‘ভোট দিতে পারবে তো খুশী ডাক্তাররা, স্থান গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেউ’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:৪৯ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
‘ভোট দিতে পারবে তো খুশী ডাক্তাররা, স্থান গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেউ’

ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আর মাত্র ২ দিন পর। এর মধ্যে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় কাটিয়ে বাসা ফিরছেন দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা। ৬ সেপ্টেম্বর বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলা এক ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হতে যাচ্ছে। বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলা এখনো কোন নির্বাচন হয়নি বলে দাবি করেছে অনেক সাধারণ ভোটাররা। তারা ভোটের দিন ভোট প্রয়োগ করে বিএমএ সদস্য হওয়ার স্বাদ নিবেন বলে জানিয়েছে।

বিএমএ নির্বাচন এই প্রথম ভোট দিবেন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কামরুন নাহার। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে মুঠোফোনে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ বিএমএ সদস্য হিসেবে রয়েছি। কখনো নির্বাচনের ভোট দেই নাই। এবার ভোটের আবহাওয়ায় বিএমএ সদস্য হিসেবে ভোট দিতে পারবো বলে খুব ভালো লাগছে। বিএমএ অনেক সিনিয়র ডাক্তাররা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। যে কোন দলের সরকার হলে ওই দলের লোকজনই প্রার্থী হতে পারে। এতে আমাদের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোন আতংক নয়। দেশের রাজনীতি সমাজ আছে থাকবে এটা যার যার মধ্যে সীমার মধ্যে।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব নির্বাচনের ভেন্যু হওয়ার প্রশ্নে বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ যত কিছু হয়েছে ডা. শাহনেওয়াজ চেম্বারে হয়েছে। এখন একটু পরিবর্তন হয়েছে। আমার কাছে ভেনুর স্থানটি ভালো লেগেছে। নির্বাচন আনন্দময় পরিবেশ হবে আশা করছি। ৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে হবে ডাক্তারদের পুনর্মিলনী। আমরা সাধারণ ভোটাররা ভোট প্রয়োগের প্রস্তুত রয়েছি।

অপরদিকে বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ড্যাবের জেলার সভাপতি ডা. শফিউল আলম ফেরদৌস নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘নির্বাচনী পবিবেশ এখন পর্যন্ত ভাল আছে। তবে বিগত নির্বাচনগুলোতে এ নিয়ে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি এ বছরের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বিএমএ এর নির্বাচনে সব সময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। তাই নির্বাচনে পরিবেশ অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। এতে করে ভোটাররা অনায়াসে ভোট দিতে পারবে। বিএনপি কিংবা আওয়ামীলীগ যে কোন দলের প্রার্থী থাকুক না কেন তাতে কোন ধরণের সমস্যা হবে না আশা করছি। কারণ রাজনৈতিক এসব বিষয় এই নির্বাচনে কোন ধরণের প্রভাব ফেলবেনা।’

নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কে বলেন, ‘রাইফেল ক্লাবে নির্বাচনের কেন্দ্র হওয়ায় কোন ধরনের আপত্তি নাই। আর তাতে কোন সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র যেটাই হোক না কেন। তাছাড়া জেলাতে বিএমএ এর স্থায়ী কার্যালয় নেই তাই নিরাপদ যে কোন স্থানে ভোট সম্পন্ন হতে পারে। এখন নির্বাচনী কেন্দ্র যে কোন স্থানে হতে পারে। এতে কোন সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছেনা।’

তিনি আরো বলেন, ডা. শাহনেওয়াজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিএমএ‘র সভাপতি পদে থাকলেও তাতে বিএমএ’র কারো কোন সমস্যা হচ্ছে না। তা ছাড়া তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে ঘিরে বিএমএ‘র কোন প্রার্থী কিংবা ভোটারদের কোন ধরণের সমস্যা থাকার কথা নয়।

বিএমএ নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে প্রথম প্রার্থী হওয়ায় জয়ী আশা ব্যক্ত করেছেন ডা. তনয় কুমার সাহা। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ বিএমএ নির্বাচন হয়নি। ডাক্তার হওয়ার পর বিএমএ সদস্য হয়ে এবার নির্বাচনের কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। প্যানেল নিয়ে অনেকে সিনিয়র ডাক্তারদের কাছে ভোটার চেয়েছি। সেখানে অনেকে ভোট দেয়ার আশা দিয়েছে। আগামী বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলা আরো শক্তিশালী ও ডাক্তাদের প্রয়োজনীয় কমিটি রূপ ধারণ করার চেষ্টা চালাবো। জয়ী হতে পারলে সকলে এক কাতারে বিজয় উল্লাস করবো।

বিএমএ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. হামিদুল হক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের উত্তেজনা দেখা যায়নি। রোববারও একটি সভায় উভয় প্যানেলের প্রার্থীদেরকে হাস্যোজ্জলভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।

দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় পরিবেশ উৎসবমুখর থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।’ নির্বাচনে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব থাকলেও সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে না বলেই তিনি মনে করছেন। কারণ ডাক্তাররা সকলেই সমাজের এলিট পারসন। তারা নিজেরা মারামারি করবেন এমনটা তিনি মনে করেন না। তবে রাইফেল ক্লাবের অভ্যন্তরে যাতে বহিরাগতরা বেশীক্ষণ অবস্থান না করে এমনটিই তাদের প্রত্যাশা। প্রার্থীদের শুভাকাঙ্খিদের কেউ নির্বাচনী পরিবেশ দেখতে আসলে দেখে কিছুক্ষণ থাকার পরে যেন চলে যায় অর্থাৎ বেশীক্ষণ যাতে অবস্থান না করে এমনটিই তিনি প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা রাখেন।

সোহেল ও নিজাম প্যানেল
প্যানেল ঘোষণার পর থেকে ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী উক্ত প্যানেল পরিচিতে তার নাম প্রচারণা করতেও নিষেধ করেছে। এই প্যানেলের সহ-সভাপতি ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নিজাম আলী নেতৃত্বে ২২ সদস্যের সবাই নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় চিকিৎসক। ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। ডা. নিজাম আলী হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা স্বাচিপের (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে রয়েছেন।

এ প্যানেলে সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আশীষ কুমার দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেকার আলম, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান, দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক হাসান আলী আরাফাত, সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ, সংস্কৃতি ও আপ্যয়ন বিষয়ক সম্পাদক  শ্রেয়সি রাণী সাহা, গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মালেক, সদস্য টিআইএম নুরুন্নবী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবুল ফাতান, অনিল কুমার বসাক, মুহাম্মদ মাহবুব হোসেন, আল ওয়াজেদুর রহমান, পলক কুমার মহন্ত, আব্দুর রব, মো. মাসুদুজ্জামান, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ও সিনথিয়া তাসনিম।

ইকবাল ও দেবাশীষ প্যানেল
অপরদিকে আরেক প্যানেলে সভাপতি পদে ডা. ইকবাল বাহার ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ডা. দেবাশীষ রায় বর্তমান বিএমএ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। ২০১৩ সালে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর আস্থাভাজন হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদে সিলেকশনে নির্বাচিত হন। তারপর কয়েক মাসের ব্যবধানে এমপি শামীম ওসমানকে ফুল দিয়ে গ্রুপ পরিবর্তন করেন দেবাশীষ।

এ প্যানেলে আছেন সহ সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিধান চন্দ্র পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা সঞ্চয়,  কোষাধ্যক্ষ শেখ ফরহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক কুমার তানসেন, দফতর সম্পাদক ইউসুফ সরকার, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক কামরুল আশরাফ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অমিত সরকার, সংস্কৃতি ও আপ্যয়ন বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান, গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল হক, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জিএম ফরিদ,  অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য, এবিএম জহিরুল কাদের ভূইয়া, তানভীর আহমেদ চৌধুরী, আমির হোসেন, তনয় কুমার সাহা, মতিয়ার রহমান, আবু শাহেদ শুভ ও মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন।

এবার সাধারণ ভোটাররা এবার বিএমএ কমিটি তৈরিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। কারো কাছে এককভাবে দীর্ঘ দিন কমিটি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব দেয়া হবে না। কমিটির হিসাব নিকাশ ও ডাক্তারদের প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী ভূমিকা প্রদর্শন করা হবে নেতা নির্বাচনে। এই নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে ডাক্তারদের আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযোগ রয়েছে বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন দীর্ঘ ৫বছর যাবৎ হচ্ছে না। দীর্ঘ দিন যাবৎ সভাপতি পদে ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ রায় রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এমপি মেয়র নাম ভাঙিয়ে অনেক কর্মকান্ডে ডাক্তারদের অ্যাসোসিয়েশনকে বিতর্কে জড়ানো হয়েছে। তাই পরিবর্তন করে কমিটিকে শক্তিশালী করতে এবার ভোটারদের একটি স্লোগান ‘পরিবর্তন করো পরিবর্তন চাই’।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর