আজমীরি ওসমানের টর্চার সেলে ১২টার আগেই ত্বকীকে হত্যা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
আজমীরি ওসমানের টর্চার সেলে ১২টার আগেই ত্বকীকে হত্যা

প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীরি ওসমানকে রিমান্ডের নেওয়ার দাবি জানিয়ে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকীর ঘাতক যারা আমরা তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে আজমীর ওসমানের নাম এসেছে যে তাঁর টর্চার সেলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দাবি জানাই আজমীরি ওসমানকে রিমান্ডে নিয়ে তার মুখ থেকে বের করা হোক যে কার নির্দেশে সে ত্বকীকে হত্যা করেছে। এবং তাকে রিমান্ডে নিয়ে যে অভিযোগটা ৭ বছর ধরে আসছে যে শামীম ওসমানের নির্দেশে তাঁর ছেলে, ভাতিজা ত্বকীকে হত্যা করেছে। আমরা ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে প্রমাণ চাই।

৮ ডিসেম্বর রোববার সন্ধায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাব্বি আরো বলেন, ত্বকী হত্যার এক বছরের মধ্যেই তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব বলেছে যে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার তাকে হত্যা করেছে। এবং তাদের নেতৃত্বে ১১জন তাকে হত্যা করেছে। ১৬৪ ধারা জবানবন্দি আমাদের সামনে হাজির করা হয়েছে, জনগণের সামনে হাজির করা হয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে এরা এরা ত্বকীকে হত্যা করেছে। সাড়ে ৯টায় আজমীর ওসমানের টর্চার সেলে নিয়ে ১২টার মধ্যে হত্যা করেছে। তাঁদের গাড়ি নিয়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়েছে। সমস্ত কিছু প্রচার করেছে প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে আমি জানি। এই হত্যাকারীদের বাইরে পালিয়ে যেতে কারা সাহায্য করেছে তাও আমি জানি। কিন্তু তিনি বিচার করছেন না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ ফেরী করে বিক্রি করে। তাদের ধারণা মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার তাঁরা। অথচ রাজাকার, আলবদর, আলসামসের সাথে যারা যুক্ত। তাঁরা সবাই তাঁদের চার পাশে ঘুরঘুর করে। তাঁরা এই রাজাকারের উত্তরসূরীদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে বসায়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনে তাঁদের সহযোগীতা করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সহযোগীতা করে। তাঁরা আবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। আর অন্যদেরকে তাঁরা রাজাকার, আলবদর বলতে চায়। চাঁদাবাজি, রাহাজানি দস্যুতা চাপা দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এবং যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে এই ওসমান পরিবার রাজাকার আখ্যা দিতে চায়। আমি স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই। আমাদের চৌদ্দ পুরুষ এই নারায়ণগঞ্জে। কারা রাজাকার ছিল, আলবদর ছিল, কারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল পক্ষে ছিল সবই আমরা জানি। সুতরাং নতুন করে আবার ইতিহাস হাজির করা হবে আর জনগন তা খাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

এসময় সন্ত্রাস নিমূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ বলেন, কারা ত্বকীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। এই ঘটনা নতুন নয়। হত্যাকারীদের চরিত্র এবং তাদের কথা আমার বার বার বলে এসেছি। এই হত্যাকান্ডের চিত্র ফুটে ওঠার পরেও কেন বিচার হচ্ছে না তা আমরা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছি। বুঝতে পেরেছি এই কারণে যে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত একটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসি মহল তাঁর ভাতিজা সহ আরো কিছু লোক এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিজ জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামসমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর