rabbhaban

মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে আহতদের একমাত্র ঠিকানা ছিল মির্জা সোবহান


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার
মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে আহতদের একমাত্র ঠিকানা ছিল মির্জা সোবহান

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ডা. মির্জা এ সোবহান আমার একজন অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বাংলাদেশ কাউকে রিয়েলাইজ করে না। দেশ এক ব্যক্তি দিয়ে সৃষ্টি হয় না, আশেপাশে অনেক লোক থাকে। বঙ্গবন্ধু একা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেন নাই, তার আশেপাশে অনেক লোক ছিল। ঠিক তেমনিভাবে ডা. মির্জা এ সোবহান একজন ছিলেন। আইয়ুব খানের সময় যখন কেউ কথা বলার সাহস পেত না তখন তিনি আন্দোলন করতেন। তার বিরুদ্ধে পোস্টারিং করতেন। তিনি অত্যন্ত সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তার একটি বড় গুণ ছিল তিনি কোন এলাকার মানুষ ছিলেন সেটা কেউ বুঝতেন না। অসম্ভব একজন ভাল মানুষ ছিলেন।

১৯ জুন বুধবার বিকেলে চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকার এ্যাম্পায়ার কমিউনিটি সেন্টারে ডা. মির্জা এ সোবহানের ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. মির্জা এ. সোবহান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডা. মির্জা এ সোবহান আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নারায়ণগঞ্জে একটাই ঠিকানা ছিল সেটা হলো ডা. মির্জা এ সোবহান। তার যুদ্ধে থেকে তার কাছে লোক পাঠাতাম। আর তিনি তাদের সেবা করতেন। আজকে তাকে স্মরণ করা আমাদের উচিত ছিল। সরকারের উচিত ছিল তাকে স্মরণ করা। ডা. মির্জা এ সোবহানের প্রয়োজনে স্মরণ করা না বরং আমাদের প্রয়োজনে তাকে স্মরণ করার দরকা। তার আমাদের সাহস যুগিয়েছেন, শক্তি যুগিয়েছেন। মির্জা সোবহান বেঁচে থাকলে আমরা বেঁচে থাকবো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান চিকিৎসা সেবা আমাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু একজন ভাল ডাক্তারের গুণ হচ্ছে, তিনি কম ওষুধ লিখবেন। ডা. মির্জা এ সোবহান সেই চিকিৎসক ছিলেন। তিনি মানুষের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীর কথা ভাবতেন। সৎ সাহস সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর। আমরা যে কল্যাণকর রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি সেই রাষ্ট্রের জন্য ডা. মির্জা এ সোবহানের মতো মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। আমি তার মাগফেরাত কামনা করছি।

ডা. মির্জা এ সোবহান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী সভাপতিত্ব ও মহসচিব মির্জা আশিক রানার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন, রাজশাহী ট্যাক্সেসবার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে করিম, বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাহারুল বুকুল, সুপ্রীম কোর্টবার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান খান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর নুরুল ইসলাম, টঙ্গীবাড়ী বিক্রমপুরের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা বাদশাহ শাহীন, হোসিয়ারী সমিতির সাবেক সভাপতি রাশেদ সারোয়ার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঈন মাসুদ সহ গণ্যামান্য ব্যক্তিরা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোঃ শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, আদর্শ প্রবাহিত হয়, এটাকে বাঁধা দিয়ে রাখা যায় না। উপার্জন ও অর্জন এক কথা নয়। কার কতটুকু অর্জন সেটা সময়েই বলে দেয়। ডা. মির্জা এ সোবহানের অর্জন কতটুকু ছিল সেটা আজ উপলদ্ধি করছি। তিনি আমার বড় ভাই ছিলেন। আমি তার নেতৃত্বে কাজ করেছি।

স্বাগত বক্তব্যে মির্জা আশিক রানা বলেন, আমার বাবা ডা. মির্জা এ সোবহানের জন্য দোয়া করবেন। সেই সাথে আমার জন্যও দোয়া করবেন যেন তার মতো আমিও যেন জনমানুষের হয়ে কাজ করতে পারি। তার নীতি আদর্শকে ধরে রাখতে পারি। অনেকেই আমার বাবার নামে হাসপাতাল নির্মাণ করার কথা বলেছেন। আমি আগামী ৫ বছরের মধ্যে মির্জা মেমোরিয়াল ক্লিনিক নির্মাণের চেষ্টা করবো। যেন সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সংগঠন সংবাদ এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর