জনস্বার্থেই কঠোরতা বেছে নিতে হবে সরকারকে


রণজিৎ মোদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ৩০ জুন ২০১৮, শনিবার
জনস্বার্থেই কঠোরতা বেছে নিতে হবে সরকারকে

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, বহু কাঙ্খিত পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ করে যোগাযোগ ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আনবে। বর্তমান সরকারের আগামী পরিকল্পনা দেশের সর্বাধুনিক অবকাঠামোয় ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ। জাতির গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শতভাগ চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন বর্তমান সরকার। উন্নত দেশ ও অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বর্তমান সরকারি দল আওয়ামীলীগকেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ৬৯ বছর ধরে আওয়ামীলীগ জাতীয় রাজনীতির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের যথেষ্ট অর্জন রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা মেধা, প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সত্যিই একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমরা গর্বিত। স্বাধীনতার পরও বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের কাছে তলাবিহীন দেশ। বর্তমান সরকার ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে তলাবিহীন বাংলাদেশকে উন্নতের শিখরে নিয়ে গেছে। বিগত ৯ বছরে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়ণশীল দেশে পরিণত করেছে যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয়। কিন্তু তারপরও সরকারের এতো উন্নয়নের মাঝেও হাইব্রীড নেতাদের কর্মকান্ডের জন্যই সরকারের এতো সুনামের পরেও সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে।

পিছনে গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত শক্তি বর্তমানে একের পর এক আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি সংসদ ছেড়ে আগাম নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। নানাভাবে ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। অপরদিকে বিভিন্ন এলাকায় চলছে গ্যাস সংকট আর বিদ্যুতের লোডশেডিং। লো-ভোল্টেজের কারণে পানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে।

শিল্প-বন্দর-শহর নারায়ণগঞ্জ ও তার আশপাশ এলাকায় গ্যাস নিয়ে জন ক্ষোভ হয়েছে কয়েকবার। বিদ্যুৎ আছে তো গ্যাস নেই। গ্যাস আছে তো বিদ্যুৎ নেই। কিছুদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালই ছিল। বর্তমানে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে কথা উঠেছে। পুরনো সেই ভূতের আঁচড় পড়লো কিনা এ নিয়ে অনেকেই সন্দেহ করছে।

কৃষি মৌসুমে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থেই কৃষির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং অনেকেই মেনে নেয়। কিন্তু বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং গ্রাহকরা মেনে নিতে নারাজ। ইতোমধ্যেই আবার মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কথা নিয়ে কথা উঠেছে। আর এ সুযোগকে সামনে রেখে পরিবহন মালিকরা এক টাকা গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পাঁচ/সাত টাকা বাস ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাসা-বাড়ির মালিকরা বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করেছে দুইশত টাকা থেকে পাঁচশত/হাজার টাকা। যারা সামান্য বেতনে শহর বা শহরতলীতে চাকরি করছে। তাদের বর্তমান নাক তলায় তলায় অবস্থা। না পারে সইতে না পারে বলতে। স্বল্প আয়ের কর্মজীবি মানুষদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। “মরণ রে তু মম শ্যাম সম অবস্থা”।

আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম সরকার দ্র্রব্যমূল্য বিষয়ক এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, এদেশের মানুষ উন্নত রাষ্ট্রের নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করে না। দ্বিতীয় চন্দ্র গুপ্তের রাজত্বকালে ফা-হিয়েন নামে এক চীনা পরিব্রাজক এদেশে আসেন। তার বর্ণনায়, সে সময় অনেক হাসপাতাল ছিল। সেখানে রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসা করা হতো বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে সরকারী হাসপাতালের স্বল্পতায় বেসরকারী হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা মান নি¤œমুখী। কেবল অর্থ চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দরিদ্র সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়ে সরকারকে অবশ্যই ভাবতে হবে।

পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে মমতা ব্যানার্জি এক হুঁশিয়ারীতে বলেছেন, চিকিৎসকরা যদি কোন রোগীর সাথে অশোভন আচরণ করেন তবে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনগণের সরকারকে জনগণের খাত অবশ্যই ভাবতে হবে। চেয়ার দখলের রাজনীতি আজ অনেক ক্ষেত্রেই অচল হয়ে আসছে। মানুষ নেতাকে শ্রদ্ধা করে না, মানুষ নেতার নীতিকে শ্রদ্ধা করে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সরকার। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই দুঃস্থ ভাতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে বেতন স্কেল নির্ধারণ, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদানসহ বহুমুখী উন্নয়ণ কর্মকান্ডের স্বাক্ষর রেখেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারপূর্বক শাস্তি বিধান, পাশাপাশি যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে ঐতিহাসিক এ সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। তারপরও মানুষ খেয়ে পড়ে একটা সুন্দর জীবন আশা করে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যারা রয়েছেন বিষয়টি তাদের ভুলে গেলে চলবে না। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরলে জনভোগান্তি বৃদ্ধি পাবে।

এমপি শামীম ওসমান সম্প্রতি এক কর্মীসভায় বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ১০০ জন করে আওয়ামী লীগের কর্মী বাহিনী থাকবে। এদের পরিবারে কেউই অন্য দলের লোক হতে পারবে না। আমার পিউর আওয়ামী লীগ চাই।

শামীম ওসমানের এসব প্রত্যয় তাকে দলের জন্য যে ‘নির্ভরযোগ্য নেতা’ করেছে, তার আভাস পাওয়া যায় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের তৈরি প্রতিবেদনের এক জায়গায় বলেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের পদধারী অনেক নেতার চেয়ে শামীম ওসমানের কাছে আওয়ামী লীগ বেশি নিরাপদ।

বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা শামীম ওসমানের দ্বারস্থ হলেও বর্তমান সময়ে হাইব্রিড আর ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ইস্যুতে শামীম ওসমান কিছুটা আপোষহীন। সম্প্রতি ওই সংস্থাটি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন নেতার একটি প্রোফাইল তৈরি করেছেন। ওই প্রোফাইলে উঠে এসেছে বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমপি, মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সাবেক এমপিদের কর্মকান্ডসহ নানা হালচিত্র। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের প্রদান করা পরামর্শ সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইতোমধ্যে। আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশ গড়ার কাজে ব্যাপক কাজ করবে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য এদেশের নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অভিযোগের অন্ত নেই। আর এই সুযোগকে পুঁজি করে বিভিন্ন স্তরে ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট, আড়ৎদারদের দাদন ব্যবসা, পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণেই বেসামাল হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। ফসলের মাঠ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত বাজারেও খাজনার সাথে মাল বিক্রি করতে হচ্ছে দালালদের কারণে। এসব দালাল আর চাঁদাবাজি বন্ধ করবে কে? এক শ্রেণীর পুলিশও চাঁদাবাজের পক্ষে কাজ করে। পথে পথে সেইসব পুলিশকে সালামের নামে চাঁদা দিতে হচ্ছে মালামাল পণ্য পরিবহকারীদের। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রেণে রাখতে দোকানে পণ্যমূল্য টানানোর বিধান রয়েছে। বাজার নজরদারীর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারপরও ব্যবসায়ীদের চরিত্র সংশোধন হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হলে বর্তমান সরকারের সকল অর্জন মূল্যহীন হবে।

অতীতের ইতিহাস তাই বলছে। সত্যি কথা বলতে কি! গত রমজানের পূর্বে যারা দ্রব্যমূল্য নিয়ে আহামরি চিৎকার করেছেন। সেই সব ফায়দাবাজ ব্যবসায়ীদের সরকার এবার সে সুযোগ দেয়নি। বিয়ের রাতে বিড়ালের মাথায় বাড়ি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামীলীগ সরকার ও তার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ বাজার মনিটরিংয়ে যথেষ্ট তৎপর ছিলেন। যার ফলে খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই ক্রেতার নাগালের মধ্যে ছিল। স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই কার্যকরী এ উদ্যোগ গ্রহন করাতে বাজার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন, পাশাপাশি ভবিষ্যতে এরকম সকল ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে আহবান জানান। কারণ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাতির ভাগ্য বিধাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাঙ্গা ঘরের বেড়া বাঁধতে বাঁধতে অনেকের অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। এখন চালে ছাউনী দেওয়ার সময়। কারণ, সময় কারো জন্য বসে থাকে না। সরকার কোনও যুক্তিতেই দ্রব্যমূল্যের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে না। কাজেই জনগণের জন্য উপযোগী জনবান্ধব বাজার সৃষ্টি করতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। দিন বদলের জন্য এক কথায় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে যা যা দরকার তাই করতে হবে। এখানে কোন আপোষ নয়, জনস্বার্থে কঠোরতাকে বেছে নিতে হবে কঠিন পথের সাধকের ন্যায় সরকারকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
মন্তব্য প্রতিবেদন এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর