paradise

অবশেষে সচল বালুরমাঠের সড়ক


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮, সোমবার
অবশেষে সচল বালুরমাঠের সড়ক

‘কাজ শেষ। ভাঙাচোরা আর পানি জমে থাকা সেই রাস্তা এখন নেই। নেই কোন ময়লা আবর্জনাও। এ যেন ফাঁকা একটি রাস্তা। যা কিনা বিগত কয়েক মাস আগেও ছিল বেহাল। তবে এ পরিবর্তনে খুশি সেখানকার বাসিন্দারা।’

শহরে চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। ভাঙাচুরা রাস্তায় আরসিসি ডালাই দেওয়া হয়েছে। ফলে বদলে গেছে রাস্তার দৃশ্য। গত কয়েকদিন আগে শেষ হয় রাস্তার শেষ অংশ অর্থাৎ ইসলামী হাট সেন্টারে সামনের অংশটুকু। এতে করে এখন চাষাঢ়া সান্তনা মার্কেটের সামনে থেকে ইসলামী হার্ট সেন্টার ও বায়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত রাস্তা এখন পুরোপুরি চলাচলের জন্য প্রস্ততি। তবে সদস্য কিছুটা কাজ করায় এখনও যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে ঠিকই চলাচল করছে।

এদিকে ফাঁকা ও ভালো রাস্তা পেয়ে এর পাশে ইতোমধ্যে গাড়ি পার্কিং করতে শুরু করেছে চালকেরা। যার মধ্যে আছে রিকশা, রিকশা ভ্যান, পিকআপ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি। এছাড়াও রাস্তার পাশে ড্রেনের উপর বসে গেছে দোকানও। উপরে বাশের বেড়া ও প্লাস্টিক দিয়ে সেসব দোকান করা হচ্ছে। এছাড়াও চা পানের টঙও রয়েছে এ দোকানের তালিকায়। এখানকার বাসিন্দাদের দাবি রাস্তা সুন্দর ও ভালো রাখতে ড্রেনগুলো সচল রাখতে হবে। এসব দোকানদারদের ফেলা ময়লা আবর্জনা ড্রেনে গেল আবারও ড্রেন বন্ধ হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। ফলে আবারও রাস্তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম থেকে যাবে। এর জন্য সিটি করপোরেশনকেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান। পাশাপাশি অনেকেই রাস্তা মেরামত হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বালুর মাঠ এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘বালুর মাঠ সড়ক হলেও এর ভালো নাম ভাষা সৈনিক সড়ক। এ সড়কের দুই পাশে অনেক রড ও ভাঙারির দোকান আছে। ফলে এসব দোকানরা রাস্তায় কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে রাস্তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ঠিকই থেকে যায়। শুধু তাই নয় রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে ড্রেনের উপরে গড়ে উঠেছে চায়ের টঙ, নাস্তা সহ খাবার হোটেলও। এগুলোর ফেলা ময়লা আবর্জনা আবারও ড্রেন বন্ধ হয়ে রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এসবের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখনই উদ্যোগ নেওযা প্রয়োজন।’

একই এলাকার বাসিন্দা জসিমউদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও রাস্তা অনেক সুন্দর হয়েছে। আমরা এতে অনেক খুশি। সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ যে এমন সুন্দর রাখা করে দেওয়া জন্য। তবে এর রক্ষনাবেক্ষনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।’

তিনি বলেন, এ রাস্তাটা হওয়ার ফলে বঙ্গবন্ধু সড়কের যানজট হলে এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে তখনও আবারও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই এখান দিয়ে যেন ভারী যানবাহন চলাচল না করতে পারে সেইজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। নগরীর প্রয়োজনে রিকশা চলাচল করতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাষা সৈনিক সড়ক কিংবা চাষাঢ়া বালুর মাঠ সড়কের পশ্চিম পাশে বহুতল ভবনের নিচতলায় ২০টির বেশি রড ও ভাঙারীর দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মালামাল এ রাস্তায় নামানো উঠানো হয়। এমনকি রাস্তায় বসে দোকানের কাজ করেন শ্রমিকেরা।

দোকানদার কাসেম মিয়া বলেন, রাস্তা ভালো হওয়ায় আমাদের ব্যবসার জন্য ভালো হয়েছে। তাই এ রাস্তা যেন ভালো থাকে সেটা আমরাই দেখাশোনা করবো। কেননা এ রাস্তা নষ্ট হলে সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আমাদেরই পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা রাস্তায় কাজ করবো না। কিন্তু এ রাস্তার পাশে ড্রেনগুলো ভালো রাখতে যেসব খাবারের দোকানগুলো ড্রেনের উপরে আছে সেগুলো উঠিয়ে দিতে হবে। কিংবা তাদের বলতে হবে যাতে করে তারা ড্রেনে কোন ময়লা না ফেলে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এখনও রাস্তা কাঁচা রয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের জন্য আরো সাতদিন সময় প্রয়োজন। না হলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয়দের নিয়ে একটি পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করা হবে। পরে তাদের নিয়ে রাস্তার পাশে দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হবে। একই ভাবে হকারদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর