বাংলাদেশের সোনালী আঁশ আর নেই : তরিকুল সুজন (ভিডিও)


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ০৮ জুলাই ২০২০, বুধবার
বাংলাদেশের সোনালী আঁশ আর নেই : তরিকুল সুজন (ভিডিও)

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সোনালী আঁশ বলে যে কথাটি ছিল কিংবা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের রচনা লিখতে হতো সোনালী আঁশ নিয়ে সেই সোনালী আঁশ আর নেই। আমরা দেখলাম কি করে সোনালী আঁশকে ক্রমশ ধ্বংস করে দেওয়া হলো।’

৮ জুলাই বুধবার বিকেলে নারায়ণঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে পাটকল শ্রমিক নেতা নূর ইসলাম ও অলিয়ার রহমাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাহার ও তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়োজিত সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তরিকুল আরো বলেন, ‘করোনাকালে রাষ্ট্রায়াত্ত যে ২৬টি পাটকল বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করুন। প্রত্যাহার করতে হবে কারণ এই দেশ জনগনের। যদি জনগন মরে তাহলে দেশের দরকার নেই। আমরা বুঝি জনগন হচ্ছে দেশের জন্য। সরকার যদি জনগনের দায়িত্ব নিতে না পারে। তাহলে ওই সরকার সরকার না। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বেঈমানি করছে। মনে রাখবেন ইতিহাস বিক্রি করে টিকে থাকতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরবর্তিতে ৭২-৭৩ সালের দিকে পাটশিল্পের গুদামগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো। কারণ বাংলাদেশ যেন সোনালী আঁশের তৈরী পন্য রপ্তানি না করে কাঁচা পাট বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ শিল্প খাতকে নিরুৎসাহিত করা হয়। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে আদমজী বন্ধ করা হয়। সেই একই সময়ে ভারতকে বিশ্ব ব্যাংক ৩৩শ’ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল পাট শিল্প আধুনিকায়নের জন্য। অথচ ২০০ কোটি টাকা খরচ করলে আদমজীকে আধুনিকায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। আদমজীতে ইপিজেড করা হলো কিন্তু একজন পাটকল শ্রমিকও চাকরি পেলো না। সেখানে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, বাজার ছিল সব ধ্বংস হয়ে গেলো।’

তরিকুল সুজন বলেন, ‘সরকারের সমালোচনা করে কার্যত আর সরকারকে কোনো যুক্তিতে জনগনের কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কথায় আছে চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। সরকারের চুরি লুটপাট বাংলাদেশের সকল মানুষ জানে। পাড়ামহল্লায় চায়ের দোকানে প্রতিদিনই কথা হয় যে সরকার তাঁর আমলা ও নেতৃবৃন্দরা কোন খাত থেকে কত টাকা চুরি করলো। চাল কোথায় পাওয়া গেছে সবাই জানেন। শত শত ডাক্তার করোনায় আক্রান হলেন কে মানুষ জানে। পিপিইর নামে যে বদমায়েশি করলেন যে লুটপাট করলেন যে চুরি করলেন। মানুষ করোনাকালে সেটা দেখলো।’

তিনি বলেন, ‘যে দুইজন পাটকশ শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট মামলা। আপনাদের জজ মিয়া নাটক সবারই জানা। ২০১৯ সালের ঘটনা এখন ব্যবহার করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকরা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, তাঁদেরকে মুক্তি দিতে হবে। এবং পাটকল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে।’

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড, নারী সংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্পাদক পপি রানী সরকার, ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ দেব প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর