নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার
নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট জন্ম নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের। দেশের ক্রান্তিকালেও পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরা। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের গেটের সামনে ১০০ শ্রমজীবি ও অসহায় পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়া হয় ২৫ মার্চ বুধবার।

এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ১৯৬৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবুল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ১৯৭৮ ব্যাচের অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা, ১৯৮১ ব্যাচের খান আবদুল কাদের মাহবুব, ১৯৮৫ ব্যাচের আরিফ মিহির, ১৯৮৮ ব্যাচের মোশারফ হোসেন খোকন, ১৯৯০ ব্যাচের আবু সাইদ মাসুদ ও রাম লক্ষন, ১৯৯২ ব্যাচের শফিক কলিম, ২০০৪ ব্যাচের কাজী এজার সেজান। এ আয়োজনের উদ্যোক্তা ১৯৭৭ ব্যাচের আবদুস সালাম; পরামর্শক ছিলেন ১৯৭৬ ব্যাচের টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম (দিলু খন্দকার), ১৯৭৭ ব্যাচের আল আশরাফ বিন্দু, অ্যাডভোটেক লুৎফর রহমান, ১৯৭৯ ব্যাচের খোরশেদ আলম, ১৯৮০ ব্যাচের উপসচিব নেপাল কর্মকার, ১৯৯২ ব্যাচের অ্যাডভোকেট মো. লিটন। আর্থিক সহযোগিতা করেছে নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার ইন্টারনেট সেবাদান প্রতিষ্ঠান। শওকত, ১৯৯০ ব্যাচের মো. রবিন, কামরুল।

বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী তালিকায় আছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাহাদাত হোসেন, ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম আহবায়ক আজগর হোসেন ভুইয়া, ভাষা আন্দোলনের সৈনিক শফি হোসেন খান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নুরুল আফসার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর নুরুল ইসলাম, সরকারের সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল সিদ্দিকী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক সিদ্দিকী, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার মার্শাল এস.এম. জিয়াউর রহমান, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান জহির আহমেদ, সাবেক সচিব ও পিএসসি সদস্য নুরুন্নবী, রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উদ-দোহা, সাবেক উপসচিব কাজী খলিলুর রহমান, সাবেক জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন মো. চৌধুরী, খুলনা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাবেক পরিচালক এম.এ রশিদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ফজলে রাব্বী, ইউনাইটেড ন্যাশন্স স্কুলস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউর রহমান, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সিনহা ও আবুল কালাম, গীতিকবি ও লেখক শাহেদ আলী মজনু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী, তমিজ উদ্দিন রিজভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মশহুর আহমেদ, গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, শিক্ষাবিদ কাশেম জামাল, গণমাধ্যম ব্যক্তিগত ও ছড়াকার ইউসুফ আলী এটম, ইংরেজী দৈনিক দ্য ডেইলি নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীর, টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলামরা (দিলু খন্দকার)।

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদের ২২তম সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মিলু (১৯৭৫), যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসান (১৯৮১) ও গাজী মো. ওয়ালি-উল হক, (১৯৮৪), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিদারুল আলম, পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক (১৯৮২), উপসচিব নেপাল কর্মকার (১৯৮১), উপসচিব মাহবুব চৌধুরী (১৯৮৫), গণপূর্ত অধিদফতরের তত্বাবধায়ক পরিচালক মো. খালিদ হুসাইন দীপু (১৯৮২), পেট্রো-বাংলার জেষ্ঠ্য প্রকৌশলী গাজী মো. মাহবুবুল হক (১৯৯০), নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজা (১৯৮৫) সহ অসংখ্য সুধীজন এই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন মহিম গাঙ্গুলি; কমল কান্তি হলেন ২৫তম। বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কমল কান্তি সাহাও স্কুলের সাবেক ছাত্র। টানা দুইবার বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি বাবু চন্দন শীল অত্র প্রতিষ্ঠানের ১৯৭৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

সাবেক ছাত্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাহাদাত হোসেনের লেখা থেকে জানা যায়, ‘১৯৩৪ সালে পশ্চিমে ছিল টিনের ঘর, পেছনে পুকুর; পুকুরের উত্তর পাশে পাটাতনওয়ালা টিন ও কাঠের ঘর ছিল; দক্ষিণে ছিল টিনের ঘর, উত্তরে ছিল একটা দোতলা বিল্ডিং। উত্তর-পশ্চিমে একটা কড়ই গাছ ছিল, ছায়া দিত।’ ১৯৩৮-১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করা সাবেক উপসচিব কাজী খলিলুর রহমানের লেখায় জানা যায়, ‘১৯৪২ সালে দক্ষিণপ্রান্তে দোতলা বিল্ডিং করা হয়েছিল, যেটির নামকরণ করা হয় হরকান্ত ব্যানার্জী বিল্ডিং, যা আজো বিদ্যমান। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার দানবীর ও প্রকৌশলী।’

‘নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস’ গ্রন্থের সহযোগী লেখক ও স্কুলের সাবেক ছাত্র মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের লেখায় জানা যায়, ‘১৮৮৫ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় টানবাজার এলাকায়; প্রাথমিক অবস্থায় স্কুলটি এম.ই স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় ছিল। চন্দ্রকান্ত নামে এক ভদ্রলোক স্কুল পরিচালনা করতেন। ১৮৮৬ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা স্কুলটি অধিগ্রহণ করে। ১৯০৫ সালে পৌরসভার দান করা জমিতে বর্তমান স্থানে স্কুলটি স্থানান্তর করে। একটি শক্তিশালী ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পৌরসভাই সরাসরি স্কুলটি পরিচালনা করে। ১৮৮৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি পায়; তখন এ অঞ্চলে একমাত্র ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল এটি। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহাদাত হোসেনের লেখা থেকে জানা যায়, ‘ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও অধিকাংশ পাঠ্যপুস্তক ছিল বাংলায়, পড়ালেখায় তীব্র প্রতিযোগিতা হতো, শ্রেণীকক্ষের পঠন-পাঠনই ছিল যথেষ্ট, গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন হতো না।’ ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পরেও স্কুলটি শিক্ষায় কৃতিত্ব অক্ষুন্ন রাখে। ২০১১ সালে স্কুলটি কলেজে রুপান্তরিত হয়। গীতিকবি ও লেখক শাহেদ আলী মজনুর লেখায় জানা যায়, ‘স্কুলটির নাম ছিল প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয়।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর