rabbhaban

এটা মেয়র আইভীর মাস্তানি!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
এটা মেয়র আইভীর মাস্তানি!

‘‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়ি পশ্চিম দেওভোগ এলাকায়। আর তাই প্রতিদিনই আলী আহম্মদ চুনকা সড়ক দিয়ে বাসা থেকে কর্মস্থল আবার কর্মস্থল থেকে বাসায় যাতায়াত করেন তিনি। ফলে তিনিই সকাল সন্ধ্যা যখনই এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যান যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর সেই ভোগান্তির কারণেই সড়কের মধ্যে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের ভবন ভেঙে দিয়েছেন’’ অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আর উচ্ছেদ অভিযানটাও ছিল আইভীর ‘মাস্তানি’ এমনটাই দাবি করেছেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ জুন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি এক্সকাভেটরের সাহয্যে বিকেল ৫টায় রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের তিন তলা ভবনটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৩ সালে নারায়ণগঞ্জ মহাকুমার অধীনে থাকা অবস্থায় তৎকালীন প্রশাসক রহমত উল্লাহ মুসলিম সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য টিনের ঘর নির্মাণ করে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট গঠন করেন। স্বাধীনতার আগে ও পরে এখানে নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে এখানে টিনের ঘরের পরিবর্তে ৩ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। আর এ ইনস্টিটিউটের সভাপতি হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। বর্তমানে এ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে অসহায় মানুষের বিভিন্ন সহযোগিতা প্রধান করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাক্রমের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-ও পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে এ ভবনটি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভবন ছিল।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ভবনটি গুরুতপূর্ণ দুটি রাস্তার এক কোনে অবস্থিত। যেমন উত্তর দক্ষিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ আর পূর্বে পশ্চিমে বাস টার্মিনাল থেকে ২নং রেল গেট গোল চত্ত্বর। আর এ চত্ত্বরে এসে যানবাহনগুলো চাষাঢ়ার উদ্দেশ্যে চলে যায় কিংবা চাষাঢ়া থেকে এসে যানবাহনগুলো বাস টার্মিনালের দিকে চলে যায়। আর এ দুটি সড়কের মূলত ছোট বড় সকল ভাড়ী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু গোল চত্ত্বর থেকে আলী আহম্মদ চুনকা সড়ক দিয়ে কোন বাস, ট্রাক সহ তেমন কোন ভারী যানবাহন চলাচল করে না। যা চলে সবগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনের গাড়িগুলো। কিন্তু এ সড়কে সব থেকে বেশি যাতায়াত করে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। এসব যানবাহনগুলোকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অবৈধ যান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের কোন ঘোষণা দেয় হয়নি। এমনকি কোন নোটিশও দেয়া হয়নি। এ ভবন নিয়ে উচ্ছ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন সিটি করপোরেশন। আমরা আমাদের দোকানের আসবাবপত্র কিংবা মালামাল কিছুই সরিয়ে নিতে পারি নাই। এতে আমাদের প্রতিটি ব্যবসায়ীর কয়েক লাখ টাকা করে ক্ষতি হয়েছে।

ব্যবসায়ী বলেন, এটা এক রকম মাস্তানী করেছে। তাকে কি ভোট দিয়ে পাশ করিয়েছি মাস্তানি করার জন্য। তিনি বাড়িতে যাওয়া আসা করার জন্য একটা ঐতিহ্যবাহী ভবন ভেঙে দিয়েছে। তিনি যখন যাওয়া আশা করেন তখন এ অটোরিকশার স্ট্যান্ডের জন্য যানজট হয়। কিন্তু তিনি সেই অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরাতে পারেন নাই। বরং আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এখানকার বাসিন্দা। নাম লিখবেন না। যদি লিখেন পরে আমাদের অন্যান্য কাজেও বাধা সৃষ্টি করবে মেয়র ও তাঁর লোকজন।

তিনি বলেন, এ চুনকা সড়কটিতে এমন কি যানবাহন চলাচল করে যে প্রশস্ত করতে হবে। এ ঐতিহ্যবাহী ভবনটি এমন কি বাধা সৃষ্টি করছে যে যানবাহন যেতে পারে না। কিংবা ভবনের পাশে যে সড়কটি আছে সেটাও দুই লেনের। তাহলে কেন সড়কের নামে ভেঙে দেয়া হবে। এতেই কি বুঝা যায় না যে শুধু মাত্র মেয়র যাতে অবাধে বাসায় যাওয়া আসা করতে পারে এজন্য ভবনটি ভেঙে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের ভবনটি রাস্তার মধ্যে হওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ৫০ গজ দূরে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দেয়া হয়। আর সেইখানে ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটা না করে নতুন ভবনটিতে দোকান ভাড়া দিয়ে পুরাতন ভবনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আর তখন থেকেই যানজট নিরসনে ভবনটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

তবে উচ্ছেদের সময় দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন কর্মকর্তা ও উচ্ছেদ অভিযানে থাকা আলমগীর হিরণ বলেন, উর্ধ্বতনরা এ বিষয়ে বলবেন। আমরা কিছু বলতে পারবো না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশামুল হক বলেন, দেওভোগ এলাকার সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শহরের যানজট কমে আসবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সংগঠন সংবাদ এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর