নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


এস এম শহিদুল্লাহ (লেখক ও গবেষক) | প্রকাশিত: ১০:১৬ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২২ শ্রাবণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল মৃত্যু বার্ষিকী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল মঙ্গলবার, ৭ মে ১৮৬১ ইংরেজি, সোমবার ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ ভোর রাত ২টা ৩০মিঃ থেকে ৩টার মধ্যে কলকাতার জোড়াসাঁকোস্থ ৬, দ্বারকানাথ ঠাকুর লাইনের তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ৭ আগস্ট ১৯৪১ ইংরেজি, ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে দুপুর ১২টার কিছু পরে কলকাতার জোড়াসাঁকোতেই তিনি ৮০ বছর ৩ মাস বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সব শাখাতেই বিচরণ করেছেন। ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে ১৯১৩ সালে জয় করেছিলেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন। তবে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ওই উপাধি ত্যাগ করেন।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৬ সালে নারায়ণগঞ্জ আগমন করেন। ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে গোয়ালন্দগামী ট্রেনে চেপে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী ও তাঁদের পালিত কন্যা নন্দিনী, ভ্রাতুষ্পুত্র দিনেন্দ্রনাথ, হিজরিভাই, মরিস, চিনা অধ্যাপক লিম নো ছিয়াঙ, ইতালিয়ান অধ্যাপক ফার্মিসি ও তুচ্চি। ০৭ ফেব্রুয়ারি ট্রেন গোয়ালন্দ স্টেশনে থামলে সেখান থেকে কবি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বিশেষ স্টিমারযোগে বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ পৌঁছান। কবিকে বহনকারী স্টিমারটি নারায়ণগঞ্জ এসে পৌঁছার পূর্ব থেকে জনগণের উপস্থিতি দ্রুত জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে ওঠে। কবি যখন স্টিমারঘাটে এসে পৌঁছান তখন বিপুল মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দধ্বনি দিয়ে কবিকে অভিনন্দন জানান এই বিশাল জনসমাগমের মধ্যে থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এগিয়ে এসে কবিকে মাল্যভূষিত করেন। সুসজ্জিত মোটরগাড়িতে চড়ে কবি ঢাকার পথে রওনা হন।’

সম্ভবত সেবার ট্রেনে ময়মনসিংহ যান রবীন্দ্রনাথ। সেখানে তিনি শ্রী শশীকান্ত মহারাজের বাগানবাড়ি আলেকজান্ডার ক্যাসেলে ছিলেন এবং বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের (মুক্তাগাছার জমিদারের মায়ের নামে স্কুলটি) বিপরীতে সিটি কলিজিয়েট স্কুলে ময়মনসিংহবাসীদের জন্য বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

সফরের শেষদিকে ২৭ ফেব্রুয়ারি কবি চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ আসেন। এখানে ছাত্ররা তাঁকে মানপত্র প্রদান করে সংবর্ধিত করেন। নারায়ণগঞ্জের ছাত্রসমাজ কর্তৃক প্রদত্ত মানপত্রের প্রত্যুত্তরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬ তারিখে কবি যে অভিভাষণ দেন সম্ভবত এটি ছিল ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের রাজধানী ঢাকার অদূরে দেওয়া সর্বশেষ অভিভাষণ।

‘নারায়ণগঞ্জের প্রবেশদ্বার দিয়ে আমি পূর্ববঙ্গে প্রবেশ করেছিলুম। ফেরবার পথে আবার এখানে এসেছি। পূর্ববঙ্গের যেখানে গিয়েছি, আমার বলবার কথা বলেছি। কিন্তু কথার দ্বারা ফল হয় বলে আমি বিশ্বাস করিনে। কর্ম্মের মধ্য দিয়েই আমাদের দেশের বিচিত্র সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশের বিদ্যালয়ে চাকুরিই ছিল শিক্ষার উদ্দেশ্য। সোহাগ্যক্রমে চাকুরির পথ সঙ্কীর্ণ হয়েছে তাই শিক্ষিত যুবকগণ স্বাধীন উপায়ে জীবিকার্জ্জনে সচেষ্ট হয়েছে। শিক্ষাকে এখনও চাকুরির পন্থা বলে গণ্য করা হয়, তবে সে মোহ ক্রমে ক্রমে কমে এসেছে।` সূত্র: `নারায়ণগঞ্জের স্মৃতি বিস্মৃতি` গ্রন্থ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর