paradise

ডিএনডিতে ২৬ জনের কারণে ২২ লাখ লোকের সমস্যা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮, রবিবার
ডিএনডিতে ২৬ জনের কারণে ২২ লাখ লোকের সমস্যা ফাইল ফটো

ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাসফিকুল আলম ভূঞা বলেছেন, ‘২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তবে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএনডিতে জলাবদ্ধতা থাকবে না বলা যায়। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ডিএনডিতে ২৪ দশমিক ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।’

১২ আগস্ট রোববার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার্স মেজর কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

লে. কর্ণেল মাসফিকুল আলম ভূঞা জানান, ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর মেয়াদ শেষে হবে আগামী ২০২০ সালে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের বেসিক সমস্যা সমাধান করার পর আর পানি জমবে না। আমরা সেই ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও এ কাজের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার যে ব্যয় ধরা হয়েছে সেটাও বাড়বে।

মাসফিকুল আলম ভূঞা জানান, মূলত এখানে ড্যাম্পিং নেই, খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসার সহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে। যার জন্য পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও উচ্চ আদালত থেকে ২৬জন অবৈধ স্থাপনার মালিক আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে এসেছে। এ ২৬ জনের জন্য ২২ লাখ লোকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এসব কিছুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রকল্পের অধীনে ৯৪ কিলোমিটার খালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের ৫৪ কিলোমিটার বুঝিয়ে দিয়েছে। এখনও ৪০ কিলোমিটার বুঝিয়ে দেওয়ার বাকি। এর মধ্যে আমরা ৫০ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করে ফেলেছি।

সীমানা নির্ধারণে (ডিমারকেশন) প্রকল্পের কাজের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ্যকরে মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঞা বলেন, ডিমারকেশনের জন্য কাজে দেরি হচ্ছে। ডিসি অফিস ও কানুনগোপ এসে জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু অনেক পুরানো কাগজ হওয়া অনেক সময় না পাওয়ার কারণে এতে বিলম্ব হয়। এছাড়াও সরকারী অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে ঠিক ভাবে সহযোগিতাও পাচ্ছি না।

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের মৌজা :
আটি সিএস দাগ নং-৬৯ দখল করে রাখা ব্যাক্তি চাঁন মিয়া হাইকোর্টে আপিল করে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে পকল্পের কাজে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কোর্টে তার অপর একটি মামলায় আদালত স্থিতি অবস্থা জারি করেছে।

হাইকোর্ট, ঢাকা জর্জ কোর্ট ও নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা অন্যান্য আরও ২৪ টি মামলা হলো- আটি সিএস দাগ নং-৬৬, বাদি- বায়তুল আমান জামে মসজিদ, আটি সিএস দাগ নং-৫৮ ও ৫৯ বাদি- আব্দুল জব্বার, আটি সিএস দাগ নং-৫৪ মো. নুরুজ্জামান, আটি সিএস দাগ নং-৩০ মো. সাদেক মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩২৮ মো. মোহন মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩১৭ ও ৩১৯ দখল করে আছে খোরশেদ আলম, প্যারাডগার আর এস দাগ নং-২০০৬ ও ২১০৭ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, খরদ্দো ঘোষ পাড়া সিএস দাগ নং-১২৯ কাজি হারুনর রশীদ, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং-১৯৮ হাজি আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং ১৯৭ আতিক মুরশিদ খান।

এদিকে ফতুল্লাধীন দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৯ হাফিজ মোহাম্মদ রহমান, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৪২ হাজী মো. হাজি মো. হাফিজ উদ্দীন হাওলাদার ও ফারুক আহমেদ, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৫ হাজী মো. হাফিজ উদ্দীন হামদা, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৫ দেলোয়ার হোসেন, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৪ হারুনর রশীদ ও ঢাকা ডেমরা থানাধীন মাতুয়ায়িল সিএস দাগ নং-৫২০৯, ৪৭৮১, ৪৭৬১ মোঃ মাইদুল ইসলাম, গোগ দক্ষিণ সিএস দাগ নং-৩১১ জাহানারা বেগম, পাড়া ডগাইর সিএস দাগ নং-২২২ ফিরোজ খানের একটি মামলা ও অপর একটি লিগ্যাল নোটিশ, সিএস দাগ নং-২৯৮ ফারুক আহদেম, আটি সিএস দাগ নং-৬৯ ফিরোজ আহমেদ, আরএস (সিএস দাগ নং উল্লেখ করা হয় নাই) মাইনুল হোসেন।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর