রূপগঞ্জে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
রূপগঞ্জে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কৃষকের সর্বস্ব লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় এ ঘটনায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করায় কৃষক পরিবারকে শিক্ষা দেয়ার জন্য খুজে বেড়াচ্ছে ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজন। প্রাণ রক্ষায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন পুরো পরিবার। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দিঘলীয়ার টেক এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা।

কৃষক আফসার উদ্দিন মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা জানান, তারা পুরোপুরি কৃষক পরিবার। কৃষিকাজের মাধ্যেমেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করা হয়। বর্তমানে তার বাবার বয়স ৯৫ বছর। তিনি চোখে কম দেখেন এমনকি কানেও কম শুনেন। গত ২ আগস্ট পিতার প্রতিবেশী ভাগিনা আব্দুল আজিজুল মোল্লা ব্যাংক একাউন্ট করে দেয়ার কথা বলে তার বাবা আফসার উদ্দিন মোল্লাকে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পিতার কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প পেপারে টিপসই নেন। পরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পূর্বাচলের উপশহরের ৪ নং সেক্টর এলাকায় ফেলে রেখে যান। পরে লোকমুখে জানতে পেরে সিরাজসহ তার আত্মীয় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরবর্তীতে পিতার মুখে বিস্তারিত জানতে পেরে রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে খোজ নিয়ে জানতে পারেন হাবিবুর রহমান হারেজ সেসব স্ট্যাম্পের মাধ্যেমে কুলিয়াদী মৌজায় বিভিন্ন দাগে তাদের ফসলী জমি, নাল ও ভিটের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৫৮ শতাংশ জমি ক্ষমতাযুক্ত আম মোক্তার নামা দলিল(নং-৯৪৯৮) মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যানপুত্র সোয়েবুর রহমান বাবু ও প্রতারক আজিজুলের নামে লিখে নিয়েছেন।

এ ঘটনায় সিরাজুল মোল্লা রূপগঞ্জ থানায় ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার বরাবর এবং আমমোক্তার নামা দলিলটি বাতিলকরণের আবেদন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পৃথক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষক পরিবারকে শিক্ষা দেয়ার জন্য খুজে বেড়াচ্ছে ভাইস চেয়ারম্যানের পালিত বাহিনীরা। বর্তমানে প্রান রক্ষায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন পুরো পরিবার।

অভিযুক্ত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজ হুমকি ও খুজে বেড়ানোর  কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি আফসার মোল্লাকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে নিয়েছি। তার ভাগিনা আজিজুল যদি সে টাকা আত্মাসাৎ করে থাকে তাহলে সে দোষ তো আমার নয়।

রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার (পশ্চিম) শহিদুল ইসলাম বলেন, সকল নিয়মকানুন মেনেই কমিশনের মাধ্যেমে গত ২ আগষ্ট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের ব্রাক্ষ্মখালীর অফিসে আমমোক্তার দলিলটি সম্পাদন করা হয়েছে। পরবর্তিতে দাতা পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দলিলের মালিকানা অন্যত্র হস্তান্তরকালে আমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
শহরের বাইরে এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর