rabbhaban

বার ভবনে টাকা যোগান, দুই কোর্ট একত্রিতে উচ্ছ্বাসিত জুয়েল মোহসীন


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার
বার ভবনে টাকা যোগান, দুই কোর্ট একত্রিতে উচ্ছ্বাসিত জুয়েল মোহসীন

বহু বাধাবিপত্তি আর ষড়যন্ত্রের পর অবশেষে উদ্বোধন হয়েছে কাংখিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন বার ভবন নির্মাণ কার্যক্রম। কাজ শুরু করতে বেশ দেরী হয়ে গেছে এ কথা স্বীকার করলেও সকল জটিলতা পেরিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়াতেই উচ্ছ্বাসিত রয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বার ভবন নির্মানের উদ্ভোধন ও অভিষেক অনুষ্ঠানে ১৭ জনের ভেতর বিএনপি পন্থী ১১ জন উপস্থিত না হলেও পেছনে তাকিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে ইচ্ছুক নন তারা। দ্রুত গতিতে মূল ভবনের কাজ শুরু করাই বর্তমানে প্রধান টার্গেট।

২৪ সেপ্টেম্বর দিন জুড়েই ছিল আদালত পাড়ায় নতুন ভবন নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে গুঞ্জন। কারণ এর আগেরদিন রবিবারের নির্বাচিত কমিটির অভিষেক এবং বার ভবন নির্মাণের উদ্বোধনের পরে আনন্দের বার্তা বইছে আইনজীবীদের মাঝে। নতুন উন্মোচন ফলকের দিতে আইনজীবীরা তাকিয়ে যেন কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। তবে আসলেই কি হতে যাচ্ছে স্বপ্নের ডিজিটাল বার ভবন? এতদিনের কাংখিত স্বপ্ন তবে পূরণ হতে যাচ্ছে জুয়েল-মোহসিনের হাত ধরে। তাছাড়া দুই কোর্ট এক করা নিয়েও মন্ত্রী অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে গেছেন।

সেদিন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জের বার ভবনের জন্য পিডিবি আর এনবিআরের সাথে কথা বলা হয়েছে। এখানে ৫ কোটি টাকা লাগবে। ৫ কোটি টাকার মধ্যে এমপি সেলিম ওসমান দেবেন ৩ কোটি টাকা, আইন মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া হবে ১ কোটি আর আমাদের এমপি গাজী দেবেন ১ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দুই আদালত একসাথে রাখার ব্যাপারে অনেক জেলায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এক আদালত থেকে আরেক আদালতে যাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই সমস্যার সমাধান দ্রুত করার চেষ্টা করবো এবং দুই কোর্ট একসাথে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। আগামী নির্বাচনের আগেই এটি সম্পন্ন করা হবে।

মূলত মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর উচ্ছ্বাসে কমতি ছিল না সভাপতি ও সেক্রেটারীর মাঝেও। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আইনমন্ত্রীর দ্বারা ভবনের ভিত্তি প্রস্থর উদ্ভোধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সকলকে। আইনজীবীদের সামনে নিজের কথা রেখে প্রমাণ দিয়েছেন নিজেকে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আইনমন্ত্রীর আগমন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এমন অভিযোগ শোনা গেলেও সভাপতি তার কথার প্রমাণ দিয়েছেন কাজের মাধ্যমে। আইনমন্ত্রী সহ প্রভাবশালী এমপিদের উপস্থিতি এবং আর্থিক নিশ্চয়তা পেয়ে আইনজীবীরা সন্তুষ্ট। একই সাথে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে পেরে উচ্ছ্বাসিত রয়েছেন জুয়েল মোহসিন সহ কমিটির ৬ সদস্য।

বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পরেই মনযোগ দেয় নতুন ভবন নির্মানের দিকে। এ বছরের ২০ জুন জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমানের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। চিঠিতে আইনজীবী সমিতির পুরাতন জরাজীর্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং টিনশেডের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি ও নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করার অনুমতি চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠির উত্তরে আইনজীবী সমিতির নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবন নির্মানের অনুমতি প্রদান করা হয়।

চিঠি পাওয়ার ১ মাসের ভেতরেই সম্পন্ন করা হয় নতুন ডিজিটাল ৮ তালা ভবনের নির্মান নকশা। নকশা হাতে পেয়েই ১৮ আগস্ট সয়েল টেস্টের (মাটি পরীক্ষা) মাধ্যমে এর কার্যক্রমের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এরপরেই বহুতল ভবনের পক্ষে-বিপক্ষে কথা উঠতে থাকে। বাড়তে থাকে নানা গুঞ্জন। তবে সকল তথ্য উপাত্ত নিয়ে এ সংক্রান্ত দ্বিধাদ্বন্ধ দূর করতে ২৮ আগস্ট বিশেষ সভার আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি। এসময় সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল আইনজীবীদের সকল সমস্যা তুলে ধরে নতুন ভবন তৈরীর জন্য আইনজীবীদের মত জানতে চাইলে অধিকাংশ আইনজীবী পাশ বলে সম্মতি প্রদান করে।

তবে ভবন সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা বলতে ডাকা ইজিএমে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কথা বলতে না দেয়ায় সমিতির সভাপতি সেক্রেটারীর সাথে মতবিরোধ প্রকাশ্যে দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা ইজিএমে বক্তব্য প্রদান করতে না দেয়ার প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন করে ইজিএম ডাকার দাবিও জানানো হয়। অন্যথায় কোন অবস্থাতেই বার ভবন ভাঙতে দেয়া হবেনা বলে জানান।

তবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আগে থেকেই কিছুটা নিরব সমর্থন দিয়ে এলেও রবিবারের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রীর উপস্থিতি ও আর্থিক নিশ্চয়তা পেয়ে তারাও এ নিয়ে বিপক্ষে নেই বললেই চলে। সুতরাং ভবন নির্মাণ কাজ স্বাচ্ছন্দ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে কমিটির আর কোন বাধা নেই বলা যায়।

রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কিন্তু পেশা হিসেবে আইনজীবী এমন কয়েকজন জানিয়েছেন, সমিতির সবশেষ নির্বাচন ছিল অনেক নাটকীয়তায় ভরা। অনেক কূটকৌশলের পর সেখানে গতবার সভাপতি হিসেবে হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সেক্রেটারী পদে মোহসীন মিয়া জয়ী হয়েছেন। সমিতির ১৭টি পদের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে আওয়ামীলীগ। ফলে আগামীতে বৈতরণী পার হতে হলে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর মত কোন ইস্যু প্রয়োজন বিশেষ করে ব্যর্থতার। কিন্তু সমিতির যদি নতুন ৮ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডিজিটাল বার ভবনের কাজ শুরু হয়ে উঠে তাহলে সেটা হবে আওয়ামী লীগের জন্য বেশ পজেটিভ দিক। কারণ ইতোমধ্যে দুই কোর্ট আলাদা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে যে উৎকণ্ঠা ছিল সেটা অনেকটাই চাপা দিয়ে রেখেছে বর্তমান কমিটি ও আওয়ামী লীগের এমপি সহ নেতারা। সবশেষ আইনমন্ত্রীও এসে এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে গেছেন। আর এর মধ্যে নতুন বার ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হওয়ায় অগ্রগামী একটি বিষয়। এসব কারণে বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারীকে সামনের নির্বাচন অনেকটাই জয়ের পথ সহজ করে দিবে নতুন বার ভবন।

তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন আইনজীবী জানান, জুয়েল ও মোহসীনের এ তৎপরতাকে ভালো চোখে নিচ্ছেন না প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা ভেতরে ভেতরে চেয়েছিলেন কোন একটি কূটকৌশল করে এ প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে। তবে তারা এখনো কেউ প্রকাশ্য না হলেও ভেতরে ভেতরে নানা ধরনের কৌশল করলেও সফল হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর