rabbhaban

মামলায় ব্যাকফুটে আইনজীবীরা


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার
মামলায় ব্যাকফুটে আইনজীবীরা

মামলা হামলা উপেক্ষা করে রাজপথে থাকার প্রতিজ্ঞা করলেও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মামলায় ব্যাকফুটে চলে গেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কয়েকজন। আইনজীবীদের অধিকাংশ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমা মোকাবেলার পাশাপাশি নিজেদের নামও বেশ কয়েকটি মামলার আসামীর খাতায় উঠেছে।

৮ সেপ্টেম্বর চাষাঢ়া বালুর মাঠে মহানগর বিএনপি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে গেলে সেখানে বিএনপি কর্মীদের উপর চড়াও হয় সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় স্পট থেকে ৪ জনকে। ওই দিন রাতেই দায়ের করা হয় বিস্ফোরক মামলা। আসামী করা হয় জেলা ও মহানগরের ২০ জনের নাম সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে। মামলায় বিএনপির ৫ জন আইনজীবী নেতাকে আসামী করা হয়। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলার রিমান্ড শুনানীতে ৪ জন আসামীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

একই দিন সোমবার আদালত পাড়া ঘুরে চোখে পড়েনি মামলার তালিকাভুক্ত আইনজীবী সহ বিএনপিপন্থী পরিচিত আইনজীবীদের। কেউ কেউ নিজেদের মামলার কার্যক্রম শেষ করে মধ্যাহ্নের আগেই ত্যাগ করেছেন আদালতপাড়া। পাওয়া যায়নি তাদের নিজস্ব টেবিল কিংবা চেম্বারেও। কেউ কেউ রসিকতা করে বসছিলেন নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে। নির্ভীক থাকার প্রত্যায় নিয়ে মাঠে নামা আন্দোলনকারীরা গ্রেফতারের ভয়েই যেন পিছু হটেছেন।

তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাস বিশ্বাস, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুম কবির, অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান প্রমুখ।

সহকর্মী আইনজীবীরা জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রেফতার এড়াতে সাময়িক ভাবে নিজেদের এড়িয়ে চলছেন নেতারা। মামলা মোকাদ্দমা লড়াই করার মত বড় আইনজীবীরা ভেতরে থাকলে বাকিদের উপর চাপ পড়তে পারে তাই এমন সিদ্ধান্ত। তবে নিশ্চিত করে তাদের অনুপস্থিতির কারণ কেউ বলতে না পারলেও একসাথে এতজন আইনজীবীর আদালত পাড়ায় না দেখতে পাওয়া অলিখিতভাবেই বুঝিয়ে দেয় যে কারাগারে গিয়ে নির্বাচন দেখতে চায় না তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা জানান, কিছুদিন পরেই নির্বাচন। এসময় জেলহাজতে প্রবেশ করলে তাদের বের করে আনা কঠিন। এমনকি নির্বাচন কালীন সময়টাও তাদের জেলে থাকা লাগতে পারে। সরকার পতনের আন্দোলনে মাঠে থাকার জন্য সাময়িক পিছু হটা বুদ্ধিমানের কাজই বটে। সামান্য ভুল সিদ্ধান্তে জেলে থাকার চাইতে রাজপথে নেতাদের উপস্থিতি আন্দোলনকে বেগবান করবে।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন পিএসআই প্রবীর কুমার রায়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা সরকার উৎখাত ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাষাঢ়া বালুর মাঠের তিতাস গ্যাসের অফিসের সামনের নাশকতার পরিকল্পনা করে জড়ো হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে ২ টি কচটেপ মোড়ানো ককটেল ও ৬টি ভাঙ্গা ইটের টুকরা উদ্ধার করে।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাস বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুম কবির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাগফুরুল ইসলাম পাপন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম আপন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর বিএনপি নেতা ফারুক চৌধুরী, মনির হোসেন খান, অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, হাজী নুরুদ্দিনসহ অজ্ঞাত ২০ জন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর