rabbhaban

৯ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস কর্মকর্তা কর্মচারীদের


সোহেল রানা (স্টাফ করেসপনডেন্ট) | প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
৯ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস কর্মকর্তা কর্মচারীদের

সরকারিভাবে পুরোপুরি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার পরেও বন্দর উপজেলার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীরা। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর সেখানে বসবাসরত উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবন ছেড়ে দেওযার নোটিশ দিয়েছিলেন উপজেলার কর্মকর্তা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বিনা পয়সায় বসবাস, সরকারি খরচে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা নিয়ে বেশ আয়েশেই কাটাচ্ছেন দিন। উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে জানানো হলে শুধু নোটিশ দিয়েই চুপশে যান তাঁরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এমন ভয়াবহ অবস্থা। দুইতলা বিশিষ্ট ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হয়েছে অনেক আগেই। এখন ভবনটির এমন অবস্থা হয়েছে যে এর আশেপাশে অবস্থান করাটাও বিপদজ্জনক। ভবনের ছাদের অধিকাংশ জায়গায় ও পিলারগুলোর আস্তর খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। দেয়ালে ও ছাদে আগাছা জন্মে দেয়াল ঝরে পরছে। এমন অবস্থাতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে বসবাস করছেন উপজেলার কর্শকর্তা কর্মচারীরা।

ভবনটিতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকেন এ প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একজন কর্মচারী বলেন, কোয়ার্টারে থাকতে গেলে ভাড়া দিতে হয়। এখানে থাকলে কোনো ভাড়া দিতে হয় না। এইখানে আবার বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয় না। বিনা পয়সায় থাকছে বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া লাগে না। তাদের আর ঠেকায় কে? তারাইতো এইখানকার নিয়ণন্ত্রক। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নাই। ২০০৯ সালে ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষণার পর থেকে প্রয় ৯ বছর যাবৎ এইভাবেই থাকতাছে তাঁরা।

বন্দর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পিন্টু ব্যাপারী জানান, মূলত উপজেলার কিছু কর্মকর্তা টাকা বাঁচানোর জন্য সেখানে বসবাস করছেন। কারণ সেখানে থাকলে ভাড়া দিতে হয় না। ২০০৯ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষণার পর অনেকবার তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরেও তারা বসবাস করছে। এখন এটি সম্পূর্ণ তাদের দায়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য আমরা দায়ী থাকব না। এখন নিজেদের ঝুঁকিতেই তাঁরা সেখানে আছে। তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি হলে তার জন্য আমরা দায়ী থাকব না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর