিং সেল গঠন।  

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর