rabbhaban

পার পেয়ে যাচ্ছে জুয়ার রাঘব বোয়ালরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
পার পেয়ে যাচ্ছে জুয়ার রাঘব বোয়ালরা

জুয়া নামক ভয়াবহ নেশা মরণ ব্যাধির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। জুয়ার নেশা শুধুমাত্র জুয়ারীকে ধ্বংস করে দেয়না এর পাশাপাশি তার পরিবার স্বজনদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানকেও ধ্বংস করে দেয়। তবে এই ভয়াবহ নেশার বিরুদ্ধে আইনের পরিমাপে বেশ শিথিলতা থাকায় জুয়া সমাজের বিভিন্ন স্থরে ছড়িয়ে পড়ছে। একদল জুয়া ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসার স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলছে। বিভিন্ন কৌশলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই নেশার বীজ বপন করছে। আর সেই নেশায় পা দেয়া ব্যক্তিরা একবার প্রবেশ করলে সহজে সেই পথ থেকে ফেরত আসতে পারেনা। যার সর্বশেষ পরিণতি আর্থিক, সামাজিক ও নীতিগত ধ্বংস।

জানা গেছে, সমাজের প্রায় প্রত্যেক স্তরে জুয়ার নেশা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে এই নেশার বীজ বপন করছে একদল আসাধু জুয়া ব্যবসায়ীরা। যারা জুয়া ব্যবসা থেকে দৈনিক মোটা অংকের টাকা আয় করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন। অন্যদিকে জুয়ার নেশায় পা দেয়া ব্যক্তিরা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেন।

জুয়া ব্যবসা বর্তমানে দুভাগে বিভক্ত। ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিহীন। নামি দাবি ক্লাব ও সংগঠনের আড়ালে গড়ে ওঠা জুয়া ব্যবসা মূলত ঝুঁকিহীন। কারণ নামি দামি ক্লাব ও সংগঠনের কার্যালয়ে সহজে পুলিশ প্রশাসন হানা দেয়না। তাছাড়া মাস শেষে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশ প্রশাসনের একদল অসাধু কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করা হয়। এছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামি দাবি ক্লাব বা সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকায় একেবারে ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

এছাড়া ডিজিটাল জুয়া অর্থাৎ অনলাইনে যে জুয়ার ব্যবসা করা হয় সেখানে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। কারণ কে বা কারা অনলাইনে জুয়া ব্যবসা পেতে বসেছে তা দেখার যেন কারো জো নেই। তাছাড়া বিদেশে বসে দেশের ভাড়াটে লোকজন দিয়েও অনলাইনে জুয়ার ব্যবসা করা সম্ভব।

অন্যদিকে স্বল্প বাজেটে বিভিন্ন এলাকার বাসা বাড়ি, চিহ্নিত আস্তানা, বিভিন্ন মেলা বা উৎসব অনুষ্ঠানের পাবলিক প্লেসে, খেলার ময়দান সহ বিভিন্ন স্থানে যে জুয়ার ব্যবসা হয়ে থাকে সেটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এসব ব্যবসায়ীরাও পুলিশ প্রশাসনের একদল অসাধুদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে থাকে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন যখন জুয়ার অভিযানে নামে তখন এসব চুনোপুটিদের আটক করে। আর নামি দামি ক্লাব কিংবা সংগঠনের জুয়া ব্যবসায়ীরা থাকে অধরা। এমনকি সেসব স্থানে জুয়ার আসনের কথা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।

সূত্র বলছে, জুয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রত্যেক মাসে পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে মোটা অংকের টাকা ঢোকে। আবার সেই টাকার ভাগ অনেক উপর স্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। যেকারণে জুয়া বিরোধী অভিযানে পুলিশ প্রশাসন নামলেই চুনোপুটিদের আটক করে আর রাঘব বোয়ালদের ছেড়ে দেয়া হয়। আবার অনেক সময় রাঘব বোয়ালদের ক্লাবে হানা দেয়ার আগেই অভিযানের সংবাদ লিক করে দেয় অসাধু কর্মকর্তারা। এতে করে জুয়ার বড় ব্যবসায়ীরা অধরা থেকে যায়। আর দিনে দিনে তারা ব্যবসায়ের পরিধি আরো বাড়িয়ে দেয়।

তবে এবার একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকান্ডে। কারণ এবার নারায়ণগঞ্জের একটি নামি দাবি ক্লাবে পুলিশ প্রশাসন হানা দিয়ে অনেক জুয়ারীকে গ্রেফতার করে। তবে বিগত কয়েক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই ক্লাবটিতে কেন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মানতি পাওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়।

জানাগেছে, গত ৩ অক্টোবর রাতে ফতুল্লায় দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত) ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামীদের কাছ থেকে ৩ বান্ডেল কার্ড, নগদ ২০ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পঞ্চবটির ধনাঢ্যদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড ক্লাব। প্রতিরাতেই এখানে বসে জুয়ার আসর। বিশেষ করে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয় আসরটি। চলে শুক্রবার। চাউর আছে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া জুয়ার আসর পরদিন রাতও গড়ায়।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবেও বসে জুয়া ও মদের আসন যা সকলের কাছেই ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। রাত হতেই বসে জুয়ার আসর এর সাথে চলে মদের প্যাক। পাশাপাশি অন্যান্য মাদকও সেবন করা হয়। আর ক্লাবের কোন কোন কক্ষে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। রাতভর চলা এই আসর থেকে মাঝ রাতে অনেক সদস্যকে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। এ চিত্র প্রতিদিনের। পুলিশ প্রশাসন সহ সর্বস্তরের মানুষ এ বিষয়ে অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে এই ক্লাবটিতে অভিযান পরিচালনা হয়না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুয়া ব্যবসায়ের সাথে জড়িত রাঘব বোয়ালরা প্রভাবশালী মহল ও পুলিশ প্রশাসনের অসাধুদের ম্যানেজ করেই মূলত এই ব্যবসা করে যাচ্ছে। যেকারণে তাদের কোন বেগ পোহাতে হচ্ছেনা। রহস্যজনক কারণে বড় বড় ক্লাব ও সংগঠনগুলোতে অভিযান পরিচালনা না হওয়ার পেছনে মূলত এটাই প্রধান কারণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সংগঠন সংবাদ এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর