শামীম ওসমানের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনে আলেম ইমামদের ঐক্যমত


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮, রবিবার
শামীম ওসমানের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনে আলেম ইমামদের ঐক্যমত

আসছে ঈদ উল আযহাতে নারায়ণগঞ্জে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনে এমপি শামীম ওসমানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একমত পোষণ করেছেন বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা প্রধানগন। তাঁরা বলেছেন, ‘উদ্যোগটি সাধুবাদ পাওয়ার মত। এখন এটার বাস্তবায়ন করতে পারলে আরেকটি ইতিহাসের মাইলফলক হবে নারায়ণগঞ্জ যেটা ২০০০ সালে টানবাজার পতিতাপল্লী উচ্ছেদের পর সৃষ্টি হয়েছিল।’

১২ আগস্ট রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে ঈমাম ও মাদ্রাসা প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এমপি শামীম ওসমান ছাড়াও জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া সহ নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ঈদগাহে মুসল্লীদের জায়গা হয় না। তাদেরকে সে কারণে পাশের সড়কে নামাজ পড়তে হয়। এর এতে করে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। সে কারণেই আমাদের ইচ্ছে যেন একটি বৃহৎ জামাতের ব্যবস্থা করা যেখানে মানুষকে রাস্তায় নামাজ পড়তে হবে না বৃষ্টিতেও ভিজতে হবে না রোদে পুড়তে হবে না। আর যত বড় জামাত হতে মানুষের দোয়া কবুল হবে।’

শামীম ওসমান ইমামদের উদ্দেশ্য বলেন, সামনে কুরবানী ঈদ। আমরা কে কয়দিন বাঁচবো জানি না। এখন বক্তব্য দিচ্ছি কিছুক্ষণ পরে নাও থাকতে পারি। দুনিয়াতে আসতে একটা নিশ্বাস নিলাম যাওয়ার সময় ছাড়লাম এই হলো আমাদের বাহাদুরি। আপনার হলেন সমাজের নেতা। আপনাদেরকে আহবান জানানো হয়েছে এই কারণে আমার ইচ্ছা জামাত করা এবং এটা কুরবানী ঈদ থেকে শুরু করবো।’

শামীম ওসমান বলেন, প্যান্ডেলের খরচ কেউ চাইলে সহযোগিতা করতে পারেন আর তা নাহলে আমি আছি এবং বড় ভাই সেলিম ওসমান আছেন। এত সুন্দর আয়োজন করতে চাই যেন ঢুকার সাথে সাথে মনে হয় ইবাদত করতে এসেছি। এবারের কুরবানী ঈদে শামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম ও ঈদগাহ মিলে এক জামাত হবে এবং আগামী রমজান মাসের পরে ওসমানী স্টেডিয়াম, শামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম ও ঈদগাহ মিলে এক জামাত হবে। যাতে একসাথে দেড়লাখ দুইলাখ মানুষ নামাজ পড়তে পারে।

শামীম ওসমান বলেন, ওসমানী স্টেডিয়াম, শামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম ও ঈদগাহ মিলে এক জামাত করতে পারলে দেড় লাখিয়া ঈদগাহ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের নাম আসবে। এর আগে কাবা শরীফ ছুয়ে আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেছিলাম নারায়ণগঞ্জ কলঙ্কমুক্ত করার জন্য। তখন হীরা মহলে আলেমদের নিয়ে সভা করে আল্লাহর রহমতে ও আমার নেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে সেই কাজে সফল হয়েছিলাম। নারায়ণগঞ্জকে এখন কেউ পাপের নগরী বলতে পারে না। আলেমরা আদেশ উপদেশ দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের মতো ভাল লোক না। আমি আল্লাহকে পেতে চাই। এমপি মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি এগুলো কিছু না। আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমার নেত্রী শেখ হাসিনাকে শিখিয়েছেন রাজনীতি ইবাদত। আল্লাহ কুরআনে বার বার বলেছেন মানুষের সেবা কর। কোনো রাজনীতি উদ্দেশ্যই নেই। আপনারা এটা ভাববেন না। আমি মসজিদে গিয়ে বক্তৃতা দেয় না। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আমাকে দাওয়াত করা হয়। আমি ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয় না। আমি ভন্ডামী পছন্দ করি না, আমি মুনাফেকি পছন্দ করি না। ভোট ভিক্ষা চাই না। ভিক্ষা একমাত্র আল্লাহর কাছে চাই। একটা বড় জামাত করতে চাই নারায়ণগঞ্জে। বিএনপি সব নেতারা আছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা আছেন, আসুন সবাই মিলে বৃহত্তর কাজে শরীক হই। যখন মারামারির সময় তখন মারামারি করবো। এখন সবাই মিলে একটি সওয়াবের কাছে অংশগ্রহণ করি।

মতবিনিময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ফজলুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মোহসীন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
ধর্ম এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর