rabbhaban

আইনজীবীদের নজর সমিতির নতুন ভবনে


সাবিত আল হাসান (স্টাফ করেসপনডেন্ট) | প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৮, বুধবার
আইনজীবীদের নজর সমিতির নতুন ভবনে

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণ এখন আদালতপাড়ার মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় ভবন নির্মাণ বিল পাশের পরদিন বুধবার ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের সবার মুখে মুখে ছিল বিষয়টি।

কেমন হবে নতুন আইনজীবী সমিতি ভবন, বর্তমান ভবন ভাঙতে ও নিচতলা তৈরীকালীন সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা কি হবে তা নিয়েই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর এ নিয়েই সকলের মধ্যে ছিল কানাঘুষা। কেউ বা নিজস্ব চেম্বারে এ নিয়ে শুরু করেন আলোচনা।

আইনজীবীদের মতে নতুন ভবন হোক সকল আইনজীবীদের মিলনকেন্দ্র। যেখানে জেলা বারের সকল সদস্যরা একসাথে বসে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন। দলমত নির্বিশেষে আইনজীবীদের জন্য এ উদ্যোগ সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ হোক তা চাচ্ছেন বারের সকল আইনজীবী।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে এক সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নারায়ণগঞ্জের চারজন এমপি শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু ও হোসনে আরা বাবলী সহ আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হকের উপস্থিতিতে আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী দুই কোর্ট একসাথে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওইদিন সাংসদ সেলিম ওসমান আইনজীবীদের সুবিধার্থে বহুতল ভবন বিশিষ্ট আইনজীবী সমিতি ভবন তৈরী করে দেয়ার ঘোষণা দেন এবং আইনমন্ত্রীও এর পক্ষে সহমত প্রকাশ করে সেলিম ওসমানকে সাধুবাদ জানান।

এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট একত্রে রয়েছে। কিন্তু শহরের শায়েস্ত খান সড়কে পুরাতন কোর্ট ভবনের স্থলে নতুন করে ১২ তলা বিশিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও রয়েছে অসন্তোষ। এ নিয়ে আইনজীবীরা দীর্ঘদিন পরে হলেও আন্দোলন করছে। ফলে কয়েকবার তারিখ দেওয়ার পরেও সেটা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।

এদিকে এ বছরের ২০ জুন জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমানের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। চিঠিতে আইনজীবী সমিতির পুরাতন জরাজীর্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং টিনশেডের স্থলে নতুন ভবন নির্মানের অনুমতি ও নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করার অনুমতি চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠির উত্তরে আইনজীবী সমিতির নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবন নির্মানের অনুমতি প্রদান করা হয়।

গত ১৮ আগস্ট বহুতল ভবন নির্মানের জন্য সয়েল টেস্টের (মাটি পরীক্ষা) মাধ্যমে এর কার্যক্রমের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এরপরেই বহুতল ভবনের পক্ষে-বিপক্ষে কথা উঠতে থাকে। বাড়তে থাকে নানা গুঞ্জন। তবে সকল তথ্য উপাত্ত নিয়ে এ সংক্রান্ত দ্বিধাদ্বন্ধ দূর করতে ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিশেষ সভার আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি। এসময় সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল আইনজীবীদের সকল সমস্যা তুলে ধরে নতুন ভবন তৈরীর জন্য আইনজীবীদের মত জানতে চাইলে অধিকাংশ আইনজীবী পাশ বলে সম্মতি প্রদান করে।

তবে নতুন ভবন তৈরী নিয়ে কয়েকজন আইনজীবী শঙ্কা প্রকাশ করলেও তা ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক অবস্থান বলে উড়িয়ে দেন আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সদস্যরা। তবে রাজনৈতিক পক্ষ বিপক্ষের ঊর্ধ্বে সকলেই চাইছেন কোন ঝামেলা ছাড়াই যদি তৈরী হয় তাহলে অবশ্যই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নতুন ভবন হোক তা আমি নিজেও ব্যক্তিগত ভাবে চাই। তবে আমার পরামর্শ হলো পেছন থেকে শুরু করা হোক। সেখানে অর্ধেক সমাপ্ত হলে আমরা শিফট করে যেঁতে পারব। এই ভবন ভেঙ্গে ফেললে কোথায় কি করব তাও এখনো পরিষ্কার নয়। বিকল্প ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করলে সকলের জন্যেই তা সুবিধাজনক হতো।

এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ভবনের অবস্থা সুবিধা জনক নয়। একদিক ভেঙ্গে কাজ শুরু করতে গেলে পুরো ভবনটাই ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া নতুন ভবনের সিঁড়ি যেহেতু মাঝ বরাবর হবে এবং তার নিচে সেপটিক ট্যাংক ও স্যুয়ারেজ লাইন হবে তাই ভবন ভাঙ্গা ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

অপরদিকে মহানগর বিএনপির নেতা ও বারের সদস্য আবু আল ইউসুফ টিপু বলেন, প্রেসিডেন্ট জুয়েল এমনিতেও সবার কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পারতেন। আমরা সকলেই চাই নতুন ভবন হোক। নতুন ভবনে সকলেই সুবিধা পাবে। তবে সেক্ষেত্রে সকলকে তার মতামত প্রকাশ করতে দিলে ব্যাপারটি সুন্দর ও গোছালো হত।

তবে অধিকাংশ তরুন আইনজীবীরা চাচ্ছেন খুব দ্রুতই নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু হোক। এতে করে বাইরে রোদ বৃষ্টি থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে তাদের। দীর্ঘদিনের আইনজীবীদের প্রত্যাশা আলোর মুখ খুলছে জেনে ভবন নির্মানে পুরোপুরি সম্মতি জানাচ্ছেন তারা।

এর আগে সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ৭ তলা প্রস্তাবিত ভবনটির নিচতলায় প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা হবে। বর্তমানে পুরো ভবনটি রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিকে প্রায় ১২শ এর অধিক আইনজীবী রয়েছেন। কোর্টে প্র্যাকটিসরত জুনিয়র আছে প্রায় ৭শ। আগামী ৩ বছরে পাশ করে আসা আইনজীবীরা কোর্টে প্রবেশ করলে অন্তত ১৭শ আইনজীবী কোর্টে বিচরণ করবে। পুরাতন এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল মাত্র ৩ থেকে ৪শ জন আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থার জন্য। দ্রুত এর বিকল্প চিন্তা না করা হলে আইনজীবীদের অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

তিনি প্রস্তাবিত নতুন ভবনের সুবিধা উপস্থাপন করে বলেন, ভবনে ৩টি হলরুম স্থাপন করা হবে। এছাড়া চেম্বার করা হবে দুই শতাধিক কিংবা তার ও বেশী। পাশাপাশি লাইব্রেরী, জুনিয়র হলরুম, মুহুরীদের হলরুম, নারী আইনজীবীদের ব্যক্তিগত স্থান, ক্যান্টিন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের দোকান।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর