মাদক ও সোর্সদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী, পুলিশ বলছে জিরো টলারেন্স


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
মাদক ও সোর্সদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী, পুলিশ বলছে জিরো টলারেন্স

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওপেন হাউজডে পালিত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা ১১টায় গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাসিক ৮ নং ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে এ ওপেন হাউজডের আয়োজন করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শক (অপরারেশন) আজিজুল হক, উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শাহ আলম, থানা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক তাজিম বাবু, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভুইয়া জুলহাস, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লা, গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি এম এ বারী, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, গোদনাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাজি ওয়াহিদ আলমসহ স্থানীয় অনেকে।

এসময় এলাকাবাসী উপস্থিত অতিথিদের সামনে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সমস্যাগুলোর মধ্যে মাদক এবং পুলিশের সোর্সদের কর্মকান্ডকে প্রাধান্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা। এসময় আব্দুর রহমান নামে আওয়ামীলীগের এক কর্মী বলেন, আমরা এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক  করে পুলিশে দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর তাকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। পুলিশ টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে। তখন সে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন রকম হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এতে করে মাদক ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে যায়।

জোবায়ের হোসেন মনসুর নামে এক ব্যক্তি পুলিশের সোর্সদের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসময় তিনি বলেন পুলিশের সাথে যেসব সোর্স কাজ করে থাকে তারা সবাই কোন না কোন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা স্বার্থের বিনিময়ে অনেক সময় নিরপরাধ ও নির্দোষ ব্যক্তিদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। তাদেরকে অনেক সময় পুলিশের টহল গাড়িতে দেখা যায়। এ কারণে তারা নিজেদেরকে পুলিশের লোক মনে করে। আর এই কারনেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

রোকসানা নামে গৃহিণী জানায় চৌধুরিবাড়ি সিলেটিয়া বাড়ি এলাকার কেরামত আলী কেন্দুর মাদক সেবী ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট তারা। মাদক সেবী সেলিম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এলাকার ঘরে ঘরে প্রবেশ করে ছোট বাচ্চাদের জিম্মি করে নেশার জন্য টাকা দাবী করে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন আগে আমরা থানায় অভিযোগ করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ এসে তদন্ত করে যায়। এর পরে কেন্দু এবং তার নেশাগ্রস্ত ছেলে সেলিম ও তার পরিবার মিলে আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়। এর আগে নেশার টাকার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারির ২৩ তারিখে নিজ ঘরে আগুন দেয় সেলিম। এতে তার নিজ ভাড়াটিয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটি ওই সময় স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভালো মন্দ রয়েছে। তেমনি পুলিশেও ভালো খারাপ রয়েছে। দুই  একজন পুলিশ সদস্যর কর্মকান্ডের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক না। পুলিশের কোন সদস্য যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হয় না। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেণ নারায়ণগঞ্জের দুজন পুলিশের সদস্যকে মাদকের সাথে জড়িত থাকার কারণে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারপরও যদি কোন পুলিশের সদস্যর প্রতি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদেরকে জানাবেন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর মাদক ব্যবসায়িদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আমরা পুলিশও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
আইন আদালত এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর