rabbhaban

দস্যুতার বিরুদ্ধে রাব্বি কথা বলায় আবরারের মত ত্বকীকেও হত্যা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
দস্যুতার বিরুদ্ধে রাব্বি কথা বলায় আবরারের মত ত্বকীকেও হত্যা

উপকূলে নজরদারি, ফেনী নদীর পানি বন্টন ও গ্যাস রপ্তানিসহ ভারতের সঙ্গে সকল চুক্তি বাতিল এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।

৯ অক্টোবর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড, নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, নারী সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক পপি রাণী সরকার, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ দেব, অর্থ সম্পাদক ফারহানা মুনা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশকে মেধা শূন্য করার জন্য এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা ধরে রাখবার জন্য যে অপচেষ্টা সেই অপচেষ্টার শিকার হচ্ছে আবরার ফাহাদ। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এর আগ পর্যন্ত আমরা দেখেছি ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মারামারিতে হত্যাকান্ড। কিন্তু ২০১০ এরপর বিডিআর হত্যাকান্ড, মেধাবী শিক্ষার্থী আবু বক্কর হত্যাকান্ড নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যাকান্ড দেখেছি। মেধাবী ছাত্র ত্বকীর পিতা ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। যে কারণে আবরার ফাহাদের মত তাকেও জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ত্বকীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ৭৯ তম মাসে আমার দাঁড়িয়েছিলাম গত ৬ অক্টোবর। এর ৭৯ মিনিটও পার হতে পারেনি। ত্বকীর মত আরেক মেধাবী ছাত্র আবরারকে জীবন দিতে হলো। বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এটা স্পষ্ট। বর্তমান সরকার যে অগণতান্ত্রিক চুক্তি করেছে তা বাতিল করতে হবে।

এসময় গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বায়ক তরিকুল সুজন বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা পড়ালেখা করে। দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা করে তাঁরা সেখানে পড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী খুন হওয়া মানে অপূরনীয় ক্ষতি। এর থেকেও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের হাতেই আবরারকে খুন হতে হয়েছে। এখানে শুধু একজন মেধাবী খুন হওয়ার বিষয় নয়। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে দেশের আরো যে ১৫জন মেধাবী গুন্ডা তৈরী হলো তাদের কি হবে। দেশ কিন্তু ক্রমশ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, স্বৈরতন্ত্রের একটি বড় লক্ষণ হচ্ছে তাঁরা প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না। তাঁরা মেধাবীদের সহ্য করতে পারে না। যে রাষ্ট্রের মধ্যে মেধাবীদের গড়ে উঠতে পারে না। প্রশ্ন করবার ক্ষমতা রাখে না সে রাষ্ট্র আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র না। আমরা নিশ্চয়ই ভুলে যাইনি মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বুদ্ধিজীবীদের ধরে ধরে হত্যা করেছে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বসবাস করছি যে রাষ্ট্র মেধাবীদের সহ্য করতে পারে না। এটা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারে না। এটি একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সংগঠন সংবাদ এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর