ফলকে নূরউদ্দিন ভিলা : মানুষের মুখে জঙ্গীবাড়ি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার
ফলকে নূরউদ্দিন ভিলা : মানুষের মুখে জঙ্গীবাড়ি

বাড়ির নাম্বার প্লেট বা নামের ফলকে হাজী মো. নূরউদ্দিন ভিলা লেখা থাকলেও এখনো ‘জঙ্গীবাড়ি’ নামেই পরিচিত নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বড় কবরস্থান সংলগ্ন এসএস রোডের নম্বর বাড়িটি।

মূলত গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড খ্যাত তামিম চৌধুরী সহ আরও কিছু জঙ্গি ওই বাড়িটির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ছদ্মবেশে আশ্রয় নিয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট বাড়িটিতে জঙ্গি বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন হিট স্ট্রং’ চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা। ওই নিহত হয় তামিম চৌধুরিসহ আরও দুইজন। এ ঘটনার পর থেকেই জঙ্গীবাড়ি হিসেবে এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠে বাড়িটি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়ির ভাড়াটিয়ারা বলছেন এখন আর আতঙ্কের কারণে নয় বরং কিছুটা উপহাস বা মজা করেই বাড়িটাকে জঙ্গীবাড়ি হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ জাহাঙ্গীর জানান, ‘ছোট থেকেই এই এলাকায় বড় হয়েছি। শুধু এই বাড়ি কেনো অত্র এলাকাতেই স্বাধিনতার পর থেকে আর কোনো বড় ধরনের ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে পরে না। আর বাড়ির মালিককে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি, তিনিও এসবকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলে কখনও মনে হয়নি। যারা এসেছিলো তারা পুরোপুরি ছদ্মবেশে এসেছিলো। আর ঘটনা যা ঘটবার ছিলো ঘটে গেছে। এখন সকলের কাছেই এটা মজার ব্যাপার। আতঙ্ক কেটে গেছে অনেক আগেই আমরা এখন স্বাভাবিক ভাবেই বসবাস করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে তল্লাশী চালাতো তখন তিন তলার ফ্ল্যাটটি তাঁদের জিম্মাতেই ছিলো। কিন্তু এখন হয়তো প্রায় তিনমাস হলো ফ্ল্যাটটি বাড়ির মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের আর সমস্যা নেই, ভয়ও নেই।’

এ সময় তিনি ঠাট্টা করে বলেন, ‘একটা সুবিধা হয়েছে সকলেই বাড়িটিকে চিনে। এখন ২ নং গেইট থেকেও রিক্সাকে জঙ্গীবাড়ি যাবেন কীনা বললেই হয়। আসতে কোনো ঝামেলা হয় না।’

প্রসঙ্গত ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে গ্রেফতার হওয়া আকরাম সালাউদ্দিন নামের এক জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে ‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযান শুরুর আগে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল জানিয়ে তারা বলেন, তাতে সাড়া না দিয়ে উল্টো জঙ্গিরা গুলি ও গ্রেনেড ছুড়েছিল পুলিশকে লক্ষ্য করে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের চেষ্টা করানো হয়। কিন্তু তারা গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ সদর দফতর, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ টিম ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট একযোগে অভিযান শুরু করে। এর পূর্বে তিনতলা ভবনটির তৃতীয় তলা মুরাদ ও রানা পরিচয়ে জঙ্গিরা ভাড়া নিয়েছিলো বলে পুলিশকে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক নূরউদ্দীন দেওয়ান।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
ফিচার এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর