rabbhaban

ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন : রাব্বি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন : রাব্বি

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যারা খুন খারাপি করছে যারা ত্বকী হত্যার সাথে জড়িত। এই ওসমান পরিবারের কথা আমি বলছি। তাঁরা শুধু ত্বকী হত্যাকান্ড করে নাই। তার পরে বহু হত্যাকান্ড সংঘঠিত করেছে। এবং তাদের সাথে যারা জড়িত আছে। তাঁরাও নারায়ণগঞ্জে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এবং এদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের নিশ্চিত করুন।’

৬ অক্টোবর রোববার ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্জলন কর্মসূচিতে একথা বলেন তিনি।

রাব্বি আরো বলেন, আদালতে ৬৪ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করে তার পরেও তার বিচার হচ্ছে না। আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না অভিযোগপত্র দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করে না কেন? কারণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। আমরা চাই যাতে প্রধানমন্ত্রী দুই চোখ দিয়ে যাতে দেশটাকে দেখে যেভাবে সাধারণ মানুষ দেখে। একচোখ দিয়ে যাতে না দেখে। এক চোখ দিয়ে একজিনিস দেখবে এক চোখ দিয়ে আরেক জিনিষ দেখবে এইটা না করে যাতে দুই চোখ দিয়ে দেশটাকে দেখে, দেশের মানুষদেরকে দেখে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৭বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে আসছি। বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন তিনি বিচার করবেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত করেন নাই। আমরা এখন দেখছি সরকার নিজেদের রক্ষায় রাজনীতি করে। আবার মাঝে মধ্যে জনগনের বিরুদ্ধে গেলে দুই চারটি দৃশ্যমান বিচারের আয়োজন করে। এবং জনগনকে এটা বুঝাতে চায় যে সরকার জনগনের পক্ষে এবং সুশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা সচেষ্ট।

রাব্বি বলেন, ‘ত্বকী হত্যায় ঘাতক যারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশের পরেই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবং এই বন্ধ সরকারের নির্দেশেই হয়েছে। যা কিছুই বলুক এটা বলার অবকাশ থাকে না যে কিছু কিছু দুর্বৃত্তদের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা জন্মগত ভাবেই দুর্বৃত্ত। আমরা তাঁদের আমলনামা দেখলেই আমরা জানতে পারি। আওয়ামী লীগে এরকম অসংখ্য দুর্বৃত্তদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে আছে।’

তিনি বলেন, আমরা একটি বিষয়ে বলতে চাই যে দুর্বৃত্তদের রক্ষার রাজনীতি করে এই দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া কখনই সম্ভব হবে না। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে নাটকের অভিযান চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। প্রতিনিয়ত যদি রাজনৈতিক কার্যকলাপ না চালানো যায়। তাহলে যারা জুয়ার সাথে জড়িত, মাদকের সাথে জড়িত, যারা বিদেশে টাকা পাচার করছে পশাশাপাশি এই দেশে যারা একের পর এক লাশ ফেলছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় এনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কারো কারো বিচারের আয়োজন করে। কিন্তু খুব সূক্ষ্মভাবে নিজের দলের যে অপরাধী রয়েছে সেই অপরাধীগুলোকে  খুব সহজে স্পর্শ করতে চায় না। আলোচনা হচ্ছে যে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগের সভাপতি এতদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে কিন্তু তাকে নাকি ধরা যায় না খুঁজে পায় না। এবং আজকে দেখলাম যে তাকে ধরা হয়ে সাথে সাথে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১১-১২ বছর ধরে তারা অপকর্ম করল তাদের চোখে পড়লো না কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ ধরা হয় এগুলা নাটক।

আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগড়ঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর