মেঘনা নদীতে ওরিয়ন গ্রুপের সাইনবোর্ড


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
মেঘনা নদীতে ওরিয়ন গ্রুপের সাইনবোর্ড

নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের আওতাধীন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী এলাকায় মেঘনা নদীর অভ্যন্তরে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে ওরিয়ন গ্রুপ। সরকার যেখানে সারেেদশে দেশের নদীগুলো রক্ষায় দখল ও দূষণমুক্ত করতে নানা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সেখানে নদীর অভ্যন্তরে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য সাইনবোর্ড দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীসহ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী ৪টি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএকে নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী ৪টি নদীই নয় সারাদেশেই নদীগুলোর দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এরপাশাপাশি সীমানা নির্ধারনী পিলার, ওয়াকওয়ে, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন, ইকোপার্ক নির্মাণসহ নানাবিধ পদক্ষেপ নেয় বিআইডব্লিউটিএ। তবে এত কিছুর পরেও সুযোগ পেলেই নদীর তীরবর্তী এলাকা দখলে মেতে উঠছে প্রভাবশালী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী এলাকায় মেঘনা নদীর অভ্যন্তরে কমপক্ষে একডজন সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে ওরিয়ন গ্রুপ। আর ওইসকল সাইনবোর্ড দেখে হতবাক বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী লঞ্চের যাত্রীরা। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি যে পর্যন্ত ওঠে তার উপরের অংশকে ফোরশোর বলা হয়ে থাকে। আর ওই ফোরশোর হলো নদীর সীমানা। কিন্তু ওরিয়ন গ্রুপ ফোরশোরেও নয় নদীর মাঝখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে যার কয়েকশ ফুট দূর দিয়ে বৃহদাকারের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চলাচল করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, রাজধানী সদরঘাট থেকে বরিশাল ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বৃহদাকারের লঞ্চগুলো মেঘনা নদী দিয়েই চলাচল করে থাকে। ওরিয়ন গ্রুপ যেভাবে নদীর মধ্যে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে তাতে করে মেঘনা নদীর ওই পয়েন্টের নৌ রুটে সংকীর্ন হয়ে পড়েছে। জোয়ার ভাটার কারণে অনেকসময় চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। রাতের বেলায় ওই এলাকা দিয়ে বৃহদাকারের লঞ্চগুলো চলাচল করে থাকে। অন্ধকারের কারণে লঞ্চের চালক হয়তো সাইনবোর্ডগুলো দেখতে নাও পারেন। এতে করে ওই এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বালুমহালের ইজারাদারের নিয়োজিত সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে অনেক বালুবাহী বাল্কহেডের চালকরা রাতে চালায়। তারা দিনের বেলায় লস্কর, বাবুর্চির হাতে স্টিয়ারিং দিয়ে ঘুমিয়ে নেয়। এতেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ যেভাবে নদীর অভ্যন্তরে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়া হলে ভবিষ্যতে হয়তো অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও নদী দখলে আরো উৎসাহী হয়ে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, নদীর অভ্যন্তরে কারোরই সাইনবোর্ড লাগানোর অনুমতি নেই। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদেরকে ছাড় দেয়া হবেনা। নদী দখলের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপ যদি নদীর অভ্যন্তরে সাইনবোর্ড স্থাপন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর