মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার
 মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চরাঞ্চল বক্তাবলী ইউনিয়নের চরগরকুল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান গাজীকে (৬৫) দীর্ঘদিন ধরেই কিডনী রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে করতে তার পরিবার বর্তমানে নিঃস্ব হওয়ার পথে। তাই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান গাজীকে বাঁচাতে সহোদর এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানসহ বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা জন্য একদিন অস্ত্র হাতে শক্রর মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ জয় করেছিলেন ফতুল্লার চরাঞ্চল বক্তাবলী চরগরকুল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান গাজী (আইডি নং-০৩১১০১০০৯৫)। দেশের মাটি রক্ষায় জয়ে বীরের ভূমিকা পালন করলেও এখন সেই গাজী জীবন যুদ্ধে হারতে বসেছেন। বর্তমানে তিনি মৃত্যুপথযাত্রী। চরগরকুল গ্রামে ১৪ শতাংশের ওপর বসত বাড়ি ছিল। কিন্তু কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একের পর এক বিক্রি করে দিয়েছেন নিজের ফসলি জমি। বসত বাড়িটি এখন আর ১৪ শতাংশের ওপর নেই। ৭ শতাংশ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যে চিকিৎসা সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা পেলেও চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর বিপরীতে যৎ সামান্য। সুবিধা পাওয়ার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ধর্ণা দিতে গিয়ে হতে হয়েছে নানা হয়রানির শিকার। প্রতিমাসে ৯-১০ টি ডাইয়োলেসিস করতে খরচ হয় ৩২-৩৫ হাজার টাকা। ওষুধ লাগে ৮-১০ হাজার টাকার।  রয়েছে বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট ফি। গত দুই বছরে গেরস্থ এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ মেটাতে ২৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে খরচ করে ফেলেছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। জীবনে শেষ সম্বল বসতভিটা আর বিক্রি করবে কিনা এখন এই শংকায় দিন কাটাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা গাজী ও তার পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মহসিন গাজী জানান, “বাবার মুখে শুনেছি তার জীবনে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের অনেক ঘটনা। বর্তমান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী সঙ্গে বাবা যুদ্ধ করেছেন। অনেক সময় তিনি চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু একজন মানুষকে কতবার বিরক্ত করা যায়। আত্ম সম্মানের কারণে সবার কাছে সহযোগিতা চাইতে না পেরে ফসলি ২০ শতাংশ জমি ও বসতবাড়ির ১৪ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ বিক্রি করে দিয়েছি। বাবার মুখে এখন আর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বের কথা শুনি না। চোখের সামনে নিজের অসুস্থতার জন্য একে এক সব সম্পদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। জীবনের শেষ বেলায় শুধু বাবা নীরবে নিভৃতে কাঁদে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বাবার চিকিৎসা সুবিধা পেতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারিনি। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঠিকানা দিয়ে বহু হয়রানি হয়েছি। চিকিৎসা করব না হয়রানি হব। পরে আর কি করার। নিজেদের যা আছে  কৃষি জমি ও বসতবাড়ি বিক্রি করে চিকিৎসা শুরু করি দুই বছর আগে। তবে এখন আর পারছি না। তবে বাবা এখন বলে তোরা আমাকে বিষ দিয়ে মেরে ফেল। অন্তত শেষ বসত বাড়ির সাত শতাংশ জায়গা আমার জন্য বিক্রি করতে হবে না”।

মহিসন আরো বলেন, আমি  একটি কাপড়ের দোকানে চাকরী করি।  আমরা ৩ ভাই ও দুই বোন। বোনগুলোর বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ভাই বিদেশ ফেরত । এখন বেকার। তারা অসহায় বাবাকে বাঁচাতে এমপি সেলিম ওসমান ও এমপি শামীম ওসমানসহ বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন। সহযোগিতা পাঠাতে বা যোগাযোগ করতে পারেন আইএফআইসি ব্যাংক (হিসাব নং-১০০৩১০৫৬৩৫৮১১), বিকাশ নম্বর (পারসোনাল) ০১৯০৬৩২৯১২৪।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
মানুষ মানুষের জন্য এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর