সহসাই ‘প্রকাশ’ হচ্ছেন না সেই জাকির খান


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার
সহসাই ‘প্রকাশ’ হচ্ছেন না সেই জাকির খান

নারায়ণগঞ্জে সহসাই প্রকাশ হচ্ছেন না আলোচিত জাকির খান যিনি এক সময়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। আবারও জাকির খান ব্যাকফুটে যেতে বসেছেন। ভবিষ্যত রাজনীতিও নিয়ে শুরু হয়েছে শংকা।

প্রসঙ্গত গত বছর পলাতক সন্ত্রাসী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান ও তার আরো ৩ সহযোগীকে ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এর আগে সন্ত্রাসমূলক অপরাধ দমন আইনে নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল জাকির খান সহ ৪ জনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড সহ প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ২ বছর করে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ২৪ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে দেওভোগ বাংলা বাজার এলাকায় জাকির খান, ফরিদ, শিপন ও বেনজির মোর্শেদ সহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী পিস্তল, শটগান, পাইপ গান সহ অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে এমএস কবির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন কবিরের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবিতে দেওভোগ বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ২৬ জুলাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় সন্ত্রাসী আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসমূলক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ১৯৯৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসমুলক অপরাধ দমন আইনে নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসমুলক অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল জাকির খান সহ ৪ জনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড সহ প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ২বছর করে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছিলেন। পরে গত বছরের ১৩ এপ্রিল উচ্চ আদালতে আপিল করেন আসামীরা। গত ২৮ জুলাই এ রায় ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালে নাসিম ওসমানের হাতে ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজে যোগদানের মাধ্যমেই জাকির খানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সাথে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাঁধলে কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে সে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে দেওভোগ এলাকার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্ধর্ষ হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে উঠে জাকির খান। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মাথায় কাশীপুর বাংলা বাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয় এবং জেলে যায়। এরপর পুরো আওয়ামীলীগের ৪ বছর জাকির খান থাকে জেলে। ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস জেলে থাকে জাকির খান। ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ির গুলিতে নিহত হয়। এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পর সে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে  যায়। পাড়ি জমায় থাইল্যান্ডে। নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার বাহিনী নিয়ন্ত্রন বজায় রাখে বিসিকের গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসার। জাকির খানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে জেলার বিভিন্ন থানায়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ‘গ্রেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেল দিলেও কয়েক বছর আগে জাকির খান চলে আসেন ভারতে। তবে তিনি প্রায়শই এখন দেশেও আসছেন এমন খবরও আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর