rabbhaban

গোপন আড়াল করতেই আলিফকে হত্যা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০১:৫৯ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রবিবার
গোপন আড়াল করতেই আলিফকে হত্যা!

নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকার ৫ বছরের শিশু শিহাবউদ্দিন আলিফ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো কোন কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়েই চলছে তদন্ত। এর মধ্যে পারিবারিক শত্রুতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিহত আলিফের বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে কারো কোন শত্রুতা ছিল না সেটাই এখন সামনে আনা হয়েছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, গোপন কিছু আড়াল করতেই হয়তো আলিফকে হত্যা করা হতে পারে। কারণ যদি পরিকল্পিত হতো তাহলে আগে পরে হত্যা না করে আলিফের বাবা আলমগীর হোসেন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পরদিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে যা অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করছে।

ওই সূত্রটি আরো জানান, আপাতত সবকিছু অনুমান নির্ভর হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর কেউ একজন নিহতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে হত্যাকান্ডের মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আলিফের পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ অবস্থায় শোকার্ত পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

নিহত আলিফের বড় বোন শহরের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল মাউন্ট রয়েল একাডেমির চতুর্থ গ্রেডের ছাত্রী সুমাইয়া জানায়, তার শিশু ভাইতো কোনো অপরাধ করেনি। তাদের পরিবারেরও কোনো শত্রু।

তার প্রশ্ন, কি অপরাধে এবং কেন তার শিশু ভাইকে এভাবে শ্বাসরোধ করে ও নির্যাতন করে হত্যা করা হলো? সে কিছুতেই এই হত্যাকান্ডকে মেনে নিতে পারছে না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই নাবালিকা শিশুটিও ছোট ভাইয়ের খুনীদের ফাঁসির দাবি জানায়।

স্বজনরা ও এলাকাবাসী বলছেন, আলিফের প্রবাসী বাবা কিংবা পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের কারো সাথেই কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। ১২ বছর যাবত এই এলাকায় বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও কারো সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সৌদি আরবে প্রবাসে থাকলেও প্রতি বছরই দেশে আসেন। এলাকার সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো: কামরুল ইসলাম জানান, মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উলেল্ল, গত ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় একই মহল্লার প্রতিবেশীর বাড়ির ভাড়াটের ঘর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় আলিফের রক্তাক্ত লাশ। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ঘরের ভাড়াটে সম্রাট ওরফে রিপনকে আটক করলেও মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি অহিদ মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মগোপনে যায়।

আলিফকে চাঁদপুর গ্রামে সমাধিস্থ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয়।

শিহাবউদ্দিন আলিফ (৫) হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী অহিদ ও রিপন ওরফে সমরাটকে আসামী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিপন বৃহস্পতিবার রাতেই আটক হন।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে আলিফ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় জড়িত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে পুলিশ কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকাতে রেখেছে।

জানা গেছে, শিহাবউদ্দিন আলিফ এলাকার প্রতিবেশীদের কাছেও ছিল আদরের পাত্র। বাড়ির বাইরে বা প্রতিবেশী নান্নু মিয়ার ছেলে ফাহাদের সাথে খেলাধুলাতেই কাটতো তার দিনের বেশীরভাগ সময়। আলিফদের কয়েক বাড়ি পরেই নান্নু মিয়ার বাড়ি। নান্নু মিয়া সম্পর্কে আলিফের ফুফাতো ভাই।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অহিদের বাড়ি নোয়াখালী বলে সে এলাকাবাসীর কাছে পরিচয় দিতো। অহিদ বা রিপনের কাউকেই এর আগে এই এলাকায় দেখেননি তারা। গত দেড় মাস আগে অহিদ প্রথমে এসে খোকনের ভাড়া বাসার একটি রুমে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিন পর রিপনকেও নিয়ে আসেন। তাদের বাড়িওয়ালা খোকনের সুপারিশে ঠিকাদার নান্নুর কাছে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজও শুরু করে। কিন্তু সে কাজে খুব বেশী উদাসীন হওয়ায় নান্নু তাকে বেশীদিন কাজে রাখেনি। এরপর থেকে সে কী করতো তা এলাকাবাসীর কারও কাছে সঠিক তথ্য নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর