rabbhaban

অচল নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন


হাফসা আক্তার (স্টাফ করেসপনডেন্ট) | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮, সোমবার
অচল নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন

নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জে নদীপথে কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ঢাকা থেকে স্পিডবোট ও ডুবুরি খবর দিয়ে আনতে হয়। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়। ততক্ষনে অনেক অঘটন ঘটে যায়।

নিতাইগঞ্জের ডালপট্টি ফায়ারঘাটে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। নারায়ণগঞ্জের নদীপথে যত দুর্ঘটনা ঘটবে তা প্রতিরোধ করা ও উদ্ধার কাজের দায়িত্ব এই নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের। অথচ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, স্পিডবোট ও লঞ্চ না থাকার কারণে এক প্রকার বন্ধই হয়ে আছে এই নদী ফায়ার স্টেশন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় প্রায় অকেজো হয়েই পরে আছে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন। প্রশাসনিক ভবন, ব্যারাক ভবন, নামাজের জায়গা, ডাইনিং স্পেস, রান্নাঘর সহ সব কিছু থাকলেও শুধুমাত্র ব্যারাক ভবন বাদে বাকি সব ঘরেই তালা দেয়া। আর এই এক কক্ষের ব্যারাক ভবনেই থাকা, রান্না করা, খাওয়া, প্রশাসনিক যাবতীয় কাজ করা হয়।

স্টেশন অফিসার, ফায়ার ফাইটার, ডুবুরি, স্পিডবোটের ড্রাইভার, বাবুর্চি সহ মোট ২০ জন সদস্য এই নদী ফায়ার স্টেশনে নিয়োগ থাকলেও শুধু মাত্র একজন লিডার ও একজন ফায়ার ফাইটার নদী ফায়ার স্টেশনে থাকেন। আর বাকিরা ঢাকার সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম একবারেই বন্ধ রয়েছে বলা যায়। আগে নদী ফায়ার স্টেশনে স্পিডবোট ও একটি লঞ্চ ছিল, তখন এই ফায়ার স্টেশনটি পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। তবে লঞ্চ ও স্পিডবোট  নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় এখানে কোনো লঞ্চ বা কোনো স্পিডবোট দেয়া হয়নি। এছাড়া নদীপথে কাজ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের সদস্যদের কাছে যাবতীয় তেমন কোনো যন্ত্র না থাকায় সদস্যদের অন্যান্য বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী স্টেশনের এক সদস্য নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমার পোস্টিং এই ফায়ার স্টেশনে থাকলেও আমি কাজ করি ঢাকা সদরঘাট ফায়ার স্টেশনে। স্পিডবোট না থাকায় এই ফায়ার স্টেশনে আমাদের কোনো কাজ নেই। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের ঢাকা থেকে স্পিডবোট ও ডুবুরি নিয়ে আসতে হয়। অথচ আমাদের স্পিডবোট দেয়া হলে আর আমাদের সদস্যদের প্রত্যেককে স্টেশনে ফিরিয়ে আনলে নারায়ণগঞ্জে নদীপথের যে কোনো দুর্ঘটনা আমরা সহযেই সামাল দিতে পারবো। কেন্দ্রের সাহায্যের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না।

মো. বাবুল হোসেন একজন ফায়ার ফাইটার এবং তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে থাকেন।

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘সবাইকে ডিপার্টমেন্ট একেক জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে আমি আর একজন লিডার এই স্টেশনের দায়িত্বে আছি। স্টেশনে এখন কোনো কাজ না থাকায় আমি এখন মন্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশন থেকে কাজ করি। স্টেশনের ভিতরের রান্না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ সব যাবতীয় কাজ আমাদের নিজেদেরই করতে হয়। বাবুর্চিও এখন অন্য কোনো ফায়ার স্টেশনে আছে।’

বন্দর ফায়ার স্টেশনে কর্মরত নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন ডুবুরি হলেন কবির হোসেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার মূলত নদী স্টেশনে পোস্টিং। কিন্তু সেখানে ডুবুরিদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না থাকায় একেক সময় একেক যায়গা থেকে কাজ করতে হয়েছে। আমাদের মধ্যে প্রত্যেককে বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজ করলেও কাগজে কলমে আমাদের পোস্টিং নদী স্টেশনে। কোনো কাগজে সই করতে হলে আমাদের নদী স্টেশনে গিয়ে সই করে আসতে হয়।’

মন্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার সানাউল হক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাদের এখানে নিজেদের একটি নদী স্টেশন থাকতেও এখানে নদীপথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ঢাকা থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। দেখা যায় বিভিন্ন উৎসবের সময় নদীপথে ভীড় বেশী হয় তখন দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলোতে ডুবুরিদের ডিউটি দিতে হয়। যাতে যে কোনো পানিতে ডুবার ঘটনা ঘটলেই তারা উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু নদী স্টেশনে কোনো ডুবুরি না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের ডিউটি দিতে হয়। পরে দেখা যায় কোনো পানিতে ডুবার ঘটনা ঘটলে তারা তার মোকাবিলা করতে পারে না। স্পিড বোর্ড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেয়া হলে এই স্টেশন আবারো সক্রিয় করা সম্ভব। নদী ফায়ার স্টেশনটি আবারো সক্রিয় হলে নারায়ণগঞ্জ নদী এরিয়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। ঢাকার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সময় নষ্ট হবে না।’

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারি পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এ সম্পর্কে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা হয়েছে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফায়ারঘাটে একটি পল্টুন করা হবে। এমনকি পাগলায়ও একটি নতুন ফায়ারঘাট করা হবে। তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি। আর নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে স্পিডবোট দেয়া হয়ে গেলেই স্টেশনটা আবারো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠবে। যদি পল্টুন তৈরি করতে সময় লাগে তাহলে জেলা প্রশাসনের একটি স্পিডবোট আছে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের স্পিডবোট রাখার ব্যবস্থা করা হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর