সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার নির্মাণ দাবি


প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার নির্মাণ দাবি

ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফতুল্লা থানা শাখার উদ্যোগে ২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকাল ৪টায় পাগলা রেল স্টেশনে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফতুল্লা থানার সংগঠক রায়হান শরীফের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, ফতুল্লা থানার সংগঠক ফয়সাল আহমেদ রাতুল। গণসংগীত পরিবেশন করে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সবশেষে মোরশেদুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ’আমার বন্ধু রাশেদ’ প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অনেকে জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁদের স্মরণে শহিদ মিনারে আমরা ফুল দেই, নানা ধরনের অনুষ্ঠান করি। ভাষার সংগ্রাম বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পথ ধরেই আমাদের দেশে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ প্রাণ ও ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পরে ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু দেশের মুষ্টিমেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শহিদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। মাদ্রাসাগুলোতে শহিদ মিনার নেই, জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের সংবিধানের ১৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ’ রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ কিন্তু স্বাধীনতার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা শিক্ষাকে বহুধা বিভক্ত করেছে। শিক্ষার ব্যায় বাড়িয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে তৈরি করেছে বৈষম্যের পাহাড়। শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িক মোড়কে আবৃত করেছে। বর্তমান সরকারের কয়েক দফা শাসনের সময়ে আমরা দেখেছি ব্যাপক শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, যাতে সাধারণ মানুষ ক্রমাগত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার হেফাজতে ইসলামকে খুশি রাখতে পাঠ্যবই থেকে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের লেখা বাদ দেয়া হয়েছে। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষায় মাস্টার্স মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এভাবে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ করছে। নেতৃবৃন্দ শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার শিক্ষার্থী-অভিবাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর