rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে নামমাত্র মূল্যে গরুর চামড়া, বিক্রি হয়নি ছাগলের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮, রবিবার
নারায়ণগঞ্জে নামমাত্র মূল্যে গরুর চামড়া, বিক্রি হয়নি ছাগলের

পবিত্র ঈদুল আজহার পশু কোরবানীর পর চামড়া এনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হতো নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকার মাঠে। কিন্তু এবছর মাঠটি ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, খরচ অনুযায়ী চামড়া বিক্রি করে দাম না পাওয়ায় তারা এবার স্টক করছেন না। কারণ এবার ঈদের কোরবানীর জন্য আনা গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে নামমাত্র মূল্যে। ২ থেকে ৩শ টাকা দাম উঠে একেকটি গরুর চামড়ার যা গতবারও ছিল হাজার টাকার উপরে। আর ছাগলের চামড়া কিনতে কেউ আগ্রহই দেখায়নি।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে টানবাজার এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। ঈদের দিন থেকে ২৪ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত চামড়া বোঝাই কোন রিকশা ভ্যান বা গাড়ি মাঠে আসতে দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

টানবাজার এলাকার বাসিন্দা সাজন সাহা জানান, প্রতিবছর কোরবানীর প্রথম দিন থেকে টানা তৃতীয়দিন পর্যন্ত পশুর চামড়া মাঠে এনে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। পরে এখানেই লবণ দিয়ে জমিয়ে রাখে। কিন্তু এবার একটিও চামড়ার গাড়ি দেখা যায়নি।

তবে শুক্রবার দুপুরে শহরের দিগুবাবু বাজারের মাংস পট্টিতে কয়েকটি চামড়া স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আর সেখানে ছোট বড় আকারভেদে প্রতিটি চামড়া মাত্র ১শ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রিকশা ভ্যানে করে চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী সোহেল জানান, গত বছর যে দামে ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে এবার সেই দামেই গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন মাদ্রাসায় দান করা চামড়া দাম না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। শহরের জামতলা এলাকার দারুল ইসলাহ মাদ্রসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান জানান, ‘মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র শিক্ষকরা কোরবানির ঈদের পর আনন্দ বাদ দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এ বছর চামড়ার দাম যে হারে পাওয়া গেছে তাতে চামড়া সংগ্রহের যাতায়াত ব্যয় উঠেনি।

তিনি বলেন, ‘মূলত আমাদের মক্তব, মাদ্রাসা, এতিমখানার আয়ের অন্যতম উৎস কোরবানির চামড়ার বিক্রি থেকে আসে। এবার চামড়ার মূল্য সর্বনিম্ন। মাঝারি গরুর প্রতিটি চামড়া ২শ টাকা, বড় চামড়া ৫শ টাকা এবং ছোট চামড়া ১শ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর দাম না পাওয়ায় ছাগলের চামড়া ফেলে দিয়েছি। এ দামে চামড়া বিক্রি করে সংগ্রহ ব্যয়ও উঠেনি। চামড়া বেশি পেলেও দাম না পাওয়ায় এবছর মাদ্রাসা চালাতে হিমশিম খেতে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীরা নামমাত্র মূল্য দিয়ে গরিবের হক নিয়ে যাচ্ছে।’

শহরের চাষাঢ়া এলাকার দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আবু তাহের জানান, ১ লাখ টাকা দামের কোরবানীর গরুর চামড়া প্রথম দিন ৯০০ ও পরদিন ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া এবার ছাগলের চামড়া ৫০ টাকাও দাম বলেনি। কিন্তু গতবছর বিক্রি হয়েছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। এবছর এতো কমে বিক্রি হয়েছে এখন মাদ্রসা চলাতে কষ্ট হয়ে যাবে।

চামড়া ব্যবসায়ী মুহাম্মদ হোসেন জানান, গরুর চামড়া ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় ও ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় কেনা হচ্ছে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কম দিচ্ছে। তাই আমরাও কমেই কিনছি।’

তিনি বলেন, টানবাজার মাঠে গত বছর ৫০০ থেকে ৭০০ চামড়া কিনে লবণ দিয়ে স্টক করেছিলাম। আর সে বছর দাম পেয়েছি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বছর ১৮০ থেকে ২০০ চামড়া কিনেছি তাও ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু কোন স্টক করি নাই। কারণ একটি চামড়া ৭০০ টাকায় কেনার পর, ২০০ টাকার লবণ, ১০০ টাকার শ্রমিকের ও পরিবহন সহ অন্যান্য খরচ দিয়ে প্রায় ১২০০ টাকা দাম হয়। কিন্তু ঢাকায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দাম বলে না। তাই চামড়া স্টক করা বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, দাম কম কেন জানতে চাইলে ট্যানারি মালিকেরা বলে তারা ব্যবসার জন্য লোন পায় না। সরকারের সুযোগ সুবিধা নাই তাই গত বছরের চামড়া এখনও নাকি রয়েগেছে। এজন্য তারা বেশি দামে চামড়া কিনবে না।’

চামড়া ব্যবসায়ী মোস্তফা করিম বলেন, চামড়ার দাম কম তাই স্টক করা বন্ধ। এমনিতেই ভালো আছি। চামড়া কিনে লোকসান করতে চাই না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর