নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড়


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড়

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দে সবচেয়ে বেশি গাঁ ভাসায় আমাদের সন্তানরা, শিশুরা। তাদের আনন্দেই যেন পূর্ণতা পায় ঈদ। ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদের দিন কুরবানি ও পশু জবেহের জামেলা থাকায় ঈদের পরদিন শহরবাসী সময় পান ঘুরে বেড়ানোর। দিনটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়ে যান পার্ক বা এদিক সেদিক ঘুরতে।

২৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেলের পর থেকেই মানুষ বের হয়ে ঘুরতে। শহরের নীরব পার্কগুলো মানুষের কোলাহল ও মিলনমেলায় পরিপূর্ণ হতে শুরু করে। মূলত শহরে তেমন ঘুরে বেড়ানোর মত কোন স্থান না থাকায় পার্কগুলোতেই ঘুরে বেড়ান সাধারণ মানুষ। এখানে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন। 

শহরের অদূরেই পঞ্চবটি অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক, অ্যাডভেঞ্চার ওয়াটার ওয়ার্ড, চৌরঙ্গী পার্ক, নম পার্কে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি পার্কেই মানুষের মিলনমেলায় পরিনত হয়। পার্কগুলোতে প্রবেশের পথেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন।

এবারই প্রথম পঞ্চবটি অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কের নতুন সংযোজন অ্যাডভেঞ্চার ওয়াটার ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে পার্কের সাথে। নতুন এই আকর্ষনে সকলেই যাচ্ছেন সেখানে। ডিজে গানের সাথে তপ্ত গরমে গাঁ ভাসিয়ে কিছুক্ষন পানিতে নাচানাচির জন্য উঠতি বয়সীদের বেশিরভাগই সেখানে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া শহরের নদীর পাড়গুলো, ওয়াকওয়ে, চাষাঢ়া, খানপুর, ৫ নং ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই শহরের ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও ভিড় করছেন, নিচ্ছেন বিভিন্ন রকমের মজাদার খাবারের স্বাদ।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে প্রাচীন বাংলার রাজধানী  সোনারগাঁওয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের  উপচে  পড়া ভীড়। ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে এবার বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে  বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘর), বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিতে।

ঈদের ছুটিতে বিনোদনের খোঁজে সোনারগাঁও জাদুঘর,বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিসহ  সোনারগাঁওয়ের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ছিল  সোনারগাঁও জাদুঘর প্রাঙ্গন। আগত দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে জাদুঘর কতৃপক্ষকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। দর্শনাথীদের নিরাপত্তার জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ  রেখেছিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা । তাছাড়া  দর্শনাথীদের আনন্দ বিনোদনের জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আয়োজন  করে দুদিন ব্যাপী ঈদ উৎসব। দর্শনার্থীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে  উপভোগ করেছেন এসব আনন্দ বিনোদন।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনাথীদের চাপে জাদুঘরের আশপাশের সড়ক গুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এদিকে  বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সারাদেশ থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে তাজমহলে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।তবুও এখানে আসা দর্শনাথীদের আনন্দের কোন কমতি ছিলনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে নির্মল প্রকৃতির সাথে কিছু সময় আনন্দে কাটিয়ে  খুশি আগত দর্শনার্থীরা।

সোনারগাঁও জাদুঘর,বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটি ছাড়াও সোনারগাঁওয়ের গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কাইক্কারটেক ব্রীজ এবং মেঘনা নদীর বৈদ্যের বাজার ঘাটে বিপুল সংখ্যাক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
ফিচার এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর