তরুণ সাংবাদিকদের ভয়, প্রত্যয় লড়াইয়ের (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ০১ জুন ২০২০, সোমবার
তরুণ সাংবাদিকদের ভয়, প্রত্যয় লড়াইয়ের (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জের উদীয়মান তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের আয়োজনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকতায় তারুণ্যের এগিয়ে চলা’ লাইভ টকশোতে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জের তরুণ সাংবাদিকদের নানা প্রতিকূলতার কথা। অসংখ্য চ্যালেঞ্জ আর অপশক্তির রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাঁদের বিশ্বাস গণমাধ্যম একটিন মুক্ত হবেই। অপশক্তির কালো থাবা থেকে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যম একদিন সত্যিই গণমানুষের হবে।

৩১ মে রোববার রাত ১০ টায় নিউজ নারায়ণগঞ্জ স্টুডিওতে আয়োজিত টকশোতে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টারের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সনদ সাহা সানি, প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা গোলাম রাব্বানী শিমুল, বাংলানিউ টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান পারভেজ, দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি সৌরভ হোসেন সিয়াম ও বার্তা টুয়েন্টিফোরের সাবিত আল হাসান। সঞ্চালনায় ছিলেন নিউজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেন।

সনদ সাহা সানি
গণমাধ্যমে যে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হয় সেটিতে যার মনক্ষুন্ন হয় সে এটিকে প্রতিপক্ষ মনে করে। সেই দিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের ভয় থাকেই। কারণ আমার উপর আঘাত আসতে পারে হুমকি আসতে পারে। এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে বøকড বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যমগুলো নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ গণমাধ্যম। এগুলো যদি বন্ধ রাখা হয় সেটা ভয়ের। এছাড়া একটি গণমাধ্যম যদি বন্ধ থাকে তাহলে মানুষ তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। কোনো তথ্য পাবে না। ফেসবুকে গুজব ছড়াবে। নারায়ণগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা যে কারণে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ নিয়ে ভীতি তৈরী হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমগুলো যদি সঠিত তথ্য না দিতো তাহলে আরো ভুল তথ্য চলে যেতো। সেই দিক বিবেচনা করেই গণমাধ্যমগুলো খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

গোলাম রাব্বানী শিমুল
‘সাংবাদিকতায় আমার শঙ্কার জায়গা আছে। কারণ নারায়ণগঞ্জের ৫টি অনলাইন গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে শুধু তা না। যখন দেখছি অনলাইনে কোন একটি নিউজ চলে যায় তখন সারা পৃথিবীর কাছে এটি ছড়িয়ে যায়। ফলে কোন অনলাইন গণমাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপ তা কিন্তু না। মানুষের জানার অধিকার, কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়। আমি যেখানেই কাজ করি আমি যখন সাংবাদিক যখন আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয় না তখন আমার মধ্যে শঙ্কা কাজ করে আমি ভীত হই।’

তিনি বলেন, ‘একটি কথা বার বার উঠে এসেছে যে মুক্ত গণমাধ্যম। আমি সাংবাদিকতায় আসার পর কখনই মনে হয়নি যে মুক্ত গণমাধ্যম শব্দ বলতে আমরা যা বুঝি তা আছে। নিজেকেই কিন্তু সংযত রেখে কথা বলছি। চাপের মধ্যে থেকে কাজ করা কোনো মানুষই পছন্দ করবে না। যদি মুক্ত ভাবে কাজ করতে পারি, মানুষকে তথ্য জানাতে পারি তাহলে সঠিক সাংবাদিকতা চর্চা করা যাবে বলে আমি মনে করি।’

শিমুল বলেন, ‘তার পরেও এই পেশায় থাকবো কারণে লড়াই করার জন্য থাকবো। আমরা একটি বাজে সমাজে বাস করছি। শ্বাসক গোষ্ঠী সব সময় কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছেন। এটি বাংলাদেশের মত একটি দেশের জন্য চিরন্তন সত্য। তার পরেও আমাদের অগ্রজরা লড়াই করেছেন কথা বলার জন্য। তাই এখানে থাকার একটাই কারণ সেটি হচ্ছে লড়াই করে যাওয়া।’

মাহফুজুর রহমান পারভেজ
‘মুক্ত গণমাধ্যমের উপর যে হস্তক্ষেপ চলছে সেটি কিন্তু আসলে মুক্ত গণমাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপ নয়। মানুষের জানার অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতিগুলোই মুখপাত্র হয়ে তুলে ধরছিল গণমাধ্যমগুলো। পাশাপাশি বর্তমানে এই চারটি পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পোর্টালগুলোর সাথে যুক্ত সংবাদকর্মীদের রিজিকের উপর আঘাত। তাঁদের আয়ের উৎসের উপর হস্তক্ষেপ। এই ধরনের হস্তক্ষেপ আমরা কখনই কাম্য করি না।’

পারভেজ বলেন, ‘আমরা যারা তরুণ সাংবাদিক আছি যারা ঝুঁকি নিয়েও কাজ করছি। ওইভাবে একতাবদ্ধ না হলেও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ যথেষ্ট ভালো। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া এমন পর্যায়ে রয়েছে যে আমরা অনায়াসেই একে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। নিয়মিত যোগাযোগ না হলেও আমাদের যখন যা প্রয়োজন তখন সে সহযোগিতা পাই। এই সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু যে পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোর সম্পাদকদের একাতা দেখিনি। সিনিয়র সাংবাদিকদের অনেকের নিন্দা জানাতেও দেখিনি। তাঁরা হয়তো আগামীতে এগিয়ে আসবেন সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি।’

সৌরভ হোসেন সিয়াম
‘সাংবাদিকতায় মূলত লেখালেখি সাথ সম্পৃক্ত থাকার ফলেই আসলে লেখালেখিটা কিভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়। সেখান থেকেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত। আমার যখন সাংবাদিকতার শুরু ২০১৭ সালের শেষের দিকে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসেই মাত্র ৫-৬ মাসের মাথায় হামলার শিকার হলাম। আমি জানতাম যে এখানে ঝুঁকি আছে। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হতে হবে আমি কিংবা আমার পরিবার ভাবেনি। আমি যেদিন হামলার শিকার হলাম তখন আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম যে আমি কি করব? যখন ঝুঁকিপূর্ণ কথা শুনতাম কিন্তু যখন অল্প সময়ের মধ্যে এরকম একটি ঘটনার শিকার হলাম তখন আমি বড় একটি ধাক্কা খেলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘হামলার শিকার হওয়ার পরে আমার মা খুব কান্নাকাটি করলেন যে তোমার এটা করার প্রয়োজন নাই তুমি এটা ছেড়ে দাও। কিন্তু আমি তাঁদের বুঝাতে চেষ্টা করলাম যে সব পেশাতেই ঝুঁকি আছে এটা ঠিক যে সাংবাদিকতায় বেশি ঝুঁকি। তারপরেও অনেক বাধা দিয়েছেন কিন্তু আমি পরিবারকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে আমি এখানেই থাকবো। এবং দেখতে চাই যে যারা সত্য প্রকাশে যাদের সমস্যা তাঁদের কতটা সমস্যা এবং কতটা সাহস নিয়ে সত্যতা প্রকাশ করতে পারি।’

সৌরভ বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিক যখন নির্যাতিত হন। তখন তাল মধ্যে একটি ভীতি তৈরী হয়। তখন আমার চারপাশে যারা থাকেন তাঁরা যে সাহস দিবেন সেখানে আমাদেরকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হই। এটা হই কারণ বিভক্তি থাকে, আলাদা থাকে। আমাদের একতা কম। যে কারণে পাশে দাঁড়াতে অনেক সময় নেই। একজন বলেন আরেকজন বলেন না। তখন আমার প্রতিপক্ষ আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তখন আমার দুর্বলতা আরো বড় হয়। আমরা আরো ছোট হয়ে যায়। তাই এই সময়ে আমাদের একতা খুব জরুরি। আমরা চাইবো আমাদের সবাইকে একত্রে থাকতে হবে এবং দুষ্টু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একত্রে লড়াই করতে হবে।’

সাবিত আল হাসান
‘সাংবাদিকতা পেশাটিই হচ্ছে চ্যালেঞ্জের। অনলাইন হওয়ায় কোনো একটি ঘটনা ঘটলে দ্রæত সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন দিয়ে তথ্য নেওয়া সেই বিষয়টি সম্পর্কে সব সময় আপডেট থাকা মোবাইল জার্নালিজমের মাধ্যমে মোবাইলে তথ্যগুলো সাজিয়ে ফেলা, ছবি সংগ্রহ করা বেশ কঠিনই বলা চলে। আমরা নতুন বলে আমাদের যোগাযোগ ওইভাবে তৈরি না সমস্যা হচ্ছে। অনলাইনগুলোতে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলে যে কার আগে কে দিবে। যে কারণে বেশি চ্যালেঞ্জের মনে হয়।’

সাবিত বলেন, ‘আগামীর নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকতার জন্য আমরা মেরুদন্ড সোজা রেখে সাংবাদিকতা করতে চাই। আমরা চাই আমাতের হাউজগুলো মুক্ত ভাবে সাংবাদিকতা চর্চা করুক। যারা সাংবাদিকতা করছেন তাঁদের বেতন ভাতা সঠিক ভাবে দেওয়া হোক। অপসাংবাদিকতা শেখাবে না সাংবাদিক হতে শেখাবে। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা আরো সমৃদ্ধ হতে চাই। তাঁরা যেন আমাদেরকে সাহস দেন যে তাঁরা যেটি করতে পারেননি আমরা যেন সেটা করতে পারি। নবীন প্রবীন সকল সাংবাদিককে আমরা একসাথে দেখতে চাই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর